ধর্ম

পুণ্যি পুকুর ব্রত

পুণ্যি পুকুর ব্রত চৈত্র সংক্রান্তিতে শুরু করে সারা বৈশাখ মাসজুড়ে পালিত হয়।এই ব্রত করলে কুমারী মেয়েরা তার মনের মতো স্বামী পেয়ে থাকে,আর সধবারা সাবিত্রির সমান পতিব্রতা হয়ে থাকে। জেনে নেওয়া যাক এই ব্রতের পেছনে প্রচলিত কাহিনী।

একটি গ্রামে এক ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মনী বাস করতো। তাদের একটি মেয়ে ছিল। তার নাম কলাবতী। সে ছোট থেকেই যেখানে তুলসী গাছ দেখতে পেত তার চারদিক পরিষ্কার করে তুলসীগাছে জল দিত। এই ভাবে তাদের দিন কেটে যাচ্ছিল। মেয়েটা যখন বারো বছরে পা দিল, একদিন রাতে সে স্বপ্ন দেখল তার মাথার কাছে এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ দাঁড়িয়ে তাকে বলছে,  "তুলসী গাছের উপর তোমার এই ভক্তি ভালোবাসা দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। কাল চৈত্র মাসের সংক্রান্তি , কাল থেকে গোটা বৈশাখ মাসের সংক্রান্তি অবধি প্রতিদিন এক ঘটি জল নিয়ে তুলসীগাছের মাথায় ঢালবে, দেখবে তোমার সব ইচ্ছা পুরণ হবে।"

সে তার বাবা মাকে এই স্বপ্নের কথা জানাল। পরদিন চৈত্র সংক্রান্তি, উঠোনে একটা পুকুর কেটে তাতে তুলসীগাছ পুঁতে গলায় কাপড় দিয়ে রোজ সে গাছে জল দিত। এইভাবে চারবছর পার করার পর যেই সে তুলসিগাছে জল দিতে গেল, অমনি এক দেবী তার সামনে আবির্ভূত হলেন। তিনি হেসে কলাবতীকে বললেন, "তুমি আমায় চিনতে পারছো না, আমিই তোমায় স্বপ্নে ব্রাহ্মণের বেশে দেখা দিয়েছিলাম। আজ বৈশাখ মাসের সংক্রান্তি। তোমার ব্রত উদযাপন হয়েছে ,তোমার জন্য এই ব্রত জগতে প্রচার পেয়েছে তুমি আমার কাছে বর চাও।"
‌কলাবতী দেবীকে প্রনাম করে বলে, আমায় এই বর দিন আমার বাবা মা যেন চিরকাল সুখে থাকে। দেবী হাসতে হাসতে তাকে বর দিলেন আর বললেন সেও ভালো বিয়ে করে সুখে ঘর সংসার করবে।
‌কিছুসময় পর কলাবতীর জমিদারের ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। তার বাবার পুত্র সন্তান জন্মালে তারাও সুখে দিন কাটাতে থাকে। এই ভাবে এই ব্রত চারদিকে ছড়িয়ে পরে।

তথ্যসূত্র


  1. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ আশুতোষ মজুমদার, প্রকাশকঃ অরুণ মজুমদার, দেব সাহিত্য কুটির, পৃষ্ঠা ৮৪
  2. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সম্পাদিত ও রমা দেবী কর্তৃক সংশোধিত, প্রকাশকঃ নির্মল কুমার সাহা, দেব সাহিত্য কুটির, পৃষ্ঠা ৮

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!