সববাংলায়

২২ ডিগ্রি সার্কুলার হ্যালো

বিভাগঃ ,

সূর্য কে ঘিরে এক বিশাল বলয় যার মধ্যিখানটা কালো অথচ বাইরের প্রান্তটা রঙিন।এই প্রায় অধরা মহাজাগতিক ঘটনা যে একনিমেষে আমাদের যুক্তিবাদী চেতনাটাকে অবশ করে দিয়েছিল সেটা কিন্তু না মেনে উপায় নেই। এমন এক অদ্ভূত ঘটনার যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দিতে না পেরে মনে কি একবারও আসেনি পৃথিবীর শেষের সেদিনের কৃষ্ণপক্ষের প্রথম দিনটা আজ থেকেই বোধহয় শুরু হল! হলিউডের সিনেমায় দেখা ‘ডুমস্ ডে’-এর শুরুটা তো ঠিক এমনিভাবেই হয় না অনেকটা! যুক্তি যখন ঘটনার বুথে তার এজেন্ট দিতে পারেনা সেখানে চিরকাল ই কুসংস্কার আর অতিকল্পনা একসাথে বুথ জ্যাম করে রিগিং চালায়। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি।আসন্ন প্রবল ভূমিকম্পের ইঙ্গিতবাহী নাকি এই বলয় যদি শহুরে মত হয় তো গ্রামের মত এই বলয় দেশব্যাপী ভয়াবহ খরার সতর্ক বার্তা।গ্রাম শহর,আন্দাজ, ধারণার দ্রাঘিমাংশ অক্ষাংশ পার করে যদি আমরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০০০-৩০০০০ ফুট উচ্চতায় উঠি,মানে ঠিক যে উচ্চতায় যাত্রীবাহী প্লেনগুলো ওড়ে, সেই উচ্চতায় যে ধূসর ঝাপসা ছেঁড়া ছেঁড়া দেখতে মেঘগুলো আকাশে ভেসে বেড়ায় তাদের বলে ‘সিরাস’ মেঘপুঞ্জ।এত উচ্চতায় অবস্থান করার জন্য এই মেঘে জল জমে বরফ হয়ে যায়(এই উচ্চতায় তাপমাত্রা থাকে -২০ থেকে -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।তবে এই বরফ কিন্তু আমাদের ফ্রিজে থাকা বরফের মত দেখতে হয়না মোটেই।বরফ গুলো বিভিন্ন জ্যামিতিক আকার ও আকৃতিতে থাকে।একে ‘আইস ক্রিস্টাল’বলে।এর মধ্যে একটি অন্যতম আকৃতি হল ষড়ভুজাকার।কোনও ভাবে এই ‘সিরাস’ মেঘপুঞ্জ সরে গেলে ষড়ভুজাকৃতি আইস ক্রিস্টাল বা বরফকণাগুলো আকাশে ভেসে বেড়াতে বেড়াতে সূর্যের চারপাশে চলে আসে।এখন যদি বায়ু প্রবাহ কম থাকে তাহলে সূর্যের আলো ঐ ভাসমান ষড়ভুজাকৃতি বরফকণার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় সাতটা রঙে ভেঙ্গে যায় আর ঠিক তখনই তৈরি হয় সূর্যকে ঘিরে সাত রঙের বলয়।তবে এখানে একটা ব্যাপার আছে।বরফের মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলো যাওয়ার সময় যে প্রতিসরণ কোণ তৈরি হবে তা কিন্তু অবশ্যই হতে হবে ২২ ডিগ্রি, একমাত্র তবেই এই পূর্ণ গোলাকার বলয় দেখা যাবে।এই কারণে এই বলয় কে বিজ্ঞানীরা ‘২২ ডিগ্রি সার্কুলার হ্যালো ’বলে থাকেন।শুধু যে সূর্যের বেলায় এমনটা দেখা যায়,তা কিন্তু নয় মোটেই।চাঁদের আলোতেও এমনটা দেখা যায়।২২ ডিগ্রি কোণটা বুঝতে একটা ছোট্ট পরীক্ষা আমরা অনায়াসেই করতে পারি কোন যন্ত্রপাতি ছাড়াই।এরপর যখনই এমন বলয় আমরা দেখতে পাব তখনই ঠিক সূর্য যেখানটায় রয়েছে ওই বরাবর আমাদের বুড়ো আঙুলটা রেখে কড়ে আঙুলটাকে যতটা পারব ছড়িয়ে দেব। যদি দেখি কড়ে আঙুলের ডগা বলয়ের ভেতর প্রান্তভাগ ছুঁয়েছে তাহলে বুঝতে পারব এটা ২২ ডিগ্রি সার্কুলার হ্যালো কেননা আমাদের বুড়ো আঙুলের ডগা থেকে কড়ে আঙুলের ডগা পর্যন্ত মাপটা ২০ ডিগ্রি।এই ধরণের বলয় সাধারণত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়।তবে বৃষ্টি হোক আর না হোক এই বলয় কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য হলেও ফেসবুকে হোয়াটস আ্যপে বুঁদ হয়ে থাকা মুখগুলোকে আকাশের দিকে তাকিয়ে অবাক হতে শেখাল।দেখাল প্রথমবারের জন্য ছোটবেলায় পড়া “টুইংকল টুইংকল লিটল স্টার” ছড়াটির সেই বিখ্যাত চারটি লাইনের শেষ দুই লাইনের অর্থ কি “আপ অ্যাবাভ দ্য ওয়ার্ল্ড সো হাই,/ লাইক অ্য ডায়মন্ড ইন দ্য স্কাই।”


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. https://en.m.wikipedia.org/wiki/22°_halo

 
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading