ছোটবেলায় নতুন বছর মানেই অবশ্য কর্তব্য ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ লেখা গ্রিটিং কার্ড দেওয়া বন্ধুদের। শুধু দেওয়া নয় তাদের থেকে একইভাবে কার্ড পাওয়ার প্রত্যাশাও রাখা। কিন্তু কার্ডের স্রোতে আর শুভেচ্ছার ভিড়ে আমাদের খেয়ালই হয়না কেনই বা দেওয়া হয় গ্রিটিং কার্ড আর কবে থেকেই বা শুরু হল এই রীতি?
নববর্ষে গ্রিটিং কার্ড দেওয়ার এই রীতি সর্বপ্রথম চালু হয় চীনাদের হাত ধরে। প্রাচীন মিশরীয়দের মধ্যেও শুভেচ্ছা জানানোর এই রীতি ছিল, তবে তা মূলত প্যাপিরাসে লেখা হত। আধুনিক যে কাগজের গ্রিটিং কার্ড, যা সাধারণত আমরা সবাই ছোটবেলায় কম বেশি দিয়েছি এবং পেয়েছি তার উৎপত্তি জার্মানিতে।চোদ্দশো শতক নাগাদ কাঠের ব্লকে কালির ছাপ দিয়ে কাগজে লেখা শুভেচ্ছা জানানোর ঐতিহাসিক প্রমাণ জার্মানদের মধ্যে পাওয়া যায়।
নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর যে রীতি গ্রিটিং কার্ডের মাধ্যমে তার সূচনা ইউরোপে হয়।তবে সূচনা কালে তা ছিল প্রধানত ক্রিসমাসের শুভেচ্ছার সাথে নববর্ষেরটাও জানিয়ে দেওয়া।
কোন কোন সূত্র মতে ইউরোপে এই গ্রিটিং কার্ডের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর রীতি প্রথম শুরু হয় স্কটল্যান্ডের টমাস শরক (Thomas Shorrock)এর হাত ধরে যিনি ১৮৪০-এ প্রথম হাসিখুশি মুখের ছবি সহ একটি কার্ড ছাপেন যাতে লেখা ছিল- ” A Gude year to ye”.
তবে আধুনিক গ্রিটিংসের প্রচলনে স্যার হেনরি কোলের অবদান সর্বাধিক বলে মনে করা হয়।ইনি ছিলেন লন্ডনের ভিক্টরিয়া এবং আলবার্ট মিউজিয়ামের প্রথম ডিরেক্টর। ১৮৪৩ -এ তিনি জন ক্যালকট হর্সলে-কে দায়িত্ব দেন এক হাজার পিস খোদাই করা কার্ড বানাতে তার পরিচিতদের দেবেন বলে।বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি গ্রিটিংকার্ড ছিল সেটিই।কার্ডে লেখাছিল- “A merry Christmas and a Happy New Year to you”।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


Leave a Reply to ২ জানুয়ারি।। আজকের বাছাই | সববাংলায়Cancel reply