আজকের দিনে

২০ মে ।। বিশ্ব মৌমাছি দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। কোন নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বের পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যে একটি হল বিশ্ব মৌমাছি দিবস (World Bee Day)।

প্রতি বছর ২০ মে দিনটিতে ‘বিশ্ব মৌমাছি দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এই দিনটি পালিত হয়ে থাকে, মৌমাছি এবং পরাগ সংযোগকারী পতঙ্গদের পরিবেশ রক্ষায় অবদানের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য। ২০১৮ সালের ২০ মে এই দিনটি প্রথম পালিত হয়। ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলি (United Nations General Assembly) ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে স্লোভেনিয়ার (Slovenia) প্রস্তাব অনুসারে মৌমাছি পালন ও সংরক্ষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য জনসমক্ষে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই দিনটি পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

অষ্টাদশ শতকে মৌমাছি পালনের পথিকৃৎ অ্যান্টন জ্যানসের (Anton Jans) জন্মদিন হল ২০ মে। তিনি ছিলেন স্লোভেনিয়ার বাসিন্দা। তাঁকে আধুনিক মৌমাছি পালনের কলা কৌশলের জনক বলা হয়।তাই এই দিনটিকে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মৌমাছির অসাধারণ ভূমিকা আছে। মৌমাছি হল একটি ক্ষুদ্র, উপকারী পতঙ্গ। দলবদ্ধ ভাবে বাস করে বলে এদের ‘সামাজিক পতঙ্গ’ বলা হয়। মৌমাছিরা ফুলের পরাগ মিলন ঘটিয়ে বনের ও কৃষিজ ফসলের এবং ফলমূলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। মৌচাকের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এদের পালন করাকেই মৌমাছি পালন বা মৌ-চাষ বলা হয়। এদের চাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়।

একটি চাকে একটি রানী মৌমাছি, কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি এবং অসংখ্য শ্রমিক মৌমাছি থাকে। এদের মধ্যে শ্রমিক মৌমাছিরা বেশি পরিশ্রমী হয় এবং মধু সংগ্রহ করে। পুরুষ ও রানী মৌমাছির কাজ শুধুমাত্র বংশবৃদ্ধি করা। শ্রমিক মৌমাছিরা চাক নির্মাণ করে, ফুলের মিষ্টি রস সংগ্রহ করে এবং তা থেকে মধু তৈরি করে। এছাড়াও চাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, তার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা ইত্যাদিও শ্রমিক মৌমাছিরা করে থাকে।

পরাগ মিলনের জন্য মৌ-চাষ এখন আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় মৌমাছিরা তাদের পা এবং বুকের লোমে ফুলের অসংখ্য পরাগরেণু বয়ে বেড়ায়। এর ফলে পরাগ সংযোগের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও মৌমাছি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মৌমাছি পালনকে কুটির শিল্প হিসেবে গ্রহণ করে অনেক পরিবার আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছে। এর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রচলন আছে এবং সরকার থেকে ঋণ পাওয়া যায়।  মৌমাছির চাক থেকে যান্ত্রিক উপায়ে মধু নিষ্কাশন করা হয়, ফলে এই মধু হয় বিশুদ্ধ। মধু রপ্তানি করে সরকার বহু টাকা লাভ করে। এছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে মধু বিক্রি করেও লাভ করা যায়।

মধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ এবং এর পুষ্টিগুণও যথেষ্ট। ভিটামিন, এনজাইম, খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। স্বাস্থ্য রক্ষায় মধুর নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে মধু ঔষধ হিসেবে বা বিভিন্ন ঔষধের অনুপান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মধু সম্বন্ধে বিশদে জানতে এখানে দেখুন।

এই দিনটি মৌমাছি ও পরাগ সংযোগকারী পতঙ্গদের কৃষিক্ষেত্রে এবং পরিবেশ রক্ষায় যে ভূমিকা, তাকে জনসমক্ষে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে পালিত হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থাগুলি কীটনাশকের ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য বিশেষ বিধি নিষেধ চালু করেছে, যাতে কীটনাশকের কারণে এই সমস্ত উপকারী কীটপতঙ্গ নিহত না হয়। প্রতিটি দেশে কৃষি দপ্তর ও মৌ পালনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থা এই দিনটিতে মৌ পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকে।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।