ভ্রমণ

বিহারীনাথ ভ্রমণ

বিহারীনাথ মন্দির

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার উচ্চতম পাহাড় হল বিহারীনাথ পাহাড়, যাকে বহু পর্যটক পশ্চিমবঙ্গের আরাকু ভ্যালিও বলে থাকে। এই পাহাড় এখনও অনেকটাই আদিম রূপে আছে এবং ঘন জঙ্গলে ঘেরা। সবুজে ঘেরা এই পাহাড়ে অনেকরকম বিরল প্রাণীর বাস। যেমন পাহাড় মধ্যস্থ বনে চলার পথে দেখা পাওয়া যেতে পারে শেয়াল, খরগোশ, বন্য শুকর, বনরুই, হায়না, গিরগিটির মত প্রাণীদের। পাহাড়ের উত্তরদিকে আছে বিখ্যাত বিহারীনাথ মন্দির। এই প্রাচীন শিবের মন্দিরে শিবরাত্রি উপলক্ষে মেলাও বসে আর ভক্তসমাগমও হয় প্রচুর।

মন্দির সংলগ্ন পুকুর

বিহারীনাথ ধাম নামেই এই মন্দির প্রসিদ্ধ। মন্দির সংলগ্ন পুকুরটিকে স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত পবিত্র বলেই মনে করেন। কাছেই আছে আদিবাসী গ্রাম পাহারবেড়া। পরিচ্ছন্ন গ্রামের বাড়ির মাটির দেওয়ালের আলপনা গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এক অন্যতম নিদর্শন। কাছাকছি আছে সাঁওতাল গ্রাম। মাটির বাড়ির দেওয়ালে এখানেও আছে হাতে আঁকা আলপনা, যা স্বশিক্ষিত শিল্পধারার এক আশ্চর্য নিদর্শন।  ফেব্রুয়ারি আর মার্চ মাসে এই অঞ্চল সেজে ওঠে লাল পলাশফুলে।

বিহারীনাথ পাহাড়ে যাবার রাস্তা

বিহারীনাথ পাহাড়ে যাওয়ার জন্য ট্রেন বা  গাড়ি দুটো ভাবেই যাওয়া যায়। গাড়ি করে গেলে পানাগড়, দুর্গাপুর এবং রানীগঞ্জ পেরিয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে গাড়ি চালান। এরপর দামোদর নদী সেতুটি পেরিয়ে মধুকুণ্ডের দিকে সোজা গাড়ি চালান। মধুকুণ্ড রেলপথ ক্রসিং পেরনোর পরে প্রায় ১৬ কিলোমিটার সোজা আসার পর বিহারীনাথ। আর ট্রেনে করে আসলে আসানসোল  থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দূরে  বিহারীনাথ।আসানসোল  থেকে মধুকুণ্ড রেল স্টেশন, তারপর গাড়ি করে বিহারীনাথ। আবার আসানসোল থেকে ট্রেনে করে রানীগঞ্জ এসেও ভাড়া করা গাড়ি করে বিহারীনাথ যাওয়া যায়।

বিহারীনাথ মন্দিরের শিবলিঙ্গ

সরকারি এবং বেসরকারি কিছু থাকার জায়গা আছে এখানে। আগে থেকে বুকিং করে যাবেন। পাহাড়ের পাশেই আছে কয়েকটি থাকার জায়গা। সেখান থেকে মন্দির ও কাছেই। সকাল সকাল ঘুরে আসুন মন্দিরে, চাইলে পুজোও দিতে পারেন। তারপর বেরিয়ে পড়ুন পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। এখানের পাহাড় বেশ আদিম  বেশে রয়েছে আগেই বলা হয়েছে। তাই পথ খুব সুগম নয়। হোটেলের সাথে কথা বলে লোকাল ছেলেদের গাইড হিসাবে নিতে পারেন। তবে পাহাড়ে অবশ্যই সকাল সকাল যাবেন, সন্ধ্যাবেলায় একেবারেই নয়।

কাছাকাছি বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আসতে পারেন। যেমন গড়পঞ্চকোটজয়চন্ডী পাহাড়, পাঞ্চেত বাঁধ, মাইথন বাঁধ, কল্যাণেশ্বরী মন্দির , শুশুনিয়া পাহাড়। হোটেল থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন, আর নিজে গাাড়ি নিয়ে গেলে তো কথাই নেই।

জায়গাটি সারা বছর ঘুরে দেখা যায়। তবে পাহাড়ের শোভা আর শান্তি পেতে চাইলে যে সময় ভিড় হয় যেমন শিবরাত্রির সময় এড়িয়ে যেতে পারেন। আবার আপনি পুজো দিতে চাইলে ওইসময় আসতে পারেন। ফেব্রূয়ারিতে পলাশ ফুলের শোভায়  বন লাল হয়ে ওঠে। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস এখানে মনোরম পরিবেশ থাকে।

ট্রিপ টিপস


  • কিভাবে যাবেনঃ বিহারীনাথ পাহাড়ে যাওয়ার জন্য ট্রেন বা  গাড়ি দুটো ভাবেই যাওয়া যায়। গাড়ি করে গেলে মধুকুণ্ড রেলপথ ক্রসিং পেরনোর পরে প্রায় ১৬ কিলোমিটার সোজা আসার পর বিহারীনাথ। আর ট্রেনে করে আসলে আসানসোল  থেকে মধুকুণ্ড রেল স্টেশন বা রানীগঞ্জ এসে ভাড়া করা গাড়ি করে বিহারীনাথ যাওয়া যায়।
  • কোথায় থাকবেনঃ এখানে কিছু কিছু  রিসোর্ট আছে, যেগুলো আগে থেকেই বুক করা যায়।
  • কি দেখবেনঃ বিহারীনাথ পাহাড়ে ঘুরে আসুন সকাল সকাল। বিহারীনাথমন্দিরে পুজো দিতে পারেন। আর গাড়ি নিয়ে কাছাকাছি বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আসতে পারেন। যেমন গড়পঞ্চকোটজয়চন্ডী পাহাড়, পাঞ্চেত বাঁধ, মাইথন বাঁধ, কল্যাণেশ্বরী মন্দির , শুশুনিয়া পাহাড়
  • কখন যাবেনঃ অক্টোবর থেকে মার্চ মাস
  • সতর্কতাঃ সূর্যাস্তের পর কিন্তু পাহাড়ে উঠবেন না।সকাল সকাল  ঘুরে আসুন।

 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!