হাওড়া জেলার পাঁচলা ব্লকের অন্তর্গত একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম হল দেউলপুর।কলকাতা থেকে ২৪ কি.মি দূরে অবস্থিত এই গ্রামের বয়স শতাব্দী প্রাচীন।দেউল শব্দের অর্থ মন্দির।এই গ্রামে অসংখ্য দেবদেউল অবস্থিত যা যথেষ্ট প্রাচীনত্বের দাবী রাখে।মনে করা হয় এই দেউলের সংখ্যাধিক্যই এই গ্রামের ‘দেউলপুর’ নামকরণের কারণ।

এ গ্রামের বিখ্যাত মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম বিহারীলাল কোলে ও রায় বাহাদুর তিনকড়ি বিশ্বাস।এছাড়া এখানকার মুখার্জ্জি পরিবারের কৃষ্ণহরি মহাশয় ইংরেজ সরকারের সেনা বিভাগের একজন উর্দ্ধতন কর্মচারী।এছাড়াও অন্যতম বিখ্যাত মানুষ হলেন বিশ্বম্ভর মুখার্জ্জি।দেউলপুরের অন্যতম একজন বিখ্যাত মানুষ হলেন শ্রী লক্ষ্মীকান্ত দে তিনি অবিভক্ত বাংলার b.c.s পাশ করে s.d.o হয়েছিলেন।
এই এলাকার খ্যাতনামা কবিরাজ ছিলেন ডাঃ সতীশ চন্দ্র ঢ্যাং এবং ডাঃ প্রসাদ চন্দ্র দাস।
এই গ্রামের ভূমিপুত্র না হলেও এই গ্রামকে যিনি সারা বাংলায় পরিচিতি দান করেছিলেন তিনি বাংলা সাহিত্যের ‘কাস্তে কবি’ দীনেশ দাশ।১৯৪৮ সালে দেউলপুর হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন এই বিখ্যাত কবি। মাত্র এক বছর ছিলেন। পরে চলে যান কোলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউশনে।
এই গ্রামে বেশ কিছু শতাব্দী প্রাচীন বিদ্যালয় রয়েছে যাদের ছাত্র ছাত্রীরা জাতীয় স্তরে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গ্রামের নাম উজ্জ্বল করেছে।
দেউলপুর বাঁধের বাজারের পার্শ্বে এবং প্রবহমান কৌশিকী নদীর তীরে গোলপাতার ছাউনি দিয়ে একটি ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল ১৮৫৭ সালে যার ভূমিদাতা হলেন জনদরদী শ্রী আনন্দমোহন দে। পরবর্তীকালে ১৯১৯ সালে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত হয় অনুকূলচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের দানকৃত জমির উপর।যার বর্তমান নাম খসমরা উচ্চ বিদ্যালয়।
দেউলপুর হাইস্কুলের জন্ম ১৯০৪। দেউলপুরের জমিদার জটিরাম ঘোষ মহাশয়ের এক নিকট আত্মীয় শ্রী হরিদাস সরকার মহাশয় যিনি ছিলেন পরবর্তী জমিদার। তাঁর দান করা ভূখণ্ডের ওপর স্থাপিত হয় মাটির দেওয়াল ও খড়ের ছাউনি দেওয়া বিদ্যালয়।এই প্রচেষ্টায় তাঁকে সাহায্য করেন পানিহিজলি নিবাসী অমৃতলাল রায় মহাশয়। তিনি ছিলেন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।এনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন দেউলপুর নিবাসী শ্রী মন্মথনাথ চক্রবর্তী মহাশয়।দেউলপুর মাধ্যমিক স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিকে রূপান্তরিত করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন কৃষ্ণধন চট্টোপাধ্যায়, মধুসূদন দে, শিবপদ চট্টপাধ্যায়, মনমোহন বিশ্বাস, তারাপদ সরকার প্রমুখ।১৯৪৫ সালে শুরু হয় সপ্তম শ্রেণীর পাঠ।
