বিজ্ঞান

রামধনু তৈরি হয় কিভাবে

রামধনু বা ইন্দ্রধনু বা রঙধনু (Rainbow) ধনুরাকৃতি রঙিন আলোর রেখা যা সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে দেখা যায়। রামধনুতে সাতটি রঙ দেখা যায়। তবে একথা জেনে রাখা ভাল, রামধনু একটি আলোক বিভ্রম (Optical Illusion) এবং এর কোনও বাস্তব অস্তিত্ব নেই। রামধনু তৈরি হয় কিভাবে - জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণ কি।

আয়নায় নিজের প্রতিকৃতি দেখতে পাওয়া যায় – এটি হল প্রতিফলন। অর্থাৎ, আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমের তলে প্রতিহত হয়ে আবার একই মাধ্যমে ফিরে এলে তাকে বলে আলোর প্রতিফলন।

আবার, জলের মধ্যে চামচ কিছুটা ডোবালে দেখা যায় চামচটির জলের তলার অংশটি বাঁকা – এই ঘটনা হল প্রতিসরণ। অর্থাৎ এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে আলাদা ঘণত্বের স্বচ্ছ মাধ্যমে গেলে আলোর গতিপথ কিছুটা বেঁকে যায়, এই ঘটনা হল প্রতিসরণ। আলো কতটা বাঁকবে তা নির্ভর করে দুটি মাধ্যমের আপেক্ষিক ঘনত্ব ও আলোর রঙ এর উপর।

রামধনু

চিত্র - ১

মোটের উপর বলা যায়, বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত জলকণায় সূর্যালোকের প্রতিফলন এবং প্রতিসরণের ফলে রামধনু ঘটিত হয়। কিন্তু এর জন্য চাই কিছু অনুকূল পরিস্থিতি যে কারণে সবসময় বা বৃষ্টি হলেই রামধনু দেখা যায় না। শর্তগুলি হল - (চিত্র - ১)

  • সূর্যকে দর্শকের পিছনে থাকতে হবে।
  • দিগন্তরেখা থেকে সর্বাধিক ৪২ ডিগ্রি কোণ পর্যন্ত উচ্চতায় সূর্যকে থাকতে হবে। তবে সূর্য আকাশের যত নীচে থাকবে তত বেশি ধনুকাকার হবে। সূর্য একদম দিগন্ত রেখায় থাকলে রামধনু অর্ধবৃত্তাকার হবে।
  • বাতাসে বৃষ্টি বা ভাসমান জলবিন্দু  থাকতে হবে এবং তা দর্শকের সামনের দিকে থাকতে হবে।

 

রামধনু তৈরি হয় কিভাবে

চিত্র - ২

এবার দেখে নেওয়া যাক, এই মনোরম দৃশ্যের পিছনে ঠিক কি ঘটে। আমরা সকলেই জানি, সাদা আলো বা সূর্য রশ্মি আসলে সাতটি বিভিন্ন রঙের আলোর সমাহার। আর আগেই বলা হয়েছে, প্রতিসরণের সময় বিভিন্ন আলো বিভিন্ন পরিমাণে বাঁকে। তাই যখন জলবিন্দুতে আলো প্রবেশ করে তখন এক মাধ্যম থেকে অন্য ঘণত্বের মাধ্যমে যাওয়ার ফলে প্রতিসরণ ঘটে (চিত্র -২)। লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি তাই কম বাঁকে ও বেগুনী আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম তাই বেশি বাঁকে। বাকি আলোগুলি এর মাঝামাঝি পড়ে, ফলে সাতটি রঙের আলোয় ভেঙে গিয়ে জলবিন্দুর ভিতরে উল্টোদিকে গিয়ে পড়ে এবং সেই তলে আলোগুলি প্রতিফলিত (আভ্যন্তরীণ প্রতিফলন) হয়ে ফিরে আসার সময় জলবিন্দু থেকে বেরোবার পথে আবার একবার প্রতিসরণ হয় ও আলোক বর্ণালীগুলির মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে। ফলে আমরা বেনীআসহকলা (VIBGYOR) এর এক সুন্দর আলোক বর্ণালী দেখতে পাই। প্রাথমিক রামধনুতে সবসময় উপর প্রান্তে লাল ও নীচের প্রান্তে বেগুনী রঙ দেখা যায়।

এ ছাড়া অনেক সময় আকাশে জোড়া রামধনু দেখা যায়। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা মাধ্যমিক রামধনুর রঙগুলি উল্টোভাবে বিন্যস্ত থাকে এবং সেই রামধনুটি তৈরির ক্ষেত্রে অন্যান্য কিছু শর্তের প্রয়োজন আছে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!