সববাংলায়

কেনেডি হত্যাকান্ড

মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কয়েকটি বিতর্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনা রয়েছে, যা আজও আমাদের বিস্ময় জাগায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন. এফ কেনেডি হত্যাকান্ড (Kennedy Assassination) সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। প্রেসিডেন্টের জন্য নির্দিষ্ট গাড়িতে আরও কয়েকজনের সঙ্গে টেক্সাস রাজ্যের ডালাস শহর দিয়ে যাওয়ার সময় কেনেডি আততায়ীর বন্দুকের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। অনেক তদন্তের পর জানা গিয়েছিল কেনেডি হত্যাকান্ডের পিছনে ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তবে সেই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা ছিলেন, এই হত্যার কারণ কী, ইত্যাদি সম্পর্কে নানরকম বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে অনেকে অনেকরকম তত্ত্ব উপস্থাপন করেছিলেন কিন্তু একটি নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসা সহজ হয়নি। এফবিআই থেকে শুরু করে ওয়ারেন কমিশন, রকফেলার কমিশন, চার্চ কমিটি-সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই ঘটনার তদন্ত করলেও বিষয়টি আজও বিতর্কের অন্ধকারেই নিমজ্জমান।

১৯৬৩ সালে ২২ নভেম্বর লি হার্ভে অসওয়াল্ড নামের একজন মার্কিন নৌসৈনিক দুপুর প্রায় ১২.৩০টা নাগাদ একটি ইতালীয় কার্কানো এম৯১/৩৮ রাইফেল দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন.এফ কেনেডিকে হত্যা করেছিলেন। কেনেডি তখন ছিলেন রাষ্ট্রপতির জন্য নির্দিষ্ট গাড়ির ভিতরে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জ্যাকলিন, টেক্সাসের গভর্নর জন কন্যালি এবং কন্যালির স্ত্রী নেলি। গাড়িটি যখন টেক্সাস রাজ্যের একটি শহর ডালাসের ডিলে প্লাজা অতিক্রম করছিল তখনই নিকটবর্তী টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটরি থেকে গুলি কেনেডিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান লি হার্ভে অসওয়াল্ড। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়িটিকে সোজা পার্কল্যান্ড মেমোরিয়াল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলেও ৩০ মিনিটের মধ্যেই জন কেনেডির মৃত্যু হয়। জন কন্যালিও এই হামলায় আহত হয়েছিলেন কিন্তু তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। এই হত্যাকান্ড চতুর্দিকে ভীষণ আলোড়ন তৈরি করেছিল।
কেনেডি এবং কন্যালিকে গুলি করবার প্রায় ৭০ মিনিট পর ডালাস পুলিশ অসওয়াল্ডকে গ্রেফতার করে। দুদিন পরে ২৪ নভেম্বর অসওয়াল্ডকে ডালাস পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বেসমেন্টের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ডালাস নাইট ক্লাব অপারেটর জ্যাক রুবি তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে৷ গুলিবিদ্ধ অসওয়াল্ডকে সেই কেনেডির মতোই পার্কল্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি।

১৯৬৩ সালে কেনেডি রাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টিতে উদারপন্থী মার্কিন সিনেটর রাল্ফ ইয়ারবোরো এবং রক্ষণশীল গভর্নর জন কন্যালির মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য টেক্সাস ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জুন মাসে এল পাসোতে এক বৈঠকে কেনেডি, জনসন এবং কন্যালি এই সফরে সম্মত হন। কেনেডি টেক্সাস সফরকে তার ১৯৬৪ সালের পুনর্নির্বাচনের প্রচারের একটি অনানুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবেও দেখেছিলেন। কেনেডির এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল ডেমোক্র্যাটদের একত্রিত করা। উগ্রবাদীদের একটি অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু সোচ্চার গোষ্ঠী টেক্সাসের রাজনৈতিক উত্তেজনায় যে অবদান রাখছে, কেনেডি সে-সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন থেকে বেরিয়ে রাজনীতির ময়দানে মানুষের মধ্যে গিয়েছিলেন কেনেডি। ২২ নভেম্বর অর্থাৎ হত্যাকান্ডের দিন সকালে টেক্সাস হোটেলের বাইরে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতাও দিয়েছিলেন তিনি। সেদিন ট্রেড মার্টে মধ্যাহ্নভোজে বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল কেনেডির। ডালাস শহরের মধ্যে দিয়ে সেদিকে যাওয়ার সময়েই নিহত হন তিনি।

হত্যাকান্ডের পর সেদিন রাতেই ডালাস পুলিশ অসওয়াল্ডের হাতে এবং ডান গালে প্যারাফিন টেস্ট করে বুঝতে চায় সে সদ্য বন্দুক ছুঁড়েছে কিনা। হাতের ক্ষেত্রে ফলাফল পজিটিভ এলেও ডান গালের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ২৩ নভেম্বর রাতে পুলিশ অসওয়াল্ডকে এক সাংবাদিক সম্মেলন করাতে বাধ্য করে এবং তদন্তের প্রথম দিকেই মিডিয়াতে অনেক কিছু ফাঁস করে দেয়। জনসন বিরক্ত হয়ে এফবিআইকে নির্দেশ দেয় হত্যার বিষয়ে মিডিয়াতে কথা বলা বন্ধ করতে। এফবিআই যখন উদ্বেগ প্রকাশ করে যে অসওয়াল্ডকে কেউ হত্যা করতে পারে তখন ডালাস পুলিশ জানায় তাঁরা তাকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেবে। তবে এরপরই রুবি নামে একজন অসওয়াল্ডকে হত্যা করলে, জনসন এফবিআইকে সম্পূর্ণ তদন্তের ভার তুলে দেন। অবিলম্বে এফবিআই তদন্ত শুরু করে দেয়। হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যে এফবিআই ডিরেক্টর জে. এডগার হুভার প্রেসিডেন্ট জনসনকে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়ে জানায় যে, আসল অপরাধী হল অসওয়াল্ড। ১৯৬৩ সালের ২৯ নভেম্বর নতুন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন কেনেডি হত্যাকান্ড তদন্তের জন্য ওয়ারেন কমিশনকে নিযুক্ত করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি এবং এই কমিশনের চেয়ারম্যান আর্ল ওয়ারেনের নামেই কমিশনের নামকরণ হয়েছিল। ৯ ডিসেম্বর এফবিআই ওয়ারেন কমিশনকে তদন্তের একটি রিপোর্ট পাঠায়, তাতে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় যে, মোট তিনটি গুলি ছোঁড়া হয়েছিল। তাদের মতে, প্রথম গুলিটি লাগে কেনেডির পিঠের ওপরদিকে, দ্বিতীয় গুলিটি কন্যালির শরীরে বিদ্ধ হয় এবং তৃতীয় গুলিটি কেনেডির মাথায় বিঁধে গিয়ে তাঁর প্রাণহানি ঘটায়। ওয়ারেন কমিশনের তদন্তের প্রধান সহায়ক হল এফবিআই। ১৫৯ জন এফবিআই এজেন্ট এই কেসে কাজ করেছিল। তবে এফবিআই-এর তদন্তের অনুপুঙ্খতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

অন্যদিকে ওয়ারেন কমিশন তদন্তের ৮৮৮ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি ১৯৬৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জনসনের কাছে পেশ করেছিল। কমিশন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে, অসওয়াল্ড একাই কেনেডিকে হত্যা করেছিল এবং রুবিও অসওয়াল্ডের ওপর একাই গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু হত্যার পিছনে অসওয়াল্ডের কী উদ্দেশ্য ছিল কমিশনের রিপোর্ট সে বিষয়ে কোন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবে অসওয়াল্ডের মার্কসবাদী দর্শনে বিশ্বাস, স্বৈরাচার বিরোধী হিংসাত্মক প্রবণতা এবং ইতিহাসের পাতায় একজন তাৎপর্যপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবার আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদির উল্লেখ ছিল। আব্রাহাম জাপ্রুডার নামে একজন ব্যক্তি ২৬ সেকেন্ডের নীরব ৮ মিমি ফিল্মে কেনেডি হত্যাকান্ড রেকর্ড করতে পেরেছিলেন যা জাপ্রুডার ফিল্ম নামে পরিচিত। ফুটেজটি সর্বপ্রথম ১৯৬৯ সালে ক্লে শ-এর বিচারে এবং ১৯৭৫ সালে জেরাল্ডো রিভেরার টেলিভিশনে সর্বজনীনভাবে দেখানো হয়। এই ফিল্মটি পরীক্ষা করে দেখবার পর কমিশন বুঝতে পারে যে, এফবিআই-এর বন্দুকের তত্ত্বটি একপ্রকার অসম্ভব ছিল। কমিশন জানায়, কেনেডি এবং কন্যালির প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ব্যবধান ছিল ২.০৩ সেকেন্ডেরও কম আর একটি গুলি চালানোর পর বন্দুক রিলোড করতে অন্তত পক্ষে ওই সময়টুকু লাগেই। অতএব একটিমাত্র গুলিতেই কেনেডি এবং কন্যালি বিদ্ধ হয়েছিলেন বলে কমিশন মনে করে। তাছাড়াও কমিশন কন্যালির স্ট্রেচার থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করেছিল, সেই কারণেও এই একটি বুলেটের তত্ত্বটি তারা উপস্থাপন করেছিল। এই তত্ত্বটি ‘সিঙ্গেল-বুলেট থিওরি’ বা ‘ম্যাজিক বুলেট থিওরি’ নামে পরিচিত। কমিশনের আট সদস্যের মধ্যে তিনজন প্রতিনিধি হেল বগস, জন কুপার এবং রিচার্ড রাসেল তত্ত্বটিকে অসম্ভব বলে মনে করেছেন। তাঁদের কথা অবশ্য ফাইনাল রিপোর্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়াও এই একক বুলেট থিওরিটির ভিত্তি আন্দোলিত হয় যখন সাম্প্রতিককালে ২০২৩ সালে পল ল্যান্ডিস বলেন যে, হত্যাকান্ডের সময় তিনি কেনেডির একেবারের নিকটে ছিলেন এবং গুলিবিদ্ধ কেনেডিকে নিয়ে যখন গাড়ি হাসপাতালে আসে তখন কেনেডির বসবার জায়গাতে তিনি একটি বুলেট পেয়েছিলেন, এবং সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মনে করে তিনি তা প্রেসিডেন্টের স্ট্রেচারে রেখে দিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল এই বুলেটটি কেনেডির পিঠের অগভীর ক্ষত থেকে বেরিয়েছে। এই নতুন তথ্যটি ওয়ারেন কমিশনের ম্যাজিক বুলেট থিওরিকে দুর্বল করে দেয়। প্রায় ছয় দশক পরে ল্যান্ডিসের স্মৃতির উপর নিঃসংশয়ে ভরসা করতে চাননি অনেকে। এছাড়াও এই তথ্যটি কেন এতদিন ল্যান্ডিস গোপন করে রেখেছিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে একক বুলেট থিওরি মিথ্যে হলে অসওয়াল্ডের সঙ্গে আরও একজন সহাকরী সেদিন ছিল বলেই মনে করেন অনেকে।

ওয়ারেন রিপোর্টের মোট ২৭টি ভলিউম প্রকাশিত হয়েছিল। কেউ কেউ এই রিপোর্টের প্রশংসা করেছেন, কেউ আবার বলেছিলেন এই রিপোর্টটিকে আমেরিকান জনগণ উপহাস করেছিল। আমেরিকার অধিকাংশ জনগণেরই বিশ্বাস ছিল যে অসওয়াল্ড একা এই হত্যাকান্ড ঘটাননি এবং একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন কেনেডি।

১৯৬৭ সালে আবার নিউ অরলিন্সের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জিম গ্যারিসন ব্যবসায়ী ক্লে শ-কে কেনেডি হত্যার জন্য সিআইএ-এর ষড়যন্ত্রের একজন অংশ মনে করে গ্রেফতার করেছিলেন। যদিও সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর জুরি সদস্যরা শ-কে নির্দোষ বলে মনে করেছিলেন৷

১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, অ্যাটর্নি জেনারেল রামসে ক্লার্ক কেনেডি ময়নাতদন্তের ফটোগ্রাফ এবং এক্স-রে পরীক্ষা করার জন্য চারজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের একটি প্যানেল আহ্বান করেন। তাদের অনুসন্ধানগুলি ওয়ারেন কমিশনের সাথে সহমত হয়েছিল, যে কেনেডিকে দুটি বুলেট আঘাত করেছিল, দুটোই পিছন থেকে আসা বুলেট।

১৯৭৫ সালে আবার রকফেলার কমিশন পুনরায় কেনেডি হত্যাকান্ডের তদন্ত করে৷ পাঁচ মাস পর সেই কমিশন প্রেসিডেন্ট ফোর্ডের কাছে রিপোর্ট পেশ করে এবং সম্মত হয় যে, পিছন থেকে দুটি গুলি এসে কেনেডির শরীর বিদ্ধ করেছিল। সিআইএ কেনেডি হত্যার ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিল কিনা তাও রকফেলার কমিশন তদন্ত করে দেখতে চেয়েছিল। রকফেলার কমিশন সিআইএ অপারেটিভস, বিশেষ করে ই. হাওয়ার্ড হান্ট এবং ফ্রাঙ্ক স্টার্জিস হত্যার সময় ডিলি প্লাজায় উপস্থিত ছিল কিনা তাও খুঁটিয়ে দেখেছিল, কিন্তু কোন প্রমাণ পায়নি। শেষে জানিয়েছিল সিআইএ জড়িত থাকার কোন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। পরবর্তীকালে চার্চ কমিটিও তদন্ত করে জানায় সিআইএ বা এফবিআই-এর নেতৃত্বে কোন ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নেই।

