আমাদের কথা

পৃথিবীর সব শিশুরাই আসলে একজন বৈজ্ঞানিক । কারণ ওদের সব কথাতেই একটা ‘কেন’ থাকে, আর বিজ্ঞানের মূল ভিত্তিটাই দাঁড়িয়ে এই ‘কেন’র ওপর। শুধু বিজ্ঞান কেন, যে কোন কিছু জানার ইচ্ছেটাই তো দাঁড়িয়ে আছে , কি, কেন, কিভাবে, কবে অথবা বলা উচিত জানার ভিত্তিটাই দাঁড়িয়ে আছে প্রশ্নের ওপর। কেন আপেল সর্বদা মাটিতেই পড়ে? কেন শ্যামাপোকা মৃত্যু জেনেও আগুনের দিকে ছুটে যায়? কেন পৃথিবীতে গ্রীষ্ম আসে, গ্রীষ্মের পর বর্ষা, শীতের পর বসন্ত? ঈশ্বর আসলে কে? আমাদের সৃষ্টি কবে হয়েছিল, কিভাবে হয়েছিল, কেনই বা হয়েছিল? আমাদের কি জানার দরকার নেই?

অবশ্যই আছে। জানার প্রয়োজন আছে বলেই তো আমরা আছি, আমাদের অস্তিত্ব আছে। জানার এই প্রয়োজনীয়তাই আমাদের অন্যান্য জীবের থেকে আলাদা করেছে। আমরা প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করে চলেছি, জ্ঞান আহরণ করে চলেছি। আগামীদিনেও করব। জ্ঞান সঞ্চয় করেছি বলেই তো আমরা সভ্যতার সূচনা করেছি, এগিয়ে নিয়ে চলেছি সভ্যতাকে। জ্ঞান সঞ্চয়ের এই প্রক্রিয়া অবিরাম, অবিরত, ক্রমবর্ধমান, এর শেষ নেই। কারণ জানার কোন শেষ নেই। আর জ্ঞানই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

জানার যেমন কোন শেষ নেই, ঠিক তেমনই জানাটা প্রয়োজন নিজের মাতৃভাষাতেই। কারণ একজন মানুষ নিজের মাতৃভাষাতেই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে, বোঝাতে পারে। জ্ঞান সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে বা জ্ঞান বিতরণের ক্ষেত্রেও মাতৃভাষাকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। যদি অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেই জাতি পিছিয়ে পড়বেই, এতে সন্দেহ নেই। একটা শিশু যখন কোন প্রশ্নের উত্তর খোঁজে, সে প্রথমে নিজের ভাষাতেই সেটার উত্তর চায়। তাকে অন্য ভাষা শিখিয়ে তারপর প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে সে প্রশ্নটাই হারিয়ে ফেলবে। অর্থাৎ আমরা আমাদের উদ্দেশ্যই হারিয়ে ফেলব। তাই জ্ঞান যেমন জরুরি, তেমন জরুরী তা নিজের মাতৃভাষায় জানা।

আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। তাই জ্ঞানসঞ্চয়ের কাজটা আমাদের করে যেতে হবে বাংলাতেই। অবশ্যই অন্য ভাষাকে অস্বীকার করছি না, অন্য ভাষাকে স্বাগত জানিয়ে, সম্মান জানিয়েই আমাদের নিজেদের বাংলা ভাষাতে কাজ করে যেতে হবে। ভাষা হারিয়ে গেলে আমরা নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলব বা বলা ভালো অস্তিত্বহীনতায় ভুগব। কিন্তু এই যে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি, সেটা অনেকটাই এরকম। বাঙালি বাংলায় লিখতে, পড়তে ভুলে যাচ্ছে বা বলা ভালো অস্বীকার করছে। তাদের দাবী বাংলায় কিছু হয় না, হতে পারে না। তাহলে রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ, বিদ্যাসাগর, আচার্য জগদীশচন্দ্র এরা কি মিথ্যে? তারা বলছে এরা মিথ্যে নয়, এরা পুরনো। বাঙালির নতুন করে আর কিছু হবার নেই। যা হবার হয়ে গেছে। এখন বাংলা ভাষায় আর ভালো কিছু সম্ভব নয়, বাংলা ভাষায় পড়াশোনা সম্ভব নয়, বাঙাল ভাষায় জানা সম্ভব নয়। তারা  কিছু আন্তর্জাতিক ভাষা জানে, এবং ভাবে এতেই তাদের মুক্তি। কিন্তু তারা জানে না বাঙালি হয়ে বাংলায় না জানতে চাওয়ায় গর্ব নেই কোন, এটা অত্যন্ত লজ্জার।

