ভারতীয় জাদুঘর ভ্রমণ

ভারতীয় জাদুঘর ভ্রমণ

ভারতীয় জাদুঘর। চিত্র – ইন্টারনেট

কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় জাদুঘর বা ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম ভারত তথা এশিয়ার প্রাচীনতম এবং বিশ্বের নবম প্রাচীনতম জাদুঘর। ভারতে ড্যানিশ উদ্ভিদতত্ত্ববিদ ড. নাথানিয়েল ওলফ ওয়ালিচ ১৮১৪ সালে ভারতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। কলকাতার ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ‍্যে অন‍্যতম এবং স্থাপত‍্যকলার উজ্জ্বল নিদর্শন হল ভারতীয় জাদুঘর। ভারতীয় জাদুঘরের আগে নাম ছিল এশিয়াটিক সোসাইটি মিউজিয়াম। পরবর্তীকালে ইম্পেরিয়াল মিউজিয়াম নাম হলেও বর্তমানে ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম বা ভারতীয় জাদুঘর নামে অধিক পরিচিত। এই জাদুঘরটিকে ভারতের সংবিধানের সপ্তম তপসিলে জাতীয় গুরুত্বের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কলকাতা এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন থেকে মাত্র ১ কিলোমিটারের মধ্যে সদর স্ট্রিট এবং লিন্ডসে স্ট্রিটের মাঝে জহরলাল নেহেরু রোডের ওপর অবস্থিত ভারতীয় জাদুঘর।

জাদুঘর শব্দটির অর্থ হল যে ঘরে আশ্চর্য, পুরাতন দ্রব‍্য সংরক্ষিত থাকে। এই জাদুঘরে প্রাচীন জিনিসপত্র, মুদ্রা এবং অলংকার, জীবাশ্ম, কঙ্কাল, মমি, মুঘল চিত্রকর্ম প্রভৃতির বিরল সংগ্রহ রয়েছে। ১৭৮৪ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি গঠন হওয়ার পর তাঁদের সদস্যরা নিজেদের গবেষণার জন্য পুরনো দিনের মানুষের তৈরি বস্তু, প্রাকৃতিক সামগ্রী সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।১৮০৮ সালে জাদুঘর তৈরীর কাজ শুরু করা হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার চৌরঙ্গী অঞ্চলে জাদুঘর নির্মাণের জন্য জমি দেয়। ১৮১৪ সালে ড্যানিশ উদ্ভিদবিদ ড. নাথানিয়েল ওলফ ওয়ালিচ সোসাইটিকে চিঠি লিখে এই জাদুঘরের জন্য তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং নিজস্ব সংগ্রহ থেকে কিছু বোটানিক‍্যাল নমুনাও দান করেন। তাঁর আগ্রহ দেখে তাঁকে মিউজিয়ামের অবৈতনিক কিউরেটর পদে নিযুক্ত করা হয়। শুরু হয় জাদুঘরের যাত্রা। বলা হয় তিনিই এই জাদুঘরকে সবচেয়ে বেশি জিনিষ দান করেছিলেন এবং তাঁর আমলে জাদুঘরের পরিধিও বেড়ে উঠতে থাকে।

ড. ওয়ালিচ পদত্যাগ করার পর মাসিক বেতনে কিউরেটর পদে লোক নিয়োগ করা শুরু হয়। ১৮৩৬ সাল পর্যন্ত এশিয়াটিক সোসাইটি থেকেই বেতন আসত, কিন্তু সোসাইটির ব্যাংকার দেউলিয়া হয়ে গেলে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বেতন দেওয়া শুরু করে। ১৮৬৭ সালে বর্তমান জাদুঘরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ১৮৭৫ সালে জওহরলাল নেহেরু রোডে স্যার টম হল্যান্ডের পরামর্শে ভারতীয় জাদুঘরের বর্তমান ভবনটির নকশা করেছেন ওয়াল্টার এল গ্র্যানভিল। ১৮৭৯ সালে সাউথ কেনসিংটনের ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের সংগ্রহের একাংশ এই জাদুঘরে আনা হয়। ১৮৭৮ সালে ভারতীয় জাদুঘরে দুটি  গ‍্যালারী যথা প্রত্নতত্ত্ব গ‍্যালারী ও পাখির গ‍্যালারী জনসাধারণের জন‍্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৯১৬ সালে জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সাহায্যে জাদুঘরে প্রাণীতত্ত্ব বিভাগ চালু হয়। ১৯৪৫ সালে অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সাহায্যে জাদুঘরে নৃতাত্ত্বিক বিভাগ চালু হয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাদুঘরটি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দর্শকদের জন্য বন্ধ ছিল।

ভারতীয় জাদুঘরে যেতে হলে হাওড়া থেকে যে বাসগুলি  জাদুঘরে যাবে সেগুলি করে জাদুঘরে আসতে হবে। সবথেকে বেশি সুবিধা এসপ্ল্যানেড বা পার্কস্ট্রীট মেট্রো স্টেশনে নেমে হাঁটাপথে জাদুঘর যাওয়া যায়। গাড়িতে করেও যাওয়া যায় তবে এই অঞ্চলে পার্কিং-এর অসুবিধা রয়েছে।

জাদুঘরের আশেপাশে বহু হোটেলে থাকবার বন্দোবস্ত রয়েছে। বিভিন্ন মানের এবং দামের হোটেল রয়েছে। এখানে শহরের সেরা কিছু ফাইভ স্টার হোটেলও রয়েছে। হোটেলে আগে থেকে বুক করে রাখা ভালো। তবে হাওড়া বা শিয়ালদহের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ঘুরতে এলে একদিনেই ঘোরা সম্ভব।

ভারতের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম এই জাদুঘরটি দর্শকের মনকে নিয়ে যায় হাজার বছরের পুরনো ইতিহাসের যুগে। এখানে দাঁড়িয়ে আপনি প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারেন। কলকাতার বুকে এই জাদুঘরের ভেতর ইতিহাসের বিভিন্ন যুগের সহাবস্থান দেখতে দেখতে মনে হবে যেন টাইম মেশিনে চেপে যুগ বদলাচ্ছেন। ভারতীয় জাদুঘরে ছয়টি বিভাগ রয়েছে। সেই বিভাগগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন গ্যালারি। ছোট বড় মিলিয়ে গ্যালারিগুলো মোট সংখ্যা ৬০।

শিল্পকলা বিভাগ – এই বিভাগের আওতাধীন গ্যালারিগুলো হল বঙ্গচিত্র গ্যালারি, মুঘলচিত্র গ্যালারি, ডেকোরেটিভ আর্ট অ্যান্ড টেক্সটাইল গ্যালারি, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া গ্যালারি। ডেকোরেটিভ আর্ট অ্যান্ড টেক্সটাইল গ্যালারিতে দেখতে পাবেন প্রাচীনকালের সাজানোর উদ্দেশ্যে বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বেশ কিছু অলংকরণ। এই সমস্ত অলংকরণের মধ্যে রয়েছে কাঠ, পিতল, হাড়, রূপা, হাতির দাঁত, তামা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিস। বঙ্গচিত্র গ্যালারিতে মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যামিনী রায়, ঈশ্বরী প্রসাদ, অসিত হালদার, নন্দলাল বোস, সুনয়নী দেবী এবং আব্দুর রহমান চুঘতাইয়ের মতো বিখ্যাত ভারতীয় শিল্পীদের আঁকা চিত্র রয়েছে। এছাড়াও বিংশ শতাব্দীর বাংলাকে নিয়ে চিত্রিত বিভিন্ন লিথোগ্রাফ, পট্টচিত্র শিল্প এবং তৈলচিত্র এই গ্যালারিতে রয়েছে।

প্রাচীন মমি। চিত্র – ইন্টারনেট

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ – এই বিভাগের আওতাধীন গ্যালারিগুলো হল ভারহুত গ্যালারি, গান্ধার গ্যালারি, মেইন এন্ট্রান্স গ্যালারি, প্রি অ্যান্ড প্রোটো হিস্টোরিক গ্যালারি, মাইনর আর্ট গ্যালারি, লং আর্কিওলজি গ্যালারি, ব্রোঞ্জ গ্যালারি, মুদ্রা গ্যালারি এবং মিশরীয় গ্যালারি।ভারহুত গ্যালারিতে মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলার ভারহুত নামক স্থান থেকে খনন করা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। এখানে রয়েছে প্রথম শতাব্দীর বোধগয়া থেকে প্রাপ্ত রেলিংয়ের টুকরো। বিশ্বাস করা হয় এই রেলিং সেই বোধিবৃক্ষকে ঘিরে ছিল যার নীচে গৌতম বুদ্ধ জ্ঞান লাভ করেছিলেন। গান্ধার গ্যালারিতে রয়েছে গৌতম বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন সময়কে নিয়ে বানানো ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যগুলো আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খনন করা হয়েছিল। লং আর্কিওলজি গ্যালারিতে কুষাণ, গুপ্ত, পাল-সেন, চোল যুগ ইত্যাদি প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন সময়ের ভাস্কর্যের নিদর্শন মেলে। ব্রোঞ্জ গ্যালারীতে চতুর্থ শতক থেকে চোদ্দোশো শতকের ব্যবহৃত ধাতব চিত্রের সংগ্রহ রয়েছে। মিশরীয় গ্যালারির প্রধান আকর্ষণ হল চার হাজার বছরের প্রাচীন মিশরীয় মমি।