দেউলপুর নিবাসী শ্রী আশুতোষ ভট্টাচার্য ও আরো কিছু মহৎ ব্যক্তিগণের চেষ্টায় ১৯০৫ সালে স্থাপিত হয় দেউলপুর বোর্ড গার্লস।জমিদাতা ছিলেন স্বনামধন্য ডাঃ হীরালাল ঘোষ।
খসমরা হাইস্কুলের করণিক শ্রী চরণ পন্ডিত মহাশয়ের নেতৃত্বে শ্রী সুধীর চন্দ্র মাল মহাশয়ের দান করা জমিতে ১৯৪৬ সালে দেউলপুর জাতীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
দেউলপুর রথতলায় হরিবাসরের আটচালায় চুলচুলে খ্যাত গুরু মহাশয়ের পাঠশালা ছিল।নাম যতীন্দ্রনাথ কোলে।ক্রমে পাঠশালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর হয়।এটাই আজকের দেউলপুর পরগণা প্রাথমিক বিদ্যালয়।যা পরবর্তীকালে দেউলপুর পরগণা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়।
এই গ্রামে বেশ কিছু স্থানীয় বিখ্যাত মন্দির রয়েছে।দেউলপুরের পশ্চিমপাড়ায় তৎকালীন জমিদার জটিরাম ঘোষের বসতবাড়ির কাছেই অবস্থিত হরেশ্বর শিবের মন্দিরটি সারা পশ্চিমবঙ্গে এক বিরল স্থাপত্য রীতির নিদর্শন।প্রতিষ্ঠাতা জটিরাম ঘোষ ও অবিনাশ ঘোষ। প্রতিষ্ঠা কাল ১২শ বঙ্গাব্দ ।মন্দিরটির চালাগুলি ত্রিরথ সমন্বিত। মন্দিরটির চারদিকে বাঁকানো কার্নিশের নিচে এক সারি করে পোড়া মাটির ঘোড়া, সিংহ, হাতি, ভালুক এবং পৌরাণিক দেব দেবীর কাহিনী চিত্র খোদাই করা রয়েছে।
দেউলপুর শিবতলায় যে বারোয়ারি শিবমন্দিরটি রয়েছে মনে করা হয় সেটি আনুমানিক ২৫০-৩০০ বছর পুরানো।শ্রী জয়দেব বাগ মহাশয় এই মন্দিরের জন্যে অর্থ প্রদান করেন।এই শিবতলা প্রাঙ্গনেই আজ প্রায় তিনশো বছর ধরে এলাকার চাষীদের দ্বারা শ্যামা কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
এলাকার অন্যতম বিখ্যাত মন্দির হল বাবা পঞ্চানন্দ ঠাকুরের মন্দির।এই দেবতা দেউলপুর পশ্চিমপাড়ার মুখোপাধ্যায় পরিবারের পারিবারিক নিত্য পূজিত দেবতা। জনশ্রুতি অনুযায়ী প্রায় চারশো বছর আগে এই পরিবারের কোন এক পূর্ব পুরুষ এই দেবতাকে তাদের একমাত্র উপাস্য দেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। মূর্তিটি মাটির।এই মন্দির যেদিন প্রতিষ্ঠা হয় সেই একই দিনে সিংহবাহিনী দেবীর প্রতিষ্ঠা হয়।
এই সিংহবাহিনী মন্দিরটি দেউলপুর পূর্ব পাড়ায় অবস্থিত। ১৩৯০ বঙ্গাব্দে ২রা ফাল্গুন দেবীর নব কলেবর মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়।সিংহবাহিনী দেবীর সবথেকে বড় উৎসব হল দুর্গা নবমীর দিন।হাজারে হাজারে ভক্ত সমাগমে মন্দির চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে।
দেউলপুরে ধর্ম পূজার প্রচলন হয় আজ থেকে প্রায় চারশো বছর আগে। প্রতিষ্ঠাতা বংশের সদস্যদের মতানুযায়ী যুগী বা পণ্ডিত পদবীর পূর্ব পুরুষেরা এই ধর্ম পূজার প্রচলন করেছিলেন প্রথম। আগে এটি পারিবারিক পূজা হিসেবে প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে এটি বারোয়ারী পূজায় পরিণত হয়েছে।|
বাঁধের বাজারের কাছে দেউলপুরে একটি ধর্ম ঠাকুর ছিল।এটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাহিষ্য সম্প্রদায়ভুক্ত পণ্ডিত।
গোন্ডলপাড়ার হালদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা দেবী চণ্ডীর মন্দিরটি ইট নির্মিত দক্ষিণমুখী জোড়া বাংলো মন্দির। বাংলায় বিশেষত হাওড়ায় এ ধরণের মন্দির খুব একটা দেখা যায়না।টেরাকোটা শিল্পরীতির এই মন্দিরের টেরাকোটা কাজগুলি বর্তমানে ধবংসের মুখে। এই মন্দিরটির গর্ভগৃহে প্রায় ২ ফুট উচ্চতার কাঠের বুদ্ধমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল যেটির গঠন ও রঙে দঃ পূঃ এশিয়ার প্রভাব প্রকট।বর্তমানে মন্দিরটি বাগনানের ‘ আনন্দ নিকেতন কীর্তিশালা’ সংগ্রাহলয়ে রক্ষিত রয়েছে।
এখানকার অন্যতম আরাধ্য দেবী ওলাবিবি।ওলাবিবি দেবীর পূজার বিশেষত্ব এই যে ভক্তরা সকলে হিন্দু পূজারি মুসলমান মৌলবী।এই দেবী হিসেবে দুই খন্ড পাথরকে পূজা করা হয়।পূজার দিন দেবীর বন্দনা করে গান হয়।গান করেন হিন্দু ভক্তরা।
এই গ্রামের পাশ দিয়েই এক সময় প্রবাহিত হত কৌশিকী নদী।দে পাড়া প্রাইমারি স্কুলের পাশ থেকে দেউলপুর সূর্যমুখী আশ্রম পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার চওড়া জলাশয় টি অতীতের কৌশিকী নদী।নদীর এই বিস্তৃত অংশের মধ্যে রয়েছে চাপড়ার বাঁধ, ডাক্তারের বেড়, শিমূল চাপড়ার বাঁধ।আজকের পরগণা দেউলপুর হাইস্কুল ও পরগণা দেউলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মূল নদীর খাদের ওপরই গড়ে উঠেছে।দক্ষিণ রাঢ় সভ্যতার অন্তর্গত দেউলপুর এর ওপর দিয়ে যে কৌশিকী নদী বয়ে গেছিল একদা তা কানা দামোদর হিসেবে বর্ধমানের জামালপুর থানার সেলিমাবাদ এলাকা থেকে বেরিয়ে হুগলির ওপর দিয়ে আঞ্চলিক নাম নিয়ে ভাগীরথীতে মিশেছে। এই কৌশিকী এক সময় দামোদরের মূল খাত এবং প্রচন্ড খরস্রোতা ছিল। আজ ভাবতে অবাক লাগে একসময় এতই গভীর ছিল এই কৌশিকী যে এর মধ্যে দিয়ে জাহাজে করে বাণিজ্যও চলত।একথা মনে করা হয় কৌশিকীর সরস্বতী নদীর সঙ্গে যে যোগসূত্র ছিল তার কিছু প্রমাণ আজও বর্তমান রয়েছে বাগের ঘাট, ভাণ্ডারীর ঘাট, হয়ে বাঁধের বাজারের পাশ দিয়ে খসমরা, রুদ্রপুর, ওয়াদিপুর- কেশবপুর সীমা বরাবর সরস্বতীতে মিশেছে।প্রাচীন প্রবাদ অনুযায়ী এই নদীর উপর দিয়েই নাকি সিরাজদ্দৌলা বজরায় চেপে আদি গঙ্গায় গিয়েছিলেন।
দেউলপুর চাচারি শিল্পের জন্য বেশ প্রসিদ্ধ।প্রায় ২০০ বছর ধরে এই কাজ এখানে হয়ে আসছে।
আজ থেকে সত্তর আশি বছর আগে এখানকার ভূমিপুত্র জীবন শাসমল এলাকায় চাবি তালা শিল্প শুরু করেছিলেন। বর্তমানে অবশ্য এই শিল্প কেন্দ্রিভূত হয়েছে পার্শ্ববর্তী জুজারশা অঞ্চলে।
দেউলপুরকে সারা ভারতে এক স্বতন্ত্র জায়গা দিয়েছে তার পোলো বল।একটা সময় ছিল গোটা ভারতে এখানেই একমাত্র বাঁশের তৈরি পোলো বল তৈরি হত।এই গ্রামে তৈরি বাঁশের গোড়ার পোলো বলের চাহিদা দেশে তো বটেই, বিদেশেও ছিল।। পোলো বলের সঙ্গে জড়িত ছিল কমপক্ষে ৫০টি পরিবার। এই কাজে দক্ষ ছিলেন প্রায় শ’দুয়েক মানুষ।বিপিনবিহারী বাগের হাত ধরেই দেউলপুরে পোলো বল তৈরি শুরু। পেশায় চাষী বিপিনবিহারী এক বন্ধু মারফত কথায় কথায় জানতে পারেন সাহেবরা পোলো নামক এক ধরণের খেলা খেলে যার বলটা কাঠের হয়।কিন্তু কাঠের বল ভারী হওয়ায় মাটিতে ততটা গড়ায় না। চাষের ফাঁকে বিপিন বসে ভাবেন, কী করে এমন বল তৈরি করা যায় যা কাঠের বলের থেকে জোড়ে ছুটবে! হঠাৎ তাঁর মাথায় এল এক ফন্দি! ঝাড়ে বাঁশ কাটার পর শিকড় সমেত পড়ে থাকে গোড়াটা। এই শিকড়ের গোড়াকে চলতি ভাষায় বলে জর। তা দিয়ে তো পোলো বল তৈরি করা যেতে পারে! সেই হল দেউলপুরে বাঁশের পোলো বলের জন্মলগ্ন। বাঁশের তৈরি বলে পোলো খেলে ইংরেজরা বেজায় খুশি।বাঁশের জর দিয়ে পোলো বল তৈরি করতে বেশ কিছু পদ্ধতি লাগে।জরকে প্রথমে লম্বা করে কেটে তারপর তাকে কেটে কেটে গোল করতে হবে। গোল হয়ে গেলে শিরিষ কাগজ দিয়ে মসৃণ করতে হবে। মসৃণ করার পর সাদা পাউডার আর শিরিষ আঠা দিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে বলের গায়ে সমান ভাবে মাখাতে হবে। শুকিয়ে গেলে আবার শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষতে হবে। এরপর এনামেল বা তেল রং দিয়ে রং করে শুকিয়ে নিলেই তৈরি পোলো বল।বিপিনের বানানো পোলো বল এতটাই উচ্চমানের হল যে, অন্য কোনও বলে পোলো খেলা বন্ধ হয়ে গেল। ইংরেজরা বিপিনের পোলো বল বিক্রির জন্য খুলে বসলেন কোম্পানি। ১৬৮ ধর্মতলা স্ট্রিটে। নাম– Eroom & co. । এক মেমসাহেব ছিলেন মালকিন। তাঁর নামেই কোম্পানির নাম। বছরে আড়াই লক্ষ বল সরবরাহ করতেন বিপিন। ১৯৪৭-এ স্বাধীনতার পর দেশ ছাড়লেন মেমসাহেব। যাওয়ার সময় কোম্পনিটি বিক্রি করতে চাইলেন বিপিনকে! দাম? মাত্র ৫৫০ টাকা। কিন্তু কেনেননি বিপিন।বিপিনবিহারী বাগের মৃত্যুর পর তাঁর দুই ছেলে সতীশচন্দ্র আর যুগলকৃষ্ণ হাল ধরলেন এ ব্যবসার। ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠল। ওঁরা সোজাসুজি ইংল্যান্ডে বল রফতানি করতে লাগলেন।ইংল্যান্ডের J.Salter&co. ওদের সমস্ত বল কিনে নিত। দেউলপুরের এই জায়গাটার নামই হয়ে গেল পোলো গ্রাম। রাতভর কাজ করতেন ১৫জন কর্মী!প্রায় গোটা দেউলপুর পোলো ভুললেও তিন পুরুষের ব্যবসা বজায় রেখেছেন আজও সুভাষ বাগ।বিপিনবিহারী বাগের নাতি। আমাদের দেশের পোলো গ্রাউন্ডে তিনি পরিচিত ‘বাগ দাদা’ নামে৷তাঁর বানানো স্টিকেই পোলো খেলেন সমীর সোহাগ, ভিশাল চৌহান থেকে করিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুর, নবীন জিন্দলের মতো শিল্পপতিরা৷সব সাম্রাজ্যের যেমন পতন আসে তেমনই শতাব্দী প্রাচীন এই শিল্প ধীরে ধীরে গোটাতে থাকে৷ নব্বইয়ের দশকে আর্জেন্টিনার পোলো বল বাজার ছেয়ে যাওয়ায় বাঁশের ‘জর’ দিয়ে হাতে তৈরি বল কোণঠাসা হয়ে পড়ে৷ সুভাষ এখন পোলো স্টিক বানান৷শুরু পোলো স্টিক থেকে তারপর পোলো খেলার যাবতীয় সরঞ্জাম৷সুভাষবাবুর দাবি মত, গোটা দেশে তিনিই একমাত্র এই স্টিক বানান৷ হর্স, সাইকেল, ক্যামেল, এলিফ্যান্ট পোলো স্টিক তৈরি করেন সুভাষবাবু৷ হর্স পোলো স্টিক বানানোর জন্য মালয়েশিয়া থেকে বেত আনেন তিনি৷
দেউলপুরে মেছো বেড়াল যা স্থানীয় ভাবে বাঘরোল তার যথেষ্ট দেখা মেলে।সারা বাংলায় তরাই উপত্যকা ছাড়া এই দেউলপুর ও তার আশেপাশের কিছু অঞ্চলে হিমালয়ান ক্রে সজারুর দেখাও মেলে।
পাঞ্জাবের সংসারপুর হকির গ্রাম হিসেবে খ্যাত৷ যেখানে ঘরে ঘরে অলিম্পিয়ান৷ অথবা হরিয়ানার ভিওয়ানি৷যেখানে ঘরে ঘরে বক্সার।তেমনি বাংলার দেউলপুর।যেখানে ঘরে ঘরে ভারোত্তোলোক।সারা বাংলার জাতীয় স্তরে রাজ্যের প্রতিনিধিদের সিংহভাগই এই গ্রামের৷ এই অঞ্চলে ভারোত্তোলনের শুরু সীমা গোলুই, পার্বতী ভট্টাচার্যের হাত ধরে৷ যাঁরা ছিলেন ছায়া আদকের সমসাময়িক৷ জাতীয় ভারোত্তোলনে মেয়েদের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল আটের দশকের শেষে৷ আন্দুলের ছায়া প্রথম সোনাজয়ী৷ সেই সময়েই আন্দুল থেকে কিছু দূরের দেউলপুরে শুরু ভারোত্তোলনের যুগ৷ হাওড়া জেলা ভারোত্তোলন সংস্থার সচিব বাবুলাল মুখোপাধ্যায়ের কথায়;তারপর দেউলপুর অঞ্চল থেকে উঠে এসেছে শ্রীকান্ত মুদি, অনিমেষ মাল, গৌরব শেঠরা৷ পরের পর প্রজন্ম আগের জনকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে৷ পরে এসেছে শম্পা, জ্যোতি মাল৷এখন শ্রাবণী দাস, সুকর্ণা আদক, তনুশ্রী মণ্ডল এই ধারাকে উত্তুঙ্গ সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- https://soki.in/deulpur-panchla-howrah
- https://bengali.news18.com/
- https://eisamay.indiatimes.com/
- https://bn.wikipedia.org/
- দেউলপুর ও তৎসংলগ্ন এলাকার সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত ঃ সম্পাদনা-সুজিত বাঁক; প্রকাশনাঃ দেউলপুর পাব্লিক লাইব্রেরী(রুর্যাল)


আপনার মতামত জানান