ভ্রমণ

দলমা অভয়ারণ্য ভ্রমণ

দলমা অভয়ারণ্য ভ্রমণ

দলমা অভয়ারণ্য (Dalma Wildlife Sanctuary) ভারতের প্রথম অভয়ারণ্য যেখানে পর্যটকেরা সাফারির পরিবর্তে পায়ে হেঁটে জঙ্গল ঘুরে দেখতে পারে। এখানের দলমা হাতি পাহাড়ের পাদদেশের গ্রামগুলোর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের নাম। হাতি ছাড়াও এই জঙ্গলে রয়েছে আরও কিছু বন্যপ্রাণী এবং বহু বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। প্রধানত হাতি দেখতে এবং এখানের বন্য পরিবেশ উপভোগ করার জন্য পর্যটকেরা এখানে ঘুরতে আসেন। অনেক সময় হাতি দেখতে পাওয়া না গেলেও জঙ্গলের আদিম পরিবেশের ভেতর দিয়ে দলমা পাহাড়ের মাথায় ওঠা এবং পাহাড়ের মাথা থেকে শহরের অসাধারণ ভিউ দেখার অভিজ্ঞতার জন্যেও মানুষে এখানে আসেন।

ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলায় ন্যাশনাল হাইওয়ে ৩৩ এর সমান্তরালে অবস্থিত দলমা অভয়ারণ্য। জামসেদপুর থেকে এর দুরত্ব ৩০ কিলোমিটার। পূর্ব সিংভূম জেলার অধিকাংশ অঞ্চল ঘন সবুজে ঢাকা। তারই মধ্যে ১৯৩ বর্গকিলোমিটার জুড়ে দলমা অভয়ারণ্য বিস্তৃত। দলমা পাহাড়ে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৯১৫ ফুট।

১৯৭৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর দলমা অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজনীতিবিদ সঞ্জয় গান্ধী এই অভয়ারণ্যের উদ্বোধন করেছিলেন। ঝাড়খণ্ড সরকারের বন এবং পরিবেশ বিভাগ এই অভয়ারণ্যের দেখাশোনা করে।

সপ্তাহের কাজের শেষে মনের ক্লান্তি দূর করতে দলমা অভয়ারণ্যের সবুজের এক আলাদা মহিমা আছে। হাইওয়ে থেকে যখন দলমা অভয়ারণ্যের ফটক পেরিয়ে বেশ কিছুটা ভেতরে চলে আসবেন, তখন বাকি শহরের থেকে হঠাৎ করেই যেন বিছিন্ন হয়ে যাবেন। হাইওয়ের গাড়ির আওয়াজ বা শহুরে কোলাহলের আওয়াজ হঠাৎ করেই বদলে যাবে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর গাছের কোটরে হাওয়া প্রবেশ করে তার শোঁ শোঁ শব্দ একটা রোমাঞ্চের জন্ম দেবে আপনার মনে। চক্রাকারে দলমা পাহাড়ের মাথায় ওঠার সময় পাহাড়ের গায়ে সবুজের প্রলেপ দেখতে দেখতে মন জুড়িয়ে যাবে। সঙ্গে যত উঁচুতে উঠতে থাকবেন, মেঘেদের তত কাছে থেকে দেখতে পাবেন। প্রচণ্ড হাওয়ায় সেই মেঘ উড়ে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখার আলাদাই অভিজ্ঞতা।

দলমা আসতে হলে আপনাকে ট্রেনে করে জামসেদপুর আসতে হবে। তারপর প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে স্টেশন থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে দলমা অভয়ারণ্যে পৌঁছতে পারেন। স্টেশন থেকে আসতে মোটামুটি এক ঘণ্টা লাগবে। প্লেনে আসতে চাইলে কাছাকাছি এয়ারপোর্ট হল রাঁচি। সেখান থেকে দলমা আসতে মোটামুটি আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগবে। কলকাতা, বর্ধমান বা পুরুলিয়া থেকে সরাসরি নিজের গাড়ি করে বা গাড়ি বুক করেও আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে মোটামুটি ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাগবে।

দলমা অভয়ারণ্যের ভেতরে থাকার কোনও ব্যবস্থা নেই। তবে বেশ কিছু দুরেই আছে কয়েকটি রিসোর্ট। এছাড়াও জামসেদপুরের হোটেলে থেকে এখানে একদিনের জন্য ঘুরতে আসতে পারেন।

এখানের দ্রষ্টব্যগুলো হল ঘন জঙ্গল, দলমা পাহাড়ের ভিউ, বিভিন্ন বন্যপ্রাণী বা পাখি দেখার সুযোগ, দলমা মায়ের মন্দির, শিব মন্দির, হনুমান মন্দির ও মিউজিয়াম

বর্ষার সময় বাদ দিয়ে সারা বছর ধরেই এখানে আসা যায়। তবে এখানে আসার সেরা সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। শীতকালে আবহাওয়া মনোরম থাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে তাপমাত্রা বেশ গরম থাকে, বিশেষ করে এপ্রিলের মধ্যভাগ থেকে মে মাসের পুরোটা এখানে সবচেয়ে বেশি গরম থাকে। যদিও পাহাড়ের একেবারে ওপরে হাওয়ায় সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়, কিন্তু যারা ট্রেকিং করে পাহাড়ের মাথায় উঠবেন, তাদের জন্য গ্রীষ্মকালে এখানে আসা প্রচণ্ড কষ্টের।

এখানে খাবার হোটেল কিছু নেই, তাই জল এখানে এসে কিনবেন ভাবলে সমস্যায় পড়বেন। সঙ্গে জলের বোতল রাখুন, সঙ্গে শুকনো খাবার রাখতে পারেন। কিন্তু পাহাড়ের মাথায় পিকনিক করবেন না বা খাবারের অবশিষ্ট অংশ যেখানে সেখানে ফেলে জায়গাটা নষ্ট করবেন না।


ট্রিপ টিপস

  • কীভাবে যাবেন – ট্রেনে করে জামসেদপুর আসতে হবে। তারপর প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে স্টেশন থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে দলমা অভয়ারণ্যে পৌঁছতে পারেন।।
  • কোথায় থাকবেন –
  • কি দেখবেন – ঘন জঙ্গল, দলমা পাহাড়ের ভিউ, বিভিন্ন বন্যপ্রাণী বা পাখি দেখার সুযোগ, দলমা মায়ের মন্দির, শিব মন্দির, হনুমান মন্দির, মিউজিয়াম।
  • কখন যাবেন – বর্ষার সময় বাদ দিয়ে সারা বছর ধরেই এখানে আসা যায়। তবে গ্রীষ্মের সময়টাও বাদ দিয়ে আসলে ভালো। গ্রীষ্মে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যধিক গরম থাকে।
  • সতর্কতা
    • মূল রাস্তা ধরে এগোন। জঙ্গলের ভেতরে যাবেন না।
    • চিৎকার চেঁচামেচি করবেন না। বাইক নিয়ে গেলে অত্যধিক হর্ন বাজাবেন না।
    • প্লাস্টিকের জিনিষ নিয়ে যাওয়া মানা। ধরা পড়লে জরিমানা দিতে হবে।
    • বিড়ি, সিগারেট খাবেন না। এর থেকে জঙ্গলে আগুন ধরার সম্ভাবনা আছে।
    • জুতো পড়ে মন্দিরে প্রবেশ করবেন না।
    • মন্দিরের সিঁড়িগুলো খুব খাড়াই, তাই সাবধানে উঠবেন, বিশেষ করে সঙ্গে বাচ্চা বা বয়স্ক মানুষ থাকলে আরও বেশি করে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
    • জল সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এখানে জলের দোকান পাবেন না।
    • কোনওরকম সামগ্রী যেখানে সেখানে ফেলবেন না।
    • পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে, টিলার ওপর বা যে কোন বিপদজনক জায়গায় দাঁড়িয়ে সেলফি তুলবেন না।
    • মোবাইল ফোনে ছবি তোলার জন্য আলাদা মূল্য নেই কিন্তু ক্যামেরায় ছবি এবং ভিডিও তোলবার জন্য আলাদা আলাদা মূল্য ধার্য করা আছে। সেটা দেখে নেবেন।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. https://traveltriangle.com/
  3. https://tripinfi.com/
  4. https://wildtrails.in/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

সববাংলায় তথ্যভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল - যা জানব সব বাংলায়