বিজ্ঞান

সেলফোনের মাধ্যমে বার্তা আদান প্রদান হয় কিভাবে

বর্তমান সময়ে মোবাইল এমন একটা যোগাযোগ মাধ্যম যার ব্যবহার আট থেকে আশি সকলেরই জানা। আজকাল কোনো আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা অন্য কাউকে চিঠি লিখে তার উত্তরের প্রতীক্ষায় ডাক-পিয়নের পথ চেয়ে বসে থাকতে হয় না। ভ্রাম্যমান এই  যন্ত্রটি  মুহূর্তে দেশে বা বিদেশে থাকা মানুষের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করাতে পারে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এই ছোট যন্ত্রটি আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এমনকি আজকাল আমাদের অনুভূতি বা ইমোশনগুলো মোবাইলের দৌলতে ইমোজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু এই সেলফোনের মাধ্যমে বার্তা আদান প্রদান হয় কিভাবে তা কি সকলের জানা আছে? জানা না থাকলে এখানে জেনে নিন।

মোবাইল আসলে দ্বিমুখী রেডিও হিসাবে কাজ করে। যেখানে একটা অংশ রেডিও প্রেরক (transmitter) এবং অন্যটা রেডিও গ্রাহক (receiver)। আমরা যখন ফোনে কথা বলি আমাদের কথাগুলো (শব্দ শক্তি) তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয় এই সেলফোনের দ্বারা। এই তড়িৎশক্তি আবার প্রেরক মারফত রেডিও তরঙ্গের আকারে নিকটবর্তী টাওয়ারে পৌঁছে যায়। সেই টাওয়ার এই বার্তা তার বেস স্টেশনে (base station) পৌঁছে দেয়। বেস স্টেশনে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে নির্ধারিত হয় যে ফোন কলটি কোথায় যাবে (যা আগেকার যুগের টেলিফোনের ক্ষেত্রে অপারেটররা করতেন)। বার্তাটির গন্তব্য একই নেটওয়ার্কে হলে সেই বার্তাটি গন্তব্য ফোনের কাছের টাওয়ারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর পর ওই  টাওয়ার বার্তাটি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে অন্যজনের মোবাইলে পৌঁছে দেয়। যদি গন্তব্য ফোনটি অন্য নেটওয়ার্কের হয় তাহলে বেস স্টেশন মূল ফোন নেটওয়ার্কে কলটি পাঠিয়ে দেয় এবং তারপর একই পদ্ধতিতে কলটি নির্দিষ্ট ফোনে যায়।

মোবাইল যোগাযোগের জন্য রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে। এই রেডিও তরঙ্গ ডিজিটায়িত (Digitized) শব্দ বা তথ্য নিয়ে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র (EMF)এর মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। অর্থাৎ রেডিও তরঙ্গ ‘বার্তা বা ইনফরমেশন’ গুলো নিয়ে আলোর বেগে বায়ুর মধ্যে দিয়ে সমস্ত দিকে সঞ্চালিত (transmit) করে। যেহেতু এই তরঙ্গের গতি আলোর গতির সমান তাই আমরা যখন অপর প্রান্তের সঙ্গে কথা বলি কোনরকম ব্যবধান থাকে না এবং মুখোমুখি কথা বলার মতোই মনে হয়। তবে এই ভাবে এক ফোন থেকে আরেক ফোন পর্যন্ত যেতে গিয়ে এই রেডিও তরঙ্গ মাঝপথে শোষিত বা প্রতিফলিত হতেও পারে। সেরকম হলে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়। একবার ভেবে দেখুন ঘরের মধ্যে ঠিক এই কারণেই শুনতে অসুবিধা হলে আমরা মোবাইল নিয়ে বাইরে চলে আসি এবং তুলনামূলক ভালো ভাবে শুনতে পাই।

প্রত্যেক মোবাইলে এক বা একাধিক অ্যান্টেনা থাকে। আগেরকার দিনে এগুলো বাইরে থেকে দেখা যেতো। এখন মোবাইলের খোলসের মধ্যেই এগুলো থাকে। অ্যান্টেনাগুলো সাধারণত তামা বা অন্যান্য ধাতু দিয়ে তৈরি বিশেষ আকার ও আকৃতি সম্পন্ন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ যা নির্দিষ্ট মানের রেডিও বা অন্যান্য তরঙ্গ আদান প্রদান করে। ট্রান্সমিশন অ্যান্টেনা বার্তা বা ‘প্যাকেটডেটা’ টাওয়ার থেকে আদান প্রদান করে। ওয়াই ফাই, ব্লুটুথ বা জিপিএস ইত্যাদি অ্যান্টেনা তাদের নিজস্ব কাজ করে।

মোবাইলে ইনবাউন্ড সিগন্যাল (reception) ও আউটবাউন্ড সিগন্যাল(transmission) এই অ্যান্টেনারই মাধম্যে তারহীন যোগাযোগ ঘটায়। টাওয়ার থেকে আগত সিগন্যালের বিস্তার (magnitude) প্রত্যেক মোবাইলের স্ক্রিনে টাওয়ার (bars) হিসাবে দেখায়। ফোন ও টাওয়ারের মধ্যের এই কার্যকরী যোগাযোগ অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। কম টাওয়ার পাওয়ার অর্থ একদিকে যেমন টাওয়ার থেকে মোবাইলের বেশি দূরত্ব হতে পারে, তেমনই মাঝে থাকা অন্য কোনো বাধা অথবা কোন প্রযুক্তিতে যোগাযোগ হচ্ছে তার উপরও নির্ভরশীল। জিএসএম (GSM), সি ডি এম এ (CDMA) বা ফোরজি(4G) ইত্যাদি নানান প্রকারের ওয়ারলেস টেকনোলজি আজ কাল ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে টাওয়ার ভালো না পেলে মোবাইল শক্তিশালী সিগন্যাল ব্যবহার করে যোগাযোগ অটুট রাখতে তাই ব্যাটারীর খরচও বেশি হয়।

বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে দূরযোগাযোগ ব্যবস্থা যেমনই সহজ হয়েছে, তেমনই কঠিন হয়েছে সেই ব্যবস্থা প্রদানকারী প্রযুক্তি। এখানে যথা সম্ভব সহজ ভাষায় সেলফোনের মাধ্যমে বার্তা আদান প্রদান হয় কিভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।