ধর্ম

হজরত ইনায়েত খান

ইনায়েত রহমত খান পাঠান একজন সুফি সাধক যিনি ১৯১৪ সালে পাশ্চাত্যে প্রথম সুফিবাদের প্রবর্তন করেন। তিনি হজরত ইনায়েত খান(Hazrat Inayat Khan) নামেও পরিচিত।

১৮৮২ সালের ৫ জুলাই বরোদার এক অভিজাত পরিবারে ইনায়েত খানের জন্ম হয়। তাঁর বাবা মাশাইক রহমত খানের বংশধরেরা মূলত আফগানিস্তানের সুফি সাধক ও জমিদার ছিলেন। তাঁর মা খাতিজা বাই ছিলেন ওস্তাদ মওলাবক্স খান যাঁকে “ভারতের বিঠোভেন” বলা হত তাঁর মেয়ে। তাঁর দিদিমা কাশিম বিবি ছিলেন টিপু সুলতানের নাতনি।

ইনায়েত খান সুফি ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি সুফি সাধক শেখ মোহাম্মদ আবু হাশিম মাদানীর কাছে চিস্তি, নক্সবন্দীয়া, কাদেরীয়া এবং শোহরাওয়ার্দীয়া রীতিতে শিক্ষা দেন।

ইনায়েত সংগীত সাধনার উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ভ্রমণ করেছিলেন যার মধ্যে কলকাতা একটি। কলকাতা ভ্রমণ কালের তাঁর মনের মধ্যে নতুন বোধের উদয় হয়- যে তাঁকে জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে হবে। কলকাতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি তাঁর বাবার মৃত্যুর খবর পান যা তাঁকে ভীষণ ভাবে মর্মাহত করে। এই কলকাতাতেই গাড়ির মধ্যে তিনি তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ পাওয়া একটি মেডেল হারিয়ে ফেলেন যেটি অনেক খুঁজেও তিনি আর পাননি। এই মেডেল হারিয়ে যাওয়া ও বাবাকে হারানো এই দুটি ঘটনা তাঁকে প্রথমে ভীষণ বিচলিত ও মর্মাহত করলেও পরে তাঁর মনে বোধের সৃষ্টি হয় যে- মহান আল্লাহ বোধহয় সমস্ত পার্থিব টান থেকে তাঁকে মুক্ত করতে চাইছেন। ফলে তিনি ক্রমশ ঈশ্বর সাধনায় মনোনিবেশ করতে থাকেন।

আবু হাশিম মাদানি মৃত্যুর আগে ইনায়েত কে নির্দেশ দিয়ে গেছিলেন, তিনি যেন সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরী করেন। ইনায়েত তাই ১৯১০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর লন্ডন পৌঁছন। প্রথম দিকে সংগীত প্রচার করলেও পরবর্তীকালে তিনি সুফি ধর্ম প্রচারক হয়ে ওঠেন।

১৯২২ সাল নাগাদ নেদারল্যান্ডে থাকাকালীন সময়ে তিনি আধ্যাত্মিক বোধি লাভ করেন এবং তাঁর অনুগামীদের এই জায়গাতেই সুফি সাধনা গৃহ বানাতে বলেন। তিনি এই জায়গাটিকে পবিত্রভূমি বলে উল্লেখ করেন। এরপর ১৯৬৯ সালে তাঁর মৃত্যুর বহু বছর বাদে এই জায়গায় সুফি সাধনা গৃহ তৈরি হয়।

ইনায়েত খান দশটি নীতির কথা বলেছিলেন যেগুলির ওপর ভর করে তাঁর বিশ্বসুফিবাদ গড়ে উঠেছে।

১. আল্লাহ একজনই, তিনি অবিনশ্বর, শাশ্বত।
২. কেবল একজনই দিশারী বা পথ প্রদর্শক আছেন যিনি সকল আত্মার পথ প্রদর্শক, যিনি সকল আত্মাকে আলোর অভিমুখে এগিয়ে নিয়ে যান।
৩. কেবল একটিই পবিত্র গ্রন্থ আছে যা প্রকৃতির দ্বারা রচিত। এটিই একমাত্র গ্রন্থ যা পাঠককে প্রকৃত জ্ঞানী করে তোলে।
৪. কেবল একটিই ধর্ম আছে যা আত্মাকে সঠিক পথ দেখায়।
৫. কেবল একটিই আইন আছে যা পারস্পরিক বিনিময়ের ওপর গঠিত।
৬. কেবল একটিই সৌভাতৃত্ববোধ আছে যেটি হল মানুষে মানুষে সৌভাতৃত্ববোধ।
৭. কেবল একটিই পরিবার রয়েছে আর সেটি হল মানব পরিবার।
৮. কেবল একটিই নীতি রয়েছে- যেটি হল ভালবাসার নীতি।
৯. প্রার্থনীয় হিসেবে কেবল একটিই লক্ষ্য রয়েছে- মানুষের হিত সাধন।
১০. কেবল একটিই পথ রয়েছে- অহংকার ত্যাগ করা।

১৯২৬ সালের শেষের দিকে তাঁর সচিবের সাথে ইনায়েত ভারতে ফিরে আসেন। ভারতে ততক্ষনে তাঁর নাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য আমন্ত্রণ আসতে থাকে। ১৯২৭ সালের শুরুতেই আজমীর যান খাজা মঈনুদ্দিন চিস্তির দরগা ভ্রমণে। এই দরগার নিস্তব্ধতা এবং পবিত্রতা তাঁর মনের মধ্যে এক গভীর প্রশান্তি এবং আনন্দ নিয়ে আসে। ভারতে এসেই তিনি দিল্লির নিজামুদ্দিন দরগা চত্বরের মধ্যে নিজের সমাধিস্থল নিজেই বেছে নিয়েছিলেন। আজমীর থেকে দিল্লি ফেরার পথে তাঁর প্রবল ঠান্ডা লাগে।
অবশেষে ১৯২৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির তিলক লজেইনায়েত খানের মৃত্যু হয়।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।