
মার্তাম, পশ্চিম সিকিমের এক অচেনা গ্রাম। প্রায় ১,৫০০ মিটার উচ্চতায় সবুজের ঘেরাটোপের মধ্যে পাহাড়ি অনুভূতির এক নতুন ঠিকানা। ‘নতুন’ বলা হচ্ছে কারণ পাঁচ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে বার্মিওক, রিনচেনপং, কালুক ইত্যাদি জনবহুল টুরিস্ট স্পট থাকা সত্ত্বেও, এই মার্তাম গ্রামটির নাম খুব অল্প লোকেই শুনেছে | গাড়ি মার্তাম গ্রামের এলাকায় ঢোকার পর একটা বাঁক নিতেই নজরে আসবে একটা বড় কালো পাথর।তাতে লেখা রয়েছে ‘Dhungay Welcomes You’। ‘ধুংগে’ শব্দটির অর্থ “দিকচিহ্ন”। এই কালো পাথরটিই হল মার্তাম গ্রামের ল্যান্ডমার্ক। গাড়ি যেখানে আপনাদের নামিয়ে দেবে, সেখান থেকে শুরু হয়েছে পাথর বাঁধানো সিঁড়ি। মিনিট দশেক সিঁড়ি ধরে উঠলেই কাঠের তৈরি বেশ বড় বাড়ি।
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে অটো করে চলে যান এস এন টি বাস স্ট্যান্ড । যদি কলকাতা থেকে বাসে যান, তাহলে এস এন টি বাস স্ট্যান্ডেই আপনাকে নামাবে । সেখান থেকে শেয়ার গাড়ি পাবেন জোড়থাং অবধি । জোড়থাং থেকে বার্মিওক যাবার অনেক শেয়ার গাড়ি পাবেন যারা আপনাকে মার্তাম গ্রামে নামিয়ে দেবে।
এখানে বিভিন্ন হোমস্টে আছে। অপূর্ব ওঁদের আতিথেয়তা, হোক না সে ব্যবসায়িক স্বার্থে | মনে হবে যেন ওঁদের সঙ্গে আপনাদের বহুদিনের পরিচয়। বিকেলের দিকে আকাশ বেশ পরিষ্কার। বারান্দায় বসেই দেখতে পাবেন দূরে হিমালয়ের চূড়া। সময়মতো চলে আসবে বিকেলের চা। চায়ে চুমুক দিতে দিতে তাদের সঙ্গেই জমে উঠতে পারে গল্পের আসর। বসে থাকতে থাকতে মনে হবে যেন সবুজের রাজ্যে বসে আছেন– চারদিকে সবুজের ঘেরাটোপে, মন আপনিই ভাল হয়ে ওঠে। দৈনন্দিন জীবনের ওঠাপড়া, চাওয়া–পাওয়া, মান–অভিমান সব তখন দূরে সরে যায়। সামনে ছোট্ট বাগান। মার্চ–এপ্রিলে অর্কিড ফুলে সেজে ওঠে এ বাগান।

পরদিন ভোরবেলা চা খেয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন গ্রাম দর্শনে। সরল, অনাড়ম্বর পাহাড়ি গ্রাম্য জীবনের নির্ভেজাল ছবি। মার্তাম গ্রামে আপনি সারাবছর আসতে পারেন। কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য যদি কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালাকে পূর্ণ রূপে দেখা হয় তাহলে অবশ্যই শীতকালে নভেম্বর থেকে ফেব্রয়ারির মধ্যে আসুন । নির্মল বাতাসে প্রাণভরে শ্বাস নিয়ে নেবেন। দুপুরে অলস নিদ্রার পরে বিকেলে চারদিক ঝলমলে। চোখ মেলে দিন সামনের দিকে। সবুজের পরিসীমা হালকা হতেই দূরে ধ্যানমগ্ন মৌনী হিমালয়ের আভাস, হিমেল শুভ্র চূড়ার আকাশছোঁয়ার সে অনিঃশেষ খেলায় অজান্তে সঙ্গী হবেন আপনিও। সন্ধে নামে … আবার ভোরের প্রতীক্ষা। ফেরার পথে আপনার প্রতিটি অনুচ্চারিত কথা আপনারই কানে প্রতিধ্বনিত হবে – “আবার আসব, আসতেই হবে আবার পাহাড়ি এই স্বর্গের এই লীলাপ্রাঙ্গণে”। …..
ট্রিপ টিপস
কিভাবে যাবেন : নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে অটো করে চলে যান এস এন টি বাস স্ট্যান্ড । কলকাতা থেকে বাসে গেলে এস এন টি বাস স্ট্যান্ডেই আপনাকে নামাবে । সেখান থেকে শেয়ার গাড়ি পাবেন জোড়থাং অবধি । জোড়থাং থেকে বার্মিওক যাবার অনেক শেয়ার গাড়ি পাবেন যারা আপনাকে মার্তাম গ্রামে নামিয়ে দেবে ।
কোথায় থাকবেন : এই গ্রামে সাধারণত আপনি কোনো হোটেল পাবেন না । এখানে হোমস্টের চল বেশি । কিছু ভালো হোমস্টের মধ্যে ধুংগে হোমস্টে, মার্তাম ভিলেজ রিসর্ট এখানকার নামকরা । এছাড়াও এই গ্রামের অনেক পরিবার তাদের নিজেদের ঘর হোমস্টে রূপে ভাড়া দিয়ে থাকে ।
কি দেখবেন : এটি নির্ভর করছে আপনি কত দিন মার্তাম গ্রামে আছেন তার উপর । যদি এক দিন থাকেন তাহলে শুধু গ্রামটিই ঘুরে দেখুন । এর অনবদ্য সৌন্দর্য্য, পাহাড়ি শাক সবজির ক্ষেত, নানান পাখি ও সর্বোপরি এলখানকার অর্গানিক সার ছাড়া পুষ্টিকর খাবার খেয়ে মনোরঞ্জন করতে পারেন । দুই দিন থাকলে সেখান থেকে সামনের দুটি গ্রাম হি আর বার্মিওক এই দুটি ঘুরে আসতে পারেন । মোটামুটি তিন / চার দিনের প্ল্যান হলে সেখান থেকে ৪০ কিমি দূরে পেলিং শহর থেকেও ঘুরে আসতে পারেন ।
কখন যাবেন : মার্তাম গ্রামে আপনি সারাবছর আসতে পারেন। কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য যদি কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালাকে পূর্ণ রূপে দেখা হয় তাহলে অবশ্যই শীতকালে নভেম্বর থেকে ফেব্রয়ারির মধ্যে আসুন ।
সতর্কতা : বর্ষাকালে সিকিম বরাবরই একটু ধস প্রবন । নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সেই অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন । নিরাপত্তার কারণে পাহাড়ি এলাকায় রাতের বেলায় গাড়িতে ভ্রমণ অবশ্যই বর্জন করবেন ।শীতকালে এলে ভারী জামাকাপড় অবশ্যই সঙ্গে আনবেন ।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান