সববাংলায়

পিকাথারটেস

পাখিটির নাম “পিকাথারটেস” (picathartes)। এই ভিন দেশীয় পাখিটির বাস সুদূর মধ্য আফ্রিকার কঙ্গোতে।এরা কঙ্গোতে বসবাস করছে প্রায় ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ বছর ধরে।  প্রধানত বৃষ্টিবহুল অঞ্চলই এই পাখির বেঁচে থাকার একমাত্র নিরাপদ স্থান। পাখিটি তাঁর জীবনের একমাত্র সঙ্গীকে নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। বছরের মাঝে প্রেম নিবেদন পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটলে শুরু হয় বাসা নির্মানের কাজ। এরা কাদা মাটি সমুদ্রতট থেকে ঠোঁটে করে সংগ্রহ করে বাসা নির্মান করে দীর্ঘ ১ মাস ধরে।

 ধৈর্যের ছায়ায় তিলে তিলে তৈরি হতে থাকে mud nest যা কিনা দেখতে অনেকটা আমাদের চা খাত্তয়ার কাপের মতো। উচু টিলা বা পাহাড় গায়ে এই পাখিদের সহস্র বাসা প্রকৃত অর্থেই দৃষ্টিনন্দন। বাসাকে আরামদায়ক বানাতে শুকনো পাতা ডাল শুকনো মাটি দিয়ে সাজিয়ে তোলে তারা। শাবকের জন্ম হলে শুরু হয় আর বাবা-মায়ের আর এক যুগলবন্দী। ২০ দিন পর তারা ডিম ফুটে বেরিয়ে আসে।

 শাবকদের ক্ষুধার্ত চিঁ চিঁ শব্দ অভিভাবকদের ব্যস্ততাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বড়ো হওয়ার সাথে সাথে এদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় অবাক করার মতো! মাথার ওপরের হলুদ টুপির মতো আকৃতি সত্যিই চমকপ্রদ। ক্রমে সময় এগিয়ে চলে আসে বাসা ছেড়ে  প্রথম উড়ান দেওয়ার পালা। বাবা মায়ের উৎসাহিত ডাক তাদের সাহস বাড়ায় আর তারা পারি দেয় স-পরিবারে।মনে পড়ে যায়  আইরিশ ঔপন্যাসিক লিয়াম ও’ফ্লাহার্টির কালজয়ী ছোটগল্প ‘ ‘His First Flight’ এ বর্ণিত সিগ্যাল শাবকের প্রথম উড়ানের কথা।  নীল দিগন্ত ঢেকে যায় হাজার হাজার পাখির এই উৎসবে।

 ওদের  কোলাহলেই যেন বেঁচে থাকে প্রাণবন্ত পরিবেশের সুর।এভাবেই মুক্তির ছন্দে পরিসমাপ্তি ঘটে সহস্রের মধ্যে এক পিকাথারটেসের। চলুন আমরাও উড়ি ওদের ডানার পালক হয়ে! পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায়!

সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading