আজ শিক্ষা থেকে দৈনন্দিন কাজ, সর্বত্র বাংলা ভাষা যেন ব্রাত্য। ইন্টারনেটেও নির্ভরযোগ্য আকর্ষণীয় তথ্য মানে বিদেশী ভাষার একচেটিয়া আধিপত্য়। বাংলা ভাষার গৌরবকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আমাদের প্রয়াস ‘সববাংলায়’। ‘যা জানব সব বাংলায়’ এই হল আমাদের চালিকাশক্তি। বাংলা ও বাঙালির জন্য আমাদের কাজ হলেও অন্যান্য ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতি আমাদের কোন বিদ্বেষ নেই। সকল ভাষাকেই আমরা সম্মান করি। আমরা চাই, অন্যান্য ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষাও যেন সদর্পে সহাবস্থান করতে পারে। সেই জন্য আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা করা সম্ভব তা আমরা করে চলেছি।
আমাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সববাংলায় এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ফেসবুক পেজের হাত ধরে। ২০১৫ সাল নাগাদ বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচারের জন্য শুরু হয় একটি ফেসবুক পেজ – যা জানব সব বাংলায়। ২০১৬ সালে তৎকালীন কর্মকর্তারা ফেসবুক পেজের বদলে নিজস্ব একটি প্ল্যাটফর্মের কথা চিন্তা করেন এবং সেই লক্ষ্যে একটি দল গঠন করে সববাংলায় ওয়েবসাইটের কাজ শুরু করেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে তথা বাংলার ১৪২৪ সালের পয়লা বৈশাখে সববাংলায় সাইটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। কিন্তু সেখানে ছিল না আজকের মত নির্দিষ্ট দিশা ও রূপ। তথ্যমূলক লেখার পাশাপাশি সেখানে সাহিত্যচর্চাও করা হত। ২০১৮ সাল জুড়ে সাইটটিকে নতুন ভাবে সাজানো হয় এবং ২০১৯ সাল থেকে সববাংলায় সাইটে শুধু মাত্র তথ্যমূলক লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। কিছুদিনের জন্য এই সাইটে সাহিত্যচর্চা বন্ধ রাখা হলেও সাহিত্যচর্চার জন্য অন্য কোনও প্ল্যাটফর্মের চিন্তাভাবনা করা হয়। অবশেষে ২০২০ সালের ১৪ জুন লেখালিখি ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই দুটি ওয়েবসাইট ছাড়াও সববাংলায় তৈরি করেছে তথ্যচিত্রের ভাণ্ডার। তাছাড়া লেখকদের জন্য কর্মসংস্থানের আয়োজন থেকে শুরু করে বাংলায় কন্টেন্ট রাইটিং শিক্ষার ব্যবস্থা করা, বই প্রকাশে সহায়তা করা এরকম বহু উদ্যোগ নিয়েছে সববাংলায়। সববাংলায় এর সেই সমস্ত উদ্যোগ নিয়ে জানতে পড়ুন এখানে।
আমাদের লক্ষ্য
আমাদের প্রধান লক্ষ্য বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধন। আমরা প্রথমেই অনুভব করেছি যে ইন্টারনেটে ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষায় যে পরিমাণ নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার আছে বাংলা ভাষায় তা নেই। সেই থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু। আমাদের লক্ষ্যগুলো নিম্নে দেওয়া হল –
১) অনলাইনে বাঙালির তথ্যভাণ্ডার (ওয়েব কন্টেন্ট এবং ভিডিও দুইই) তৈরি।
২) বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতিকে ধরে রাখা, তার প্রচার ও প্রসার।
৩) বাংলা ভাষা ও বাঙালিকে নিয়ে যে কোন ভাল কাজ বা উদ্যোগকে আমাদের সাধ্যমত সমর্থন করা।
বর্তমান কর্মকর্তা
যে কোনও প্রতিষ্ঠানকে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার সঠিক পরিচালনা। সববাংলায় প্রতিষ্ঠানটিকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে যারা নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, বর্তমান সেই কর্মকর্তাদের পরিচিতি নিচে দেওয়া হল।

রুবাই শুভজিৎ ঘোষ : রুবাই শুভজিৎ ঘোষের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায়। ইনফরমেশন টেকনোলজিতে বি টেক পাশ করেছেন। পেশাগতভাবে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসাবে কাজ করছেন। সববাংলায় প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে তিনি বিভাগীয় সম্পাদক এবং মিডিয়া, সংযোগ ও মানবসম্পদ প্রধান রূপে কাজ করছেন। ২০২০ সালের শেষ কয়েক মাস লেখালিখি সাইটের সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন। পরবর্তীকালে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে তিনি লেখালিখি সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।
পেশাগত দায়িত্ব ও সববাংলায় এর কাজের পাশাপাশি তিনি একজন লেখক। লিটল ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বিভিন্ন ম্যাগাজিনে নিয়মিত লিখেছেন। ভ্রমণ তাঁর অন্যতম শখ। নিয়মিত তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। লেখালিখির পাশাপাশি তিনি নাটক, তথ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর মতে –
এটা মানতেই হবে আজকের পাঠকেরা খুব বেশি মাত্রায় ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। আর যুগের সাথে পাল্লা দিয়েই বাংলাভাষাকেও বইয়ের পাশাপাশি জায়গা করতে হবে ইন্টারনেটে। যে কোন তথ্য বাংলায় খুঁজলে যদি পাওয়া না যায়, পাঠক তো অন্য ভাষাতে তা খুঁজতে যাবেই। তাই ইন্টারনেটে বাঙালির দরকার নিজস্ব তথ্যভাণ্ডারের । এইরকম এক তথ্যভাণ্ডারের নামই সববাংলায়।

সম্বিত শুক্লা : সম্বিত শুক্লার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার মানকরে। ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন। পেশাগতভাবে দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসাবে কাজ করছেন। তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং একটি লিটল ম্যাগাজিনের প্রকাশনা ও সম্পাদনার সঙ্গে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত ছিলেন। সববাংলায় প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে তিনি প্রধান কার্য নির্বাহক হিসেবে কাজ করছেন, পাশাপাশি প্রধান সম্পাদক এবং প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালের জুন অবধি লেখালিখি সাইটের সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন। পরবর্তীকালে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে তিনি লেখালিখি সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।
পেশাগত দায়িত্ব ও সববাংলায় এর কাজের পাশাপাশি সময় পেলে তিনি লেখালিখি ও পড়াশোনা করতে পছন্দ করেন। এছাড়াও শখের মধ্যে আছে বাগান করা, ছবি তোলা, তাস-দাবা ইত্যাদি খেলা, বিভিন্ন খেলা দেখা আর অবশ্যই বিভিন্ন ধরণের তথ্য জানার জন্য ইন্টারনেট সার্ফ করা। তিনি মনে করেন –
বাঙালি আজ বাংলায় লিখতে, পড়তে, এমনকি কথা বলতেও ভুলে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এটা নিয়ে গর্বিত। কারণ তারা বাংলা না জেনে জানে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ভাষা। কিন্তু নিজের মাতৃভাষায় না পড়তে পারা, না লিখতে পারা বা না কথা বলতে পারাটা গর্বের নয় অত্যন্ত লজ্জার। আর সেই লজ্জা কিছুটা মেটাতেই আমাদের এই প্রয়াস, যার নাম সববাংলায়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
