সববাংলায়

ভোলু দ্য এলিফ্যান্ট

ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার এক অন্যতম মাধ্যম রেল ব্যবস্থা। ভারতীয় রেল বিশ্বের বৃহত্তম রেলব্যবস্থা। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন হয় ভারতীয় রেলের মাধ্যমে। এই ভারতীয় রেলের ম্যাসকট হল ভোলু দ্য এলিফ্যান্ট।’ (Bholu)  ভারতীয় রেল তাঁর দেড়শো বছর  পুর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁদের ম্যাসকট ভোলুকে  জনসাধারণের সঙ্গে পরিচয় করায়।

ভোলু দ্য এলিফ্যান্ট | সববাংলায়
তথ্যচিত্রটি দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন

ভারতীয় রেল স্থাপিত হয় ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল। লর্ড ডালহৌসিকে ভারতীয় রেলের জনক বলা হয়।  প্রথম যাত্রীবাহী রেলপথটি ছিল বোম্বে থেকে থানে অবধি। ইংরেজরা রেলপথ স্হাপন করেছিলেন  ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে। পরবর্তীকালে এই রেলপথই হয়ে ওঠে ভারতবর্ষের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে  ভারতীয় রেল পৃ‌থিবীর মধ্যে অষ্টম স্থানে রয়েছে ।

ভারতীয় রেলের দেড়শো বছর সম্পন্ন হয় ২০০২ সালে। সেই সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভারতীয় রেল প্রথম তাঁদের ম্যাসকটকে ভারতবাসীর সাথে  পরিচয় করান। এই ম্যাসকটটি হল একটি হাতির রূপ যাঁর পোশাকি  নাম ‘ভোলু দ্য এলিফ্যান্ট’ এবং ডাকনাম ‘ভোলু’। ২০০২ সালের ১৬ এপ্রিল বেঙ্গালুরু স্টেশনে ভোলুর প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে।

ভোলুর পরণে সাদা শার্ট, সাদা ট্রাউজার, নীল কোট। মাথায় নীল সাদা টুপি এবং বাঁ হাতে একটি লন্ঠন যার মধ্যে সবুজ আলো জ্বলছে। ভোলুর এই রূপটি তৈরির দেওয়া হয়েছিল ন্যাশানাল ইনষ্টিটিউট অফ ডিজাইন কে। ভোলুর আত্মপ্রকাশের দিন অর্থাৎ ২০০২ সালের ১৬ এপ্রিল  কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু ষ্টেশনের এক নং প্ল্যাটফর্ম থেকে ৬টা ২৫ মিনিটের কর্ণাটক এক্সপ্রেস ছাড়ার সময় প্রথম সবুজ আলো দেখায় ভোলু। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোলুরও  যাত্রা শুরু হয়। এর একবছরের মধ্যেই ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন যে তাঁরা ভোলুকে ভারতীয় রেলের সাথে পাকাপাকিভাবে রেখে দিতে আগ্রহী।  হাতিকেই ভারতীয় রেলের ম্যাসকট হিসেবে ভাবার মধ্যে কয়েকটি যুক্তি দেখিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

প্রথমত, হাতি স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে আকৃতিতে সবচেয়ে বড় যা ভারতীয় রেলের সাথে সম্বন্ধীয়। ভারতীয় রেল পরিবহনও হাতির মতই বিশাল। দ্বিতীয়ত, হাতি আকারে বিশাল হলেও তাঁর স্বভাব অত্যন্ত নম্র এবং বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগী মনোভাবের যেমন ভারতীয় রেলের পরিষেবাগুলিও বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভারতীয় রেল যাত্রীদের সাথে তাঁদের সমস্ত সমস্যায় সহযোগিতা করে থাকে। তৃতীয়ত, হাতিকে সেই প্রাচীন কাল থেকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে দেখা গিয়েছে। সর্বশেষে হাতি হল বিশ্বস্ত প্রাণী যার বিশ্বস্ততা ভারতীয় রেলের প্রতীকী । এই সমস্ত বিষয়গুলিকে মাথায় রেখেই ভারতীয় রেল তাদের ম্যাসকট হিসেবে হাতিকে ব্যবহার করেছে।

ভোলুর হাতে একটি সবুজ আলোর লন্ঠন দেখা যায়। এই সবুজ আলোর অর্থ হল গতি যা  রেলের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। এছাড়াও সবুজ আলো দেখিয়ে ভোলু যাত্রীদের যাত্রাপথের সুরক্ষা ও শুভেচ্ছা কামনা করে। ভারতীয় রেলের ম্যাসকটটি প্রকৃত অর্থে ভারতীয় রেলের গতি, পরিষেবা ও আয়তনকে ঈঙ্গিত করে। যেদিন ভোলু প্রথমবার কর্ণাটক এক্সপ্রেসের যাত্রাপথের সূচনা করে সেইদিন বেঙ্গালুরু ষ্টেশনে মিষ্টি ও চকলেট বিলি করা হয়েছিল জনগণের মধ্যে।  

২০০৩ সালের ২৩ মার্চ ‘ভোলু দ্য এলিফ্যান্ট’ কে ভারতীয় রেলের অফিসিয়াল ম্যাসকট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই বছরই ভারতীয় রেল ‘ভোলু’ র সম্মানার্থে একটি দুটাকার কয়েন চালু করে। খুব অল্পদিনের মধ্যেই ভোলুর জনপ্রিয়তা জনসাধারণের মধ্যে বৃদ্ধি পায়। শিশু থেকে বড় সকলেরই প্রিয় হয়ে ওঠে ‘ভোলু’। ভারতীয় রেলের আধিকারিকদের মতে ভোলু খুবই দায়িত্বপূর্ণ, বিশ্বস্ত, সুরক্ষিত এবং সহযোগী পরিষেবা প্রদানের যথার্থ প্রতীকী।

ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যতদিন ভারতীয় রেল থাকবে ততদিন ‘ভোলু দ্য এলিফ্যান্ট’ থাকবে তাদের ম্যাসকট হিসেবে। প্রায় কুড়ি বছর ধরে ভোলু ভারতীয় রেল পরিষেবার সাথে যুক্ত। অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্যের ম্যাসকটগুলির মতই ‘ভোলু’ও ভারতে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading