ধর্ম

সতীপীঠ মানস

সতীপীঠ মানস তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে অবস্থিত। এটি একান্ন সতীপীঠের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পীঠ। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে সতীর ডান হাত পড়েছিল। মানস সতীপীঠে অধিষ্ঠিত দেবী হলেন দাক্ষায়ণী এবং ভৈরব হলেন হর। মতান্তরে মানস সতীপীঠের ভৈরবের নাম অমর। মানস সতীপীঠের মাহাত্ম্যের সবচেয়ে বড়ো কারণ পার্শ্ববর্তী মানস সরোবর। হিমালয়ের কোলে সমুদ্রতল থেকে প্রায় ষোলো হাজার ফুট উচ্চতায় বিরাটাকায় সমুদ্রসমান এই হ্রদ বেশ গভীর। তাছাড়া এই হ্রদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৈলাস পর্বের মাহাত্ম্যও। হিন্দুরা মনে করেন এই কৈলাস পর্বত মহাদেব শিবের বাসস্থান। তিব্বতে অবস্থিত এই কৈলাস এবং মানস সরোবরকে কেন্দ্র করেই সতীপীঠটি গড়ে উঠেছে। তাই একদিকে সতীর মাহাত্ম্য থাকলেও, অন্যদিকে এখানে শৈব মাহাত্ম্যও বিদ্যমান।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে মাতা সতী বাবার কাছে স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজের বাপের বাড়িতেই দেহত্যাগ করেছিলেন। মাতা সতীর দেহত্যাগের খবর মহাদেবের কাছে পৌঁছাতেই মহাদেব সেখানে উপস্থিত হন। সতীর মৃতদেহ দেখে ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব এই দেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য শুরু করেন। মহাদেবের তান্ডব নৃত্যে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কায় শ্রীবিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দ্বারা মাতা সতীর দেহ একান্নটি খণ্ডে খণ্ডিত করেন। সেই দেহখণ্ডগুলিই যে যে স্থানে পড়েছিল সেখানে একটি করে সতীপীঠ প্রতিষ্ঠা হয়। সেই রকম একটি পীঠ মানস সতীপীঠ। বলা হয় সতীর ডান হাত মাটিতে পড়েই জন্ম হয়েছে এই মানস সতীপীঠের।

মানস সতীপীঠের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মানস সরোবরের সৃষ্টিতত্ত্ব। মানস সরোবর কীভাবে সৃষ্টি হল তার উত্তরে জানা যায় স্কন্দপুরাণ কথিত ব্রহ্মার মন থেকে সৃষ্ট এক বিশাল হ্রদের কথা। ব্রহ্মা ভেবেছিলেন এমন একটি সরোবর যাতে স্নান করলে রজ, তমো গুণ থেকে সাত্ত্বিক গুণে অধিষ্ঠিত হওয়া যায়। তাই হিমালয়ের উপরে তিরিশ যোজন পরিধি বিশিষ্ট বিশাল এক হ্রদ তৈরি করলেন। ব্রহ্মার মানস জাত বলে এই হ্রদের নাম হল মানস সরোবর। হিমালয়ের বুকে প্রায় বাইশ হাজার ফুট উঁচু কৈলাশ শৃঙ্গের কাছে এই মানস সরোবরের পবিত্র কুণ্ডই সতীপীঠ হিসেবে মান্য করা হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস এই কৈলাস পর্বত শিবের বাসস্থল। আবার জৈনদের মতে আদিনাথ ঋষভদেব এই পর্বতেই সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। আকৃতিতে মানস সরোবর চারশো কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। এর পশ্চিমদিকে রয়েছে রাক্ষসতাল তথা রাবণ হ্রদ আর উত্তরে আছে কৈলাস পর্বত। বিখ্যাত সংস্কৃত কবি কালিদাসের লেখা ‘কুমারসম্ভব’ এবং ‘মেঘদূত’-এ এই কৈলাস ও মানস সরোবরের উল্লেখ পাওয়া যায়। ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে মানস সতীপীঠের ভৈরব হরের উল্লেখ মানুষের বিশ্বাস এখানে ভোর রাতে মানস সরোবরের জলে স্নান করেন স্বয়ং দেবাদিদেব এবং পার্বতী। এই মানস সরোবরের সতীপীঠের মাহাত্ম্য এমনই অনেকে রাত্রে কৈলাস পর্বতের উপরে দুটি আলোকছটা দেখতে পান। সেই আলোকছটা পরস্পরের অনুগামী। মানুষের বিশ্বাস এই আলোকছটাই আসলে শিব এবং পার্বতীর প্রতিরূপ। কৈলাস পর্বতের অপার সৌন্দর্য আর মানস সরোবরের প্রশান্তি এই সতীপীঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।


প্রাকৃতিক খাঁটি মধু ঘরে বসেই পেতে চান?

ফুড হাউস মধু

তাহলে যোগাযোগ করুন – +91-99030 06475


 


অনেকের ধারণা রাজা মান্ধাতা প্রথম এই হ্রদ আবিষ্কার করেন। তাঁর নামানুসারে এই সরোবরের দক্ষিণ দিকে দেখা যায় মান্ধাতা শৈলশ্রেণিকে।

প্রকৃতিই এখানে সতী দেবীর মূর্তি সমান। আলাদা করে এখানে কোনো মন্দির নির্মিত হয়নি। দেবী মহামায়া এখানে পরমা প্রকৃতির রূপে ধরা দেন ভক্তদের কাছে। তাই এখানে যেমন কোনো মন্দির নেই, তেমনি দেবীমূর্তিও এখানে নিরাকার। এই শক্তি আদিশক্তির এক বিশেষ রূপ।

প্রত্যেকটি সতীপীঠ বা শক্তিপীঠে দেবী এবং ভৈরব অধিষ্ঠিত থাকেন। দেবী হলেন সতীর রূপ। ভৈরব হলেন দেবীর স্বামী। মানস সতীপীঠে দেবী দাক্ষায়ণী নামে পরিচিতা এবং ভৈরব হলেন হর। তবে অনেকে আবার এই ভৈরবকে অমর এবং দেবীকে কুমুদা বলেও অভিহিত করেন।

বছরের প্রায় সবসময়ই এই শক্তিপীঠে ভক্তদের আগমন ঘটে। মানস সরোবর এবং কৈলাস পর্বত দেখতে বহু পুণ্যার্থী এখানে ছুটে আসেন। হিন্দু ধর্মে এই সরোবরের মাহাত্ম্য অনেক। মানস সরোবরের ধারে এসে অনেক পুণ্যার্থী পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণও করেন।

  • সববাংলায় সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আজই যোগাযোগ করুন
    contact@sobbanglay.com

  • এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

    আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

নাটাই চণ্ডী ব্রত নিয়ে বিস্তারিত জানতে



ছবিতে ক্লিক করে দেখুন ইউটিউব ভিডিও

আধুনিক ভ্রূণ বিদ্যার জনক পঞ্চানন মাহেশ্বরীকে নিয়ে জানুন



ছবিতে ক্লিক করে দেখুন ভিডিও