তবে এটাও ঠিক এই সময়ে এই মানুষদের সংখ্যা যেমন বেশি এবং ক্রমবর্ধমান, তেমনই বাংলাকে ভালবাসা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তবে আরেকটা সমস্যা আছে। এখন সময় বদলেছে। জানার কায়দাও বদলেছে। জানার প্রয়োজনে এখন আমাদের লাইব্রেরি ছুটতে হয় না সবসময়, হাতের মুঠোয় পৃথিবী চলে এসেছে। জানার ইচ্ছা যাদের তারা চাইলেই এক আঙুলের ছোঁয়ায় জেনে নিতে পারে অনেককিছু। সৌজন্যে ইন্টারনেট। ইন্টারনেট এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। বইয়ের পাশাপাশি ইন্টারনেট জ্ঞানের জন্য এক অন্যতম অংশ হয়ে উঠছে। কিন্তু সেখানে বাংলা ভাষায় কিছু জানার পরিধি অনেক কম। কারণ আমরা সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। ইন্টারনেটে কোন তথ্য ইংরাজিতে খুঁজলে সেই তথ্য সম্বন্ধে জানা যায় অনেক। কিন্তু সেই একই তথ্য বাংলায় খুঁজলে, সেটা সহজলভ্য নয়। বাংলায় নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট অনেক কম, তাই বাংলাভাষাকে ভালবাসা মানুষগুলোও কখনও বাধ্য হয়েই অন্য ভাষার দিকে ঝুঁকছে আর তখনই আমাদের বাংলা ভাষা ধুঁকছে।

এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে যা কিছুই জানব সব কিছুই যেন হয় বাংলায়, এই আমাদের প্রয়াস, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক কোনও ভাষা উঁকি মারছে সর্বত্র, এমনকি আমাদের শোবার ঘরেও। আন্তর্জাতিক ভাষার এই রাজত্বের মাঝে মাতৃভাষায় জ্ঞানের চর্চা করে যাওয়া একটা অভিজ্ঞতা বৈকি। আর তাই ইন্টারনেটেও বাংলার উপস্থিতি দরকার। যদিও আমাদের একার চেষ্টায় সমগ্র সামাজিক চিত্রটা হয়ত বদলাতে পারব না এখনই, কিন্তু একটা শুরু সবসময় দরকার। বাংলায় বুক ফুলিয়ে জ্ঞানের চর্চা করার  আমাদের যে চেষ্টা, তার নাম রেখেছি, সববাংলায়। সমস্ত বাঙালী নিজের ভাষা নিয়ে আগের মতই যেন গর্ব করে আবার, “আমরি বাংলা ভাষা “, এই আমাদের প্রয়াস। আর আমাদের এই প্রয়াসে আপনারা সকলে যোগদান করুন, এই আমাদের ইচ্ছা।

প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদকমণ্ডলী



সম্বিত শুক্লাঃ বাঙালি আজ বাংলায় লিখতে, পড়তে, এমনকি কথা বলতেও ভুলে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এটা নিয়ে গর্বিত। কারণ তারা বাংলা না জেনে জানে কিছু আন্তর্জাতিক ভাষা। কিন্তু নিজের মাতৃভাষায় না পড়তে পারা, না লিখতে পারা বা না কথা বলতে পারাটা গর্বের না, অত্যন্ত লজ্জার। আর সেই লজ্জা কিছুটা মেটাতেই আমাদের এই প্রয়াস, যার নাম সববাংলায়



অয়ন মৈত্রঃ আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন তা হল কোনও বিষয়ে উপযুক্ত জ্ঞান থাকা। এবং অবশ্যই তা নিজের মাতৃভাষায়। কিন্তু জ্ঞানের প্রতি পিপাসা যেন কমে যাচ্ছে মানুষের। এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপদজনক। এই বদভ্যাস কে পাল্টানোর জন্য, বাংলা ভাষায় মানুষের মনে জ্ঞানের প্রতি একটু হলেও পিপাসা বাড়ানোর জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টার নাম সববাংলায়



রুবাই শুভজিৎ ঘোষঃ এটা মানতেই হবে আজকের পাঠকেরা খুব বেশি মাত্রায়  ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। আর যুগের সাথে পাল্লা দিয়েই বাংলাভাষাকেও বইয়ের পাশাপাশি জায়গা করতে হবে  ইন্টারনেটে । যে কোন তথ্য  বাংলায় খুঁজলে  যদি পাওয়া না যায়, পাঠক তো অন্য ভাষাতে তা খুঁজতে যাবেই। তাই ইন্টারনেটে বাঙালির  দরকার  নিজস্ব তথ্যভাণ্ডারের ।  এইরকম  এক তথ্যভাণ্ডারের নামই সববাংলায়


লেখক এবং সহকর্মী

মিজানুর রহমান সেখ, সৌরভ ঘোষ, অর্পিতা প্রামাণিক, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, প্রভাস মণ্ডল, ঔষ্ণীক ঘোষ, দেবপ্রিয়া পাঁজা, জুবিন ঘোষ, দেবজিত ঘোষ, দেবাঞ্জলি ভট্টাচার্য।


শুভানুধ্যায়ী

অরিত্র চট্টোপাধ্যায়, শর্মিলা ঘোষনাথ, কুন্তল পাল, প্রণবশ্রী হাজরা।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

4 Comments

4 Comments

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।