ধর্ম

বিপত্তারিণী ব্রত

আষাঢ় মাসের রথযাত্রা থেকে উল্টোরথের মধ্যে শনি বা মঙ্গলবারের মধ্যে বিপত্তারিণী ব্রত করা হয়। স্ত্রীলোকেরা মনে মনে যা চেয়ে এই ব্রত করে, তাদের সেই মনস্কামনা সফল হয়। এই ব্রত পালন করলে সংসারের সব বিপদ কেটে যায়। জেনে নেওয়া যাক এই ব্রতের পেছনে প্রচলিত কাহিনী।

প্রাচীনকালে বিদর্ভদেশে এক রাজা আর তার রানী ছিল। সেই রানী নিষ্ঠা সহকারে বিপত্তারিণী ব্রত পালন করত। তার এক মুচিনী বন্ধু ছিল। তাকে রানী মাঝে মধ্যেই ফল, খাবার বা অন্যান্য জিনিস উপহার দিত, কিন্তু তার থেকে কিছু নিত না। গরীব মুচিনী রানীকে কিছু দিতে গেলেই রানী তাকে বলত কিছু লাগলে নিজেই চেয়ে নেবে। এদিকে মুচিনীর খুব ইচ্ছা রানীকে সেও কিছু উপহার দেবে। কিন্তু রানী আর কিছু চায় না তার কাছে। হঠাৎ একদিন রানী মুচিনীকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, “সই, তোরা তো গরুর মাংস রান্না করিস, নিয়ে আয় না একদিন। দেখব কেমন দেখতে হয়?”
মুচিনী তো রানীর আবদারে খুব খুশি! অবশেষে তাহলে রানী তার থেকে কিছু তো চেয়েছে। সে বাড়ি গিয়ে খুব যত্নে গো-মাংস রান্না করে সেটা কাপড় চাপা দিয়ে রাজবাড়িতে এনে রানীকে উপহার দিল। রানী তো শুধুই  দেখবার জন্য মাংস আনতে বলেছিল, তাই কাপড় চাপা দিয়েই রেখে দিল।

এদিকে মুচিনীকে মাংস আনতে দেখে, রাজবাড়ীর এক চাকর রাজাকে গিয়ে সে কথা বলে দেয়। রাজা তো শোনামাত্রই রানীর ঘরে উপস্থিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল যে মুচিনী কি দিয়ে গেছে? সঙ্গে রাজা এও জানাল যে যদি আপত্তিকর কিছু থাকে, তাহলে রানীর মুণ্ডচ্ছেদ করা হবে। রানী ভয় পেয়ে মনে মনে মা বিপত্তারিণীকে ডাকতে থাকল। মা বিপত্তারিণী ভক্তের ডাকে রানীর কাছে এসে তার কানে কানে বললেন, “দ্যাখ! তোর মাংস সব ফুল হয়ে গেছে!”
রানীও রাজাকে ডেকে সেই ফুলগুলো দেখাল এবং বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল।  রাজা সেই চাকরকে ডেকে তিরস্কার করল।

মা বিপত্তারিণী আর কেউ নন, স্বয়ং মা দুর্গাই। মা দুর্গারই আর এক রূপ বিপত্তারিণী। বলা হয়, সুরাসুরগণ যখন সমুদ্র মন্থন করছিল, তখন যে বিষ উঠে আসে, ভগবান শিব মা দুর্গার নাম স্মরণ করেই সেই বিষ পান করেন। সেই বিপদ থেকে ভগবান শিবকে মা দুর্গাই রক্ষা করেন।

এ সম্বন্ধে  আরও একটি কথা বলা হয়। গোষ্ঠে যাবার সময়, মা যশোদা কৃষ্ণের হাতে দুর্গানাম স্মরণ করে রক্ষা-কবচ বেঁধে দিতেন, যাতে কোনও বিপদ না হয়। যদি কৃষ্ণ কোনও বিপদেও পড়তেন, তখন তিনি মা দুর্গাকে স্মরণ করতেন। এমনকি কালীয়কে দমন করবার সময়ও দুর্গানাম স্মরণ করেই করেছিলেন।

এইভাবে সকলকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন বলে মা দুর্গার অপর নাম মা বিপত্তারিণী।

তথ্যসূত্র


  1. বেনীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা, ১৪২৪
  2. পণ্ডিতপ্রবর গোপালচন্দ্র সম্পাদিত এবং রমা দেবী কর্তৃক সংশোধিত, পরিবর্ধিত বারোমাসের মেয়েদের ব্রতকথা, পৃষ্ঠা ৭৩

 
Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।