সববাংলায়

গুপ্তিপাড়ার জগদ্ধাত্রী পূজা

জগদ্ধাত্রী পূজায় চন্দননগর ও কৃষ্ণনগর যতটা কৌলীন্য বহন করে গুপ্তিপাড়া তার সিকিভাগও বহন করে না।গুপ্তিপাড়ার খ্যাতি তার অধুনা লুপ্তপ্রায় ‘গুপো সন্দেশ’ ও গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রায়।কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন এই গুপ্তিপাড়ার জগদ্ধাত্রী হল বাংলায় সর্বপ্রথম বারোয়ারি পূজার পথিকৃৎ।এটাই, অবিভক্ত বাংলার প্রথম বারোয়ারি দুর্গা পুজো। যদিও মায়ের জগদ্ধাত্রী রূপেরই পুজো হয় এখানে। গুপ্তিপাড়ায় জগদ্ধাত্রী দেবী ‘বিন্ধ্যবাসিনী’ নামে পরিচিতা।

এই পুজোর প্রচলন বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে আনুমানিক ১১৬৮ সন নাগাদ।ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৭৫৯ সাল।জনশ্রুতি অনুযায়ী  ওই বছর গ্রামের ১২ জন যুবক একটি বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো পুজো দেখতে গিয়ে অপমানিত হয়ে মায়ের দর্শন না পেয়েই ফিরে আসে।অর্থাৎ তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি ঐ পুজো দেখতে। এর পরেই তাঁরা গ্রামে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন। যেমন ভাবা, তেমনই কাজ! ওই বছরেই জগদ্ধাত্রী পুজো আরম্ভ করেন তাঁরা। ১২ জন বন্ধু অর্থাৎ ‘ইয়ার’ মিলে পুজো করায় সেই থেকেই ‘বারোয়ারি’ শব্দটির প্রচলন হয়। বাংলার সেই প্রথম বারোয়ারি বিন্ধ্যবাসিনীর পুজো আজও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে হয়ে আসছে।১৯১০ সালে কলকাতার ভবানীপুরে সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভাপ্রথম বারোয়ারি দুর্গাপুজোর আয়োজন করলেন।

গুপ্তিপাড়ার বিন্ধ্যবাসিনীর  শুধু নবমীতেই পুজো হয়। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীপুজো একইদিনে  সারা হয়ে থাকে।এখানে এক সাথে সাত্ত্বিক, তামসিক ও রাজসিক মতে বিন্ধ্যবাসিনীর আরাধনা করা হয়। দেবী মূর্তি সাবেকি। প্রতিমা শিল্পী বাবু পাল। এলাকার বাসিন্দারা নিজেরাই  চাঁদা তুলে পুজোর আয়োজন করে থাকেন।অবশ্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভক্তরা পুজোর জন্য অনুদান পাঠান। দশমীর দিন এখানে বাজি পোড়ানো হয়ে থাকে। হাওড়া-কাটোয়া লাইনে গুপ্তিপাড়া স্টেশন থেকে বিন্ধ্যবাসিনী মন্দিরের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading