পঞ্চরত্ন স্থাপত্য একপ্রকারের মন্দিরের স্থাপত্যশিল্প। পুরনো বাংলার রাজাদের আমলে সপ্তদশ শতকে এ স্থাপত্যের আগমন ঘটে। এই স্থাপত্যে মন্দিরের মাথায় বা ছাদে চারটি কোণে চারটি চুড়া থাকে। আর কেন্দ্রে একটি চূড়া থাকে, যা অন্যান্য চারটি চুড়ার চেয়ে অনেকটা উঁচু। এই চূড়াগুলোকে রত্নও বলা হয়ে থাকে। এইভাবে মোট পাঁচটি চূড়া বা রত্ন থাকে বলে এই স্থাপত্যশিল্পকে পঞ্চরত্ন বলা হয়।
বাংলার বিভিন্ন মন্দিরে এই স্থাপত্যের উদাহরণ পাওয়া যায়। সপ্তদশ শতকে মল্লরাজারা বাংলায় সবচেয়ে পুরনো পঞ্চরত্ন স্থাপত্যের মন্দিরগুলো তৈরি করেন। এই তালিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাঁকুড়ার শ্যামরায় মন্দির এবং গোকুলচাঁদ মন্দির। এছাড়া এই স্থাপত্যের অন্যান্য বিভিন্ন মন্দিরও রয়েছে, যা পরবর্তীকালে অন্য রাজারা নির্মাণ করেছিলেন। এগুলো পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া বা মেদিনীপুর জেলায় অথবা বাংলাদেশের যশোর, পুঠিয়া (রাজশাহী), দিনাজপুর ও খুলনা জেলায় দেখতে পাওয়া যায়। অনেকে নবরত্ন স্থাপত্য রীতিটিকে পঞ্চরত্ন স্থাপত্যেরই বর্ধিত রূপ বলে মনে করে থাকে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান