ভ্রমণ

ভাল্কি মাচান ভ্রমণ

বলা হয় বর্ধমানের রাজা এই জঙ্গলে মাচা তৈরি করে শিকারে আসতেন। পোড়া ইটের তৈরি সেই দুর্গ , পুরনো সেই জলাশয় এখনও আছে।  লাল মাটির রাস্তা জঙ্গলের পেট চিরে চলে গেছে ছোট্ট ছোট্ট গ্রামে। গ্রামের মানুষ হাতে গোনা। কয়েকটি ঘর নিয়ে গ্রাম। পর্যটক ছাড়া এখানকার সৌন্দর্য দেখার নেই কেউ। সারা দিনে দু-একটা ইঞ্জিন ভ্যানের শব্দ পাওয়া যায়, বাকি সময় ফাঁকা। পিকনিক করতে বা শহুরে জীবন থেকে একদিনের জন্য মুক্তি পেতে হতেই পারে আপনার ঠিকানা ভাল্কি মাচান।

ভাল্কি মাচান

ভাল্কি মাচান যাবার রাস্তা। ছবি সববাংলায়

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে, ভল্লুপদ রাজার নামানুসারেই নাকি এই অঞ্চলের নাম হয়েছে ভাল্কি। সেই কাহিনী অনুসারেই ভাল্কি মাচানে রয়েছে রাজাদের আমলেই তৈরি সুউচ্চ টাওয়ার। কেন এই টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছিল তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ কেউ বলে , ঘনঘন বর্গী আক্রমণ হত এই অঞ্চলগুলোয়। তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখার জন্য এই টাওয়ার তৈরি হয়। অন্যমতে, সপ্তদশ শতকে বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদের সময় এই টাওয়ার তৈরি করা হয়। মহারাজার অবসর সময়ে শিকার করার জন্য এটির নির্মাণ। এবং এই মাচা থেকেই নামকরণ হয় মাচান। তবে কাহিনী যাই হোক না কেন পর্যটকদের কাছে জঙ্গলের মধ্যে এই টাওয়ার আকর্ষণের অন্যতম কারণ। এই ওয়াচ টাওয়ারের নীচেই রয়েছে একটি সু়ড়ঙ্গ। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে, এটিই নাকি বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনীর সু়ড়ঙ্গ।

ট্রেনে যেতে হলে নামতে হবে গুসকরা স্টেশনে বা মানকর স্টেশনে। হাওড়া থেকে বোলপুরগামী প্রায় সব ট্রেনই গুসকরা স্টেশন থামে। গুসকরা থেকে ভাল্কি মাচান মাত্র ২২ কিমি রাস্তা। মানকর থেকে ১১ কিমি। উভয় স্টেশন থেকেই ভাড়া গাড়ি পাওয়া যায়। গুসকরা স্টেশনে নামলে বাসে করে অভিরামপুর এসেও গাড়ি ভাড়া করে ভাল্কি মাচান আসা যায়। আর যদি গাড়ি করে আসতে চান তাহলে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমানের পারাজ থেকে ডান দিকে অভিরামপুর হয়ে সোজা ভাল্কি মাচান। পারাজ থেকে মাত্র ১৬ কিমি।

ভালকির জঙ্গলে থাকার জন্য মাত্র একটিই হোটেল। নাম ‘অরণ্যসুন্দরী’। পাকা রাস্তার কাছাকাছিই হোটেল। এ অরণ্যে আর কোনও বাড়িও নেই। তবে বিশাল এলাহি ব্যাপার নেই হোটেলে। খুব সাধারণ মানের ঘর।  হোটেলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলেও বাইরে তেমন নেই, তাই কিন্তু গোটা জঙ্গল সন্ধ্যা নামলে ডুবে যায় অন্ধকারে। জঙ্গলের মধ্যে ১০-১৫টি বাড়ি নিয়ে দূরে দূরে একেকটি গ্রাম। হোটেল থেকে দেখাও যায় না। তবে হোটেলে আগে থেকে বলে রাখলে নাচের দলও পাওয়া যায়। বন্ধুবান্ধব নিয়ে একরাত থাকার জন্য যথেষ্ট।

হোটেলে বসেই দেখা যায় ভল্লু রাজার দুর্গ। দুর্গের গা বেয়ে গড়িয়ে পড়া রাত। হোটেল থেকে বেরিয়ে দু’পা এগিয়ে ডানদিকে বড় জলাশয়। জলাশয়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে সুন্দর উদ্যান।  প্রতি বছর স্থানীয় মানুষ ছাড়াও দুর্গাপুর, বোলপুর, বাঁকুড়া, কলকাতা থেকে অনেক মানুষ পিকনিক করতে বা ঘুরতে আসেন । পিকনিক  করার জন্য এটি ভালো জায়গা।

 

 

ট্রিপ টিপস


  • কিভাবে যাবেনঃ ট্রেনে যেতে হলে নামতে হবে গুসকরা স্টেশনে বা মানকর স্টেশনে। আর যদি গাড়ি করে আসতে চান তাহলে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমানের পারাজ থেকে ডান দিকে অভিরামপুর হয়ে সোজা ভাল্কি মাচান।
  • কোথায় থাকবেনঃ ভালকির জঙ্গলে থাকার জন্য মাত্র একটিই হোটেল। নাম ‘অরণ্যসুন্দরী’। পাকা রাস্তার কাছাকাছিই হোটেল। এ অরণ্যে আর কোনও বাড়িও নেই। তবে বিশাল এলাহি ব্যাপার নেই হোটেলে। খুব সাধারণ মানের ঘর।
  • কি দেখবেনঃ হোটেলে বসেই দেখা যায় ভল্লু রাজার দুর্গ।  হোটেল থেকে বেরিয়ে দু’পা এগিয়ে ডানদিকে বড় জলাশয়। জলাশয়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে সুন্দর উদ্যান। সেখানে বিকালবেলা বা ভোরবেলা ঘুরে বেড়াতে পারেন।
  • কখন যাবেনঃ বছরের যে কোনো সময়। তবে শীতকালে পিকনিকের সময় যায় অনেকে।
  • সতর্কতাঃ
    • জঙ্গলের মধ্যে স্থানীয় কাউকে না নিয়ে একা একা ঘুরতে বেরবেন না। জঙ্গল ছোট হলেও পথ হারিয়ে যাওয়ার ভালরকম সম্ভাবনা।
    • বর্ষাকালে ঘুরতে এলে সাপ বা পোকামাকড় থেকে সাবধান থাকতে হবে। জঙ্গলে উপযুক্ত জুতো পায়ে না দিয়ে যাবেন না।

 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!