ওয়ারেন কমিশনের রিপোর্ট এবং সরকারী সংস্থাগুলির স্বচ্ছতা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সংশয় দেখা দিতে থাকে। ফলত, ১৯৭৬ সালে ইউনাইটেড স্টেটস হাউস সিলেক্ট কমিটি অন অ্যাসাসিনেশনস গঠিত হয়। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তারা তদন্ত করে এবং পরের বছর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে জানায়, কেনেডি হত্যার পিছনে সম্ভবত একটি ষড়যন্ত্র ছিল। তারা জানিয়েছিল, চতুর্থ আরেকটি গুলি করা হয়েছিল, যা কেনেডির গায়ে লাগেনি। এও জানায় যে, এফবিআই এবং সিআইএ সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জানায়নি ও ষড়যন্ত্র বিষয়ে তদন্ত এ যাবৎ তেমন গুরুত্ব সহকারে করা হয়নি৷

১৯৯১ সালে অলিভার স্টোনের ‘জেএফকে’ নামক চলচ্চিত্র এই কেনেডির হত্যা সম্পর্কিত বিতর্ককে নতুনভাবে উসকে দেয়। জেএফকে রেকর্ড আইন পাস করা হয়। অ্যাসাসিনেশন রেকর্ডস রিভিউ বোর্ড গঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে সেই বোর্ডের স্টাফ রিপোর্ট আবার দাবি করে কেনেডি রেকর্ডে তাঁর মস্তিষ্কের যে ফটোগ্রাফগুলি রয়েছে, তা কেনেডির মস্তিষ্কের নাও হতে পারে। এমনই নানা বিতর্ক তেরি হলেও হত্যাকান্ডটি আজও রহস্যের অন্ধকারে।

কেনেডি হত্যাকান্ড ঘিরে নানারকম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব গড়ে উঠেছে। তারমধ্যে জনপ্রিয় হল সিআইএ-র ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। তাত্ত্বিকরা এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে সিআইএ-র জড়িত থাকার যেসব সম্ভাব্য কারণগুলির কথা বলেছেন, সেগুলি হল, কেনেডি কর্তৃক সিআইএ পরিচালক অ্যালেন ডুলেসকে বরখাস্ত করা, বে অফ পিগস আক্রমণে বিমান সহায়তা দিতে কেনেডির অস্বীকৃতি এবং কেনেডির দ্বারা পরিকল্পনা এজেন্সির বাজেট ২০ শতাংশ কম করা, এছাড়াও কমিউনিজমের প্রতি প্রেসিডেন্টের দুর্বলতা নিয়ে সন্দেহও সেই কারণের তালিকাভুক্ত হতে পারে। যদিও পরে প্রমাণ হয় যে সিআইএ ষড়যন্ত্রকারী নয়। কেনেডি হত্যাকান্ড নিয়ে যে অসংখ্য বই লেখা হয়েছে, সেগুলির অধিকাংশতেই ষড়যন্ত্রের কথা রয়েছে। বুগ্লিওসি অনুমান করেন বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বে মোট ৪২টি দল, ৮২জন হত্যাকারী এবং ২১৪জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অনেক তাত্ত্বিকের মতে, একজন নয়, একাধিক শ্যুটার ছিল যারা কেনেডিদের উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিবৃত তিনজনের ছবি হত্যাকান্ডের পর বিভিন্ন সংবাদপত্রে বেরিয়েছিল, যেটি থ্রী ট্র্যাম্প নামে পরিচিত। অনেকে সেই তিনজনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন। ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকরা কেউ কেউ বলেন, ময়নাতদন্ত এবং সরকারী তদন্ত ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং কেনেডি হত্যাকাণ্ডের সাক্ষীদের রহস্যজনক এবং সন্দেহজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল। অনেকের বিশ্বাস ছিল, মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগ এই হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জনসন আবার তাঁর মৃত্যুর আগে ওয়ারেন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। কাস্ত্রো এবং সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভের মতো কমিউনিস্ট শাসকরা বিশ্বাস করতেন যে কেনেডিকে ডানপন্থী আমেরিকানরা হত্যা করেছে। প্রাক্তন সিআইএ পরিচালক আর জেমস উলসি যুক্তি দিয়েছেন যে অসওয়াল্ড কেনেডিকে সোভিয়েত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হত্যা করেছিলে। এমনই নানারকম তত্ত্বের মধ্যে থেকে আসল তথ্যের হদিশ আজও মেলেনি।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading