বিজ্ঞান

টুথপেস্ট কাজ করে কীভাবে

আমরা রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে টুথপেস্ট দিয়ে তো দাঁত মাজি। দন্তচিকিৎসকদের মতে দিনে অন্তত দু’বার দাঁত মাজা উচিৎ। কিন্তু আমরা কজন জানি যে টুথপেস্ট কাজ করে কীভাবে? অনেকেই হয়ত ভাবছেন যে টুথপেস্ট এমন সব দ্রব্য দিয়ে তৈরি যা দাঁতের ময়লাগুলোকে পরিস্কার করে দাঁতকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু টুথপেস্ট কী দিয়ে তৈরি আর কীভাবেই বা দাঁতকে সুরক্ষিত রাখে তা নিয়েই এখানে আলোচনা হবে। 

আমরা কিছু খেলে বিশেষ করে মিষ্টি কোনও খাবার খেলে তার একটা প্রলেপ বা প্লাক (plaque) দাঁতের ওপরের স্তর অর্থাৎ এনামেলে পড়ে যায় যার থেকে অনেক জীবাণুর জন্ম হয়। এইসব জীবাণু অ্যাসিড ছড়ায় যা এনামেলকে ক্ষতি করে এমনকি ক্যাভিটি বা গর্তেরও সৃষ্টি করে। এই ক্যাভিটি দুর্গন্ধও তৈরি করে। এইসব সমস্যা এড়ানোর জন্যে আমরা টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজি।

টুথপেস্ট কাজ করে কীভাবে তা বুঝতে গেলে দেখতে হবে টুথপেস্ট কী দিয়ে তৈরি আর তারাই বা কীভাবে কাজ করে। সব রকমের টুথপেস্টই কিছু প্রাথমিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয় যাদের কিছু না কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে। সেইসব উপাদানগুলি হলঃ-

  • অপঘর্ষক (Abrasives):- এরা আস্তে করে দাঁতের ওপর থাকা দাগ এবং প্লাক গুলিকে ঘষে তুলে দেয়। অর্থাৎ এরা দাঁতকে পালিশ করতে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। অপঘর্ষক হিসেবে টুথপেস্টে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, সিলিকা এবং অ্যালুমিনা। 
  • ডিটারজেন্ট (Detergents):- এরা টুথপেস্টে ফেনা (foam) তৈরি করতে সাহায্য করে। এরা দাঁতের মধ্যে ঢুকে থাকা খাবারের টুকরো এবং দাঁতে লেগে থাকা প্রলেপগুলোকে তুলে স্থানচ্যুত করে থাকে। এই ডিটারজেন্ট দাঁতের মাড়ির ওপরেও বেশ কার্যকারী। টুথপেস্টে সাধারণত সোডিয়াম লরিল সালফেট ডিটারজেন্ট হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।
  • সংরক্ষক (Preservatives):- টুথপেস্টে থাকা সংরক্ষক বস্তুগুলি  জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য অণুজীবের বৃদ্ধি রুখতে সাহায্য করে। 
  • হিউমেকট্যান্ট এবং থিকেনার (Humectants and Thickeners ):- টুথপেস্টে অনেক সময় হিউমেকট্যান্ট হিসেবে গ্লিসারিন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। হিউমেকট্যান্ট টুথপেস্টকে গঠন দেয় এবং টুথপেস্ট যাতে শুকিয়ে না যায় অর্থাৎ এর আর্দ্রতা ধরে রাখে। অন্যদিকে ঘন করার বস্তু বা থিকেনার হিসেবে ব্যবহৃত সেলুলোজ গাম টুথপেস্টকে আকার দিতে যেমন সাহায্য করে তেমনই যখন টিউবটিকে চাপ দিয়ে টুথপেস্ট বার করা হয় তখন যেন টুথপেস্ট টুথব্রাশের ওপর থাকে তার ব্যবস্থা করে রাখে। অর্থাৎ এগুলো টুথপেস্টকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • স্বাদকারক এবং রঞ্জক (Flavoring and Coloring Agents):- এই বস্তুগুলির নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এরা টুথপেস্টকে সুন্দর স্বাদ এবং আকর্ষণীয় রং দেয়। বিভিন্ন ব্র্যাণ্ড তাদের টুথপেস্টে বিভিন্ন স্বাদকারক এবং রঞ্জক মেশায়।  
  • ফ্লোরাইড (Fluoride):- অনেক টুথপেস্ট অল্প পরিমাণে (যা ক্ষতিকারক নয়) ফ্লোরাইড ব্যবহার করে থাকে। এই ফ্লোরাইড দাঁতকে শক্ত রাখে এবং ক্যাভিটি হওয়া থেকে আটকায়। অকালে দাঁতের ক্ষয় থেকেও রক্ষা করে। যখন জীবাণুর দ্বারা নিঃসৃত অ্যাসিড দ্বারা দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে পড়ে তখন ফ্লোরাইড একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ঘটতে সাহায্য করে যা খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালসিয়াম এবং ফসফেটকে প্রতিস্থাপন করে এনামেলকে শক্ত করে। শুধু তাই নয়, ফ্লোরাইড পরবর্তী অ্যাসিড আক্রমণের থেকেও দাঁতকে রক্ষা করে।  

এইসব প্রাথমিক উপাদান ছাড়াও আরও নানান উপাদান টুথপেস্টে তার ধরণ অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আর এইসব উপাদান দিয়েই টুথপেস্ট আমাদের দাঁতকে রক্ষা করার কাজ চালায়। 

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর - জন্ম সার্ধ শতবর্ষ



তাঁর সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন