ভূগোল

খালোড়

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাগনান - ১ ব্লকের অন্তর্গত খালোড় একটি অন্যতম প্রাচীন গ্রাম। আকবরের প্রধানমন্ত্রী আবুল ফজল রচিত আইন - ই- আকবরি গ্রন্থ অনুযায়ী জানা যায় 'খালড়' পরগণার অধীন ছিল আজকের খালোড় গ্রাম। জেলা সদর দপ্তর হাওড়া থেকে ৪৩ কিলোমিটার ও কলকাতা থেকে ৪৯ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামটি অবস্থিত। বাগনান এবং ঘোড়াঘাটা এখানের নিকটতম রেল স্টেশন। আশেপাশের গ্রামগুলি হল চন্দ্রপুর, চন্দ্রভাগ, বাঁটুল-বিদ্যানাথপুর, বাঙ্গালপুর, চন্ডীপুর ইত্যাদি।

খালোড় উত্তরে বাগনান-১ ব্লক, দক্ষিণে শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লক, পূর্বে উলুবেরিয়া-১ ব্লক এবং দক্ষিণে উলুবেরিয়া-২ ব্লক দ্বারা বেষ্টিত।পূর্ব মেদিনীপুর এবং হাওড়ার সীমান্তে অবস্থিত এই গ্রামের প্রধান আকর্ষণ এখানকার বিখ্যাত কালী মন্দির।

বাগনান -১ ব্লকের অন্যতম প্রাচীন মন্দির খালোড়ের বিখ্যাত কালী মন্দির।১৭২২ খ্রীষ্টাব্দের বাংলার সুবাদার মুর্শিদকুলী খাঁ'র আমলে ভূমিরাজস্ব বিধি সংশোধন হওয়ার ফলে প্রায় সমগ্র হাওড়া জেলা বর্ধমান জমিদারির অন্তর্ভক্ত হয়। জনশ্রুতি অনুসারে বাগনান একসময় মোঘল আমলের বিখ্যাত জমিদার বর্ধমানের মহারাজা কন্দর্প নারায়নের জমিদারির অন্তর্ভুক্ত ছিল।দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে  রাজা  দামোদরের তীরে আট ফুট উচ্চতার দক্ষিণাকালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন।সেই সময়ে দামোদরের প্রবাহপথ এই গ্রামের পাশ দিয়েই ছিল যা আজ অনেকটাই সরে গেছে।ইটের তৈরি মন্দিরটির ভেতর দক্ষিণাকালী ও নীচে শয়নরত শিবের নিমকাঠের মূর্তি রয়েছে।শোনা যায়  পুরোনো কাঠের মূর্তি নষ্ট হয়ে গেলে ১২৯৫ সনে নতুন করে কাঠের মূর্তি তৈরি করা হয়।জনশ্রুতি অনুযায়ী দ্বিতীয় মূর্তিটিও নাকি নষ্ট হয়ে যায়।তখন শ্যামপুরের দারুশিল্পী গণেশ চন্দ্র মণ্ডল একটি মাত্র নিম কাঠ কেটে বর্তমান মূর্তিটি তৈরি করেন।১৩৪৭ বঙ্গাব্দের ৩২ আষাঢ় এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা হয়।  মন্দিরের সামনে নাটমন্ডপের দুপাশে দুটো আটচালা শিব মন্দির রয়েছে এছাড়া পূব দিকের মন্দিরে বাণলিঙ্গ ও পশ্চিম দিকের মন্দিরে মৃত্যুঞ্জয় শিব প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। ভাদ্র ও পৌষ মাসে এখানে দেবীর পুজা হয় ও  মুলোকালীর মেলা বসে। মন্দিরের পশ্চিমে রাস্তার ওপারে রয়েছে ধর্ম মন্দির। মন্দিরটি পুরানো হলেও ১৩৮৬ বঙ্গাব্দে ছাদযুক্ত মন্দির তৈরি হয়। মন্দিরে পালযুগের কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি ও ৬টি পাথরের কূর্মমূর্তি আছে।

এছাড়াও উল্লেখযোগ্য মন্দির গুলি হলঃ খালোড় দক্ষিণ রায় ও বড় বাবা মন্দির, হেতমপুর শীতলা মন্দির, শিব মন্দির ইত্যাদি।

 খালোড়ের অন্যতম বিখ্যাত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হল খালোড় গোপীমোহন শিক্ষায়তন যা ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত হয়।এছাড়াও রয়েছে বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!