নৃতত্ত্ব বিভাগ – এই বিভাগের আওতাধীন গ্যালারিগুলো হল মুখোশ গ্যালারি, সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান গ্যালারি, মানব জীবাশ্ম গ্যালারি এবং বাদ্যযন্ত্র গ্যালারি। এই গ্যালারিতে সারা দেশের উপজাতীয় উৎসবের সময় ব্যবহৃত মুখোশের পাশাপাশি ভুটান এবং নিউ গিনির মুখোশের সংগ্রহ রয়েছে।

ভূতত্ত্ব বিভাগ – এই বিভাগের আওতাধীন গ্যালারিগুলো হল শিবালিক গ্যালারি, অমেরুদণ্ডী জীবাশ্ম গ্যালারি, শিলা ও খনিজ গ্যালারি, পৃথিবী ও উল্কার সাথে রত্ন গ্যালারি।

হাতির নমুনা। চিত্র – ইন্টারনেট

প্রাণীবিদ্যা বিভাগ – এই বিভাগের আওতাধীন গ্যালারিগুলো হল মাছ গ্যালারি, উভচর ও সরীসৃপ গ্যালারি, পাখি গ্যালারি, স্তন্যপায়ী গ্যালারি এবং বাস্তুশাস্ত্র গ্যালারি। প্রাণীবিদ্যার গ্যালারিগুলি ১৮৭৮ সালে ভারতীয় জাদুঘরে স্থাপিত হয়েছিল। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষামূলক নমুনা প্রদর্শন ও সংরক্ষণ স্তন্যপায়ী গ্যালারিতে কয়েকটি শতাধিক বছর প্রাচীন স্টাফড স্তন্যপায়ী প্রাণী, তাদের শিং, কঙ্কাল, মাথার খুলি ইত্যাদি রয়েছে। পাখি গ্যালারিতে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখির নমুনা, তাদের বেঁচে থাকার ধরণ এবং বাস্তুতন্ত্র ইত্যাদির নমুনা রাখা আছে। পাখি গ্যালারি সংলগ্ন একটি পোকা গ্যালারিও রয়েছে।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ – এই বিভাগে ভারতীয় গাছপালা, কাঠ, খাদ্য পণ্য, ঔষধি পণ্য, উদ্ভিজ্জ ফাইবার, তেল, তৈলবীজ এবং ভারতের বিভিন্ন ফসলের বিস্তারিত তথ্য আছে।

মুদ্রা গ‍্যালারি – উপরিউক্ত বিভাগগুলো ছাড়া ভারতীয় জাদুঘরে বিশেষ আর্কষণ মুদ্রা গ‍্যালারি। এই গ্যালারিতে রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত বাহান্ন হাজারেরও বেশি মুদ্রার একটি অদ্বিতীয় সংগ্রহ।

জাদুঘরের গ্রন্থাগার – মুদ্রা গ‍্যালারির কাছে অবস্থিত এই গ্রন্থাগারে পঞ্চাশ হাজার বই ও জার্নালের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। এই গ্রন্থাগারের সদস্যপদ পেতে গেলে প্রতিবছর ৫০ টাকা দিতে হবে। গ্রন্থাগার খোলার সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রত‍্যেক মাসের দ্বিতীয় শনিবার, রবিবার, সোমবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন গ্রন্থাগার বন্ধ থাকে।

ভারতীয় জাদুঘরে সোমবার বাদে সপ্তাহে যেকোন দিন যাওয়া যেতে পারে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা অবধি ভারতীয় জাদুঘর খোলা থাকে। সরকারী ছুটির দিনে জাদুঘর বন্ধ থাকে। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জাদুঘরের প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের কোনো প্রবেশমূল্য লাগে না এবং তার ওপরে শিশুদের প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে প্রবেশ করতে দেয়, তবে আগে থেকে জাদুঘরের কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া উচিত যাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়। জাদুঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্মার্টফোনে ছবি তুলতে ৫০ টাকা লাগে, ক্যামেরার ক্ষেত্রে লাগে ১০০ টাকা। ছোট ভিডিও ক্যামেরার জন্য ২০০০ টাকা লাগে এবং স্ট্যান্ডসহ ক্যামেরার জন্য লাগে ৫০০০ টাকা। এগুলোর জন্য আলাদা টিকিট করে নিয়ে প্রবেশ করা উচিত, না হলে অতিরিক্ত চার্জ  দিতে হতে পারে। টিকিট কাউন্টার ছাড়াও জাদুঘরের নিজস্ব সাইটে অনলাইন প্রবেশের টিকিট এবং ক্যামেরার টিকিট পাওয়া যায়। ব‍্যাগ জমা করতে হয় কিন্তু এক্ষেত্রে কোন চার্জ লাগে না। প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য হুইল চেয়ার, লিফটের  সুবিধা রয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ভারহুত গ্যালারিতে ব্রেইলিতে বর্ণনার সুবিধা রয়েছে। অন্যান্য গ্যালারির বর্ণনা ব্রেইলিতে শীঘ্রই চালু করার কাজ চলছে।

জাদুঘরের পিছনে অবস্থিত ক‍্যাফেটারিয়ায় দুপুরে খাবার পাওয়া যায়। এটি সকলের জন্য দুপুর ১২টা  থেকে ৩টে পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার ও প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় শনিবার ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকে। জাদুঘরের একতলায় আর ও ফিল্টারযুক্ত (RO Filter) পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে।

ভারতীয় জাদুঘরের মিউজিয়াম শপে ম্যাগাজিন, শিশুদের জন‍্য বই,ক‍্যাটালগ ইত্যাদি পাওয়া যায়। এছাড়াও আর্ট অ্যালবাম, ছবি, পোস্ট কার্ড, প্রতিলিপি বিক্রি হয়। জাদুঘর সম্পর্কিত যেকোন তথ্যের জন্য তথ্যডেস্কের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।


ট্রিপ ট্রিপস

  • কীভাবে যাবেন – হাওড়া থেকে জাদুঘরে বাসে করে যাওয়া যায়। সবচেয়ে সুবিধা এসপ্ল্যানেড বা পার্কস্ট্রিট মেট্রো স্টেশন থেকে পায়ে হাঁটা পথে এখানে যাওয়া যাবে।
  • কোথায় থাকবেন – হাওড়া বা শিয়ালদহের  আশেপাশে অঞ্চল থেকে জাদুঘরে বেড়াতে গেলে একদিনেই এটি ঘুরে বাড়ি ফেরা সম্ভব। তবে দূর থেকে জাদুঘরে এলে বহু হোটেলে থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে।
  • কি দেখবেন – হাজার হাজার বছরের ইতিহাসের সংগ্রহ, বিভিন্ন প্রাচীন সময়ের মুদ্রার সংগ্রহ, ভাস্কর্যশিল্প, নৃতত্ত্বের নমুনা, বিভিন্ন সময়ের জীবাশ্ম, ৪০০০ বছরের পুরনো মমি, ইত্যাদি আরও প্রাচীন সময়ের বহু সংরক্ষিত দ্রব‍্য।
  • কখন যাবেন – সারাবছর সোমবার বাদে সপ্তাহে যেকোন দিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা অবধি খোলা থাকে।
  • সতর্কতা
    • সরকারী ছুটির দিন জাদুঘর বন্ধ থাকে।
    • ক‍্যাফেটারিয়া দুপুরের খাবারের জন্য দুপুর ১২টা  থেকে ৩ টে পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার ও প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় শনিবার ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকে।
    • প্রত‍্যেক মাসের দ্বিতীয় শনিবার, রবিবার, সোমবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন গ্রন্থাগার বন্ধ থাকে।
    • জাদুঘরে আপনারা বিভিন্ন দ্রব্য (মোবাইল, ক্যামেরা ইত্যাদি) নিয়ে প্রবেশ করলে বিভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করা আছে, সেগুলির জন্য টিকিট কেটে প্রবেশ করবেন, অন্যথায় জরিমানা দিতে হতে পারে।
    • গাড়িতে করেও জাদুঘর যাওয়া যায় তবে এই অঞ্চলে পার্কিং-এর অসুবিধা রয়েছে।
  • বিশেষ পরামর্শ
    • জাদুঘরের নিজস্ব সাইটে অনলাইন টিকিট কেটে আসলে ভিড় এড়িয়ে তাড়াতাড়ি প্রবেশ করতে পারবেন।
    • বিনামুল্যে গাইডের বিশেষ সুবিধা রয়েছে। গাইড বা জাদুঘর সম্পর্কিত তথ্যের জন্য তথ্যডেস্কের সাথে যোগাযোগ করুন।

আপনার মতামত জানান