সববাংলায়

আমাদের হাত পা ঝিন ঝিন করে কেন

বিভাগঃ ,

অনেকক্ষণ এক ভাবে বসে বা শুয়ে থাকলে আমাদের হাত বা পা অবশ মনে হয় এবং তারপর নড়াচড়া করলে পিন ফোটানোর মত অনুভূতি (ঝিন ঝিন) হয়। এই ধরণের ঘটনা সকলেই এক বা একাধিকবার লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু জানেন কি আমাদের হাত পা ঝিন ঝিন করে কেন?

অনেকের ধারণা, অনেকক্ষণ এক ভাবে বসে বা শুয়ে থাকলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তাই এই ধরণের অনুভূতি হয় কিন্তু আসলে তা নয়। অঙ্গ প্রত্যঙ্গের এই ধরনের অবশ হয়ে যাওয়া, ঝিন ঝিন বা চিন চিন অনুভূতিকে ডাক্তারি পরিভাষায় প্যারেসথেসিয়া (Paresthesia) বলে।এক কথায় বলতে গেলে, আমাদের দেহে ছড়িয়ে থাকা স্নায়ুগুলির উপর সাময়িক চাপ পড়লে এই অনুভূতির সৃষ্টি হয়। কোনও অঙ্গে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে এই ধরণের অনুভূতি হলেও হতে পারে তবে তার সম্ভবনা খুব কম। সাধারণক্ষেত্রে এসবই স্নায়ুতন্তুর উপর সাময়িক চাপের জন্যই হয়।

এবার আসা যাক বিশদ ব্যাখ্যায়। আমাদের সারা দেহে অসংখ্য স্নায়ু তন্তুর মত ছড়িয়ে রয়েছে – সেই বিভিন্ন স্নায়ু কিন্তু একই রকম অনুভূতির সংকেত পাঠায় না, তারা বিভিন্ন রকম অনুভূতির সংকেত মস্তিষ্কে পাঠান। বেশ কিছুক্ষণ এক ভাবে থাকলে (পা ভাঁজ করে বা হাতের উপর এক দিকে চাপ দিয়ে) আমাদের স্নায়ুগুলির উপর কোন এক জায়গায় চাপ পড়ে। ফলে স্নায়ুগুলি শরীরের সেই অঙ্গের থেকে কোন রকম সংকেত পাঠাতে পারে না – তাই চাপা পড়া অংশের নিচের অংশটি অবশ মনে হয়। এই ধরণের অনুভূতিকে ইংরাজিতে বলে ‘falling asleep’। হাত বা পা অবশ মনে হলে, আমাদের অস্বস্তি হতে থাকে ফলে আমরা তার জন্যে নড়ে চড়ে বসে অবস্থান পরিবর্তন করি আর স্নায়ুগুলির উপর থেকে চাপ সরে যায়। চাপমুক্ত হলেই সমস্ত স্নায়ুগুলি এক যোগে সেই অঞ্চলের যাবতীয় সংকেত পাঠাতে শুরু করে। সেই সমস্ত সংকেত মস্তিষ্ক আলাদা করে বুঝতে পারে না ফলে এক ধরণের ঝিন ঝিন, চিন চিন বা পিন ফোটানো অনুভূতি  হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে অবশতা কমে বা ইংরাজিতে বলে ‘waking up’।  ঝিন ঝিন হতে থাকা অঙ্গটি বেশি সঞ্চালন করলে স্নায়ু আগের অবস্থায় তাড়াতাড়ি ফিরে আসে ও আমরা আমাদের স্বাভাবিক অনুভূতি ফিরে পাই।

সাধারণভাব, প্যারেসথেসিয়া ভয়ের কিছু নয়। কিন্তু যদি এ ধরণের অনুভূতি খুব ঘনঘন হতে থাকে বা ঝিন ঝিন ভাব না কমে তাহলে তা নানা রোগের উপসর্গ হতে পারে – যেমন স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষত, স্ট্রোক বা মিনি স্ট্রোক – যখন মাথায় রক্ত প্রবাহ কমে গিয়ে মস্তিষ্কে ক্ষত সৃষ্টি হয়, সায়াটিকা, ডায়াবেটিস, ভিটামিনের অভাব – বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২ ইত্যাদি।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading