বিজ্ঞান

আমাদের গায়ে কাঁটা দেয় কেন

আমাদের চারপাশের পরিবেশ হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেলে কিংবা মনে কোন কারণে তীব্র কোন আবেগ এলে যেমন – কোন ভয়ের ঘটনা বর্ণনা করার সময়, কিংবা জাতীয় সংগীত শোনার সময় আমাদের গায়ে কাঁটা দেয়।গায়ে কাঁটা দেওয়া ব্যাপারটাই বা কি আসলে?

যাকে আমরা গায়ে কাঁটা দেওয়া বলি- তা আসলে এক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা আমরা অর্থাৎ মানুষরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের থেকে পেয়েছি উত্তরাধিকার সূত্রে। গায়ে কাঁটা দেওয়ার অর্থ- গায়ের রোমকূপ খাড়া হয়ে যাওয়া। কেবল মানুষ নয়, সমস্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীদেরই  ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। কিন্তু কেন হয় এই রোমকূপ খাড়া? মানুষ বাদে অন্য প্রাণীরা যখন কোন কারণে ভয় পায় তখন তাদের শরীর থেকে এক বিশেষ ধরণের হরমোন ক্ষরণ হয় যা আড্রিনালিন  হরমোন নাম পরিচিত। এই হরমোনের প্রভাবে ত্বকের ওপরে থাকা ছোট ছোট পেশিগুলো যেগুলো লোমের গোড়ায় থাকে সেগুলো হঠাৎ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এখন যে লোমগুলো সংকুচিত হয়ে যায় সেগুলোর তলায় চাপ সৃষ্টি হয় যা কিনা ওর চারপাশের ত্বককে ঠেলে ওপরে তুলে দেয়। এটাকেই আমরা ভাবি আমাদের গায়ে রোমকূপ খাড়া হয়ে উঠেছে। পেশির এই সংকোচনের ফলে ত্বকের ওপরে থাকা লোমগুলো সোজা খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। একেই আমরা বলি কাঁটা দেওয়া যেহেতু গায়ের লোমগুলো কাঁটার মত সোজা দাঁড়িয়ে থাকে। মজার কথা হল এই গোটা প্রক্রিয়াতে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কোন হাত থাকেনা। আরোও বুঝিয়ে বলতে গেলে আমরা আমাদের ইচ্ছামত বা কোন স্তন্যপায়ী প্রাণীই তার ইচ্ছামত গায়ের লোম খাড়া করতে পারেনা। এটি একটি প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স আ্যকশান  – যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিজে নিজেই ঘটে যায়। শারীরবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে- পিলোমোটর রিফ্লেক্স (pilomotor reflex) বলে. প্রাণীদের ক্ষেত্রে এটা হয় কেবল মাত্র ভয় পেলে। গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেলে ভীত প্রাণীটিকে চেহারায় সাধারণ অবস্থার তুলনায় আকৃতিতে বড় লাগে- শত্রুকে ভয় পাওয়াতে এ এক আত্মরক্ষার কৌশল।  তবে মানুষের ক্ষেত্রে এই অবস্থা কেবল ভয় নয়, ঠান্ডা অনুভূত হলে, প্রবল আবেগ, কোন স্মৃতি রোমন্থন বা ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়লে তখন দেখা যায়।

2 Comments

2 Comments

  1. Suchand Kumar Pan

    ফেব্রুয়ারী 22, 2020 at 15:50

    সকালে, দুপুরে ও সায়াহ্নে পৃথিবী হতে সূর্যের দূরত্ব একজন দর্শক হতে কতটা কম বেশি হয় তার হিসেব দিলে ভালো হতো

    • সববাংলায়

      ফেব্রুয়ারী 24, 2020 at 00:26

      আমরা আপনার প্রশ্নটি আমাদের তালিকায় লিখে রাখলাম। যথাযোগ্য তথ্য ও বিশ্লেষণসহ এই নিয়ে আমরা লিখব। পড়তে থাকুন বিজ্ঞান এর বিভিন্ন লেখা। ‘কেন’ ট্যাগে ক্লিক করে বিভিন্ন কেন বিষয়ক পোস্টও পড়তে থাকুন আর কোন প্রশ্ন থাকলে এভাবেই আমাদের জানান।
      ধন্যবাদ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর - জন্ম সার্ধ শতবর্ষ



তাঁর সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন