বিজ্ঞান

পর্যায় সারণীর সপ্তম সারি

৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৫ তে বিশ্বের রসায়নবিদ্যা বা কেমিস্ট্রির সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ইউপ্যাক যে চারটি পদার্থের অস্তিত্ব ঘোষণা করেছে,তাতে পর্যায় সারণীর সপ্তম সারি সম্পূর্ণ হয়েছে। পর্যায় সারণীটি দেখলে আমরা দেখা যাবে এর সপ্তম যে সারি তাতে এর আগে এই চারটি পদার্থ ছিল না। কারন সেগুলো আবিষ্কার হয়নি তখনও। এই চারটি পদার্থের অস্তিত্ব ঘোষণা করেছে। এদের পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা হল ১১৩, ১১৫, ১১৭ এবং ১১৮।

যারা বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী, তারা পর্যায় সারণী নামটা শুনলেই বুঝবে যে এটা রসায়নবিদ্যা বা কেমিস্ট্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ টেবিল। এই টেবিলে প্রকৃতিতে যা যা মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় তা এমন সুন্দরভাবে সাজানো থাকে, যাতে পদার্থগুলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বোঝা যায়। যেমন কোন পদার্থ ধাতু, কোন পদার্থ গ্যাস এইসব বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখা করা যায় সহজেই। মৌলিক পদার্থ বলতে যে পদার্থ শুধুমাত্র সেই পদার্থ দিয়েই তৈরি। যেমন আমরা সোনা, হীরে অলঙ্কার হিসাবে ব্যবহার করি। সোনা শুধুমাত্র সোনা দিয়েই তৈরি। হীরে তৈরি কার্বন দিয়ে।অপরপক্ষে জল, নুন এগুলো যৌগিক পদার্থ । যৌগিক পদার্থে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ রাসায়নিকভাবে যুক্ত থাকে। যেমন জলে থাকে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন। নুনে থাকে সোডিয়াম আর ক্লোরিন। এরকম যৌগিক পদার্থের সংখ্যা অনেক। কিন্তু মৌলিক পদার্থের সংখ্যা সীমিত। আর সেই সীমিত মৌলিক পদার্থগুলোকে বিভিন্ন আলাদা আলাদা নিয়মে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে পর্যায় সারণী, ইংরাজিতে যাকে বলে পিরিওডিক টেবিল। এখানে একটা বিষয় একটু জানতে হবে। যে কোনও পদার্থকে ভাঙতে ভাঙতে সবথেকে ছোট যে টুকরো পাওয়া যায়, তাকে বলে পরমাণু। এই পরমাণুতে থাকে বিশেষ কিছু কণা। ইলেকট্রন, প্রোটন আর নিউট্রন। তার মধ্যে প্রোটন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে পদার্থকে চেনা যায়। যেমন লোহার পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ২৬, সোনার ক্ষেত্রে তা ৭৯। বাতাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে নাইট্রোজেন আর অক্সিজেন। অক্সিজেন আমাদের জীবনধারণের কাজে লাগে। এই অক্সিজেনের পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা হল ৮, নাইট্রোজেনের ক্ষেত্রে ৭।আবার হীরে যে কার্বন দিয়ে তৈরি, সেই কার্বনের ক্ষেত্রে সেটা হল ৬। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কিভাবে এই প্রোটন সংখ্যার পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে পদার্থটাই। এতদিন অবধি মোট ১১৪টি মৌলিক পদার্থ ছিল পর্যায় সারণীতে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৯৪টিই প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। বাকিগুলো তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানীদের ল্যাবরেটরিতে। পর্যায় সারণীটি দেখলে আমরা দেখতে পেতাম, এতদিন এর সপ্তম যে সারি তাতে চারটি পদার্থ ছিল না। কারন সেগুলো আবিষ্কার হয়নি তখনও। ৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৫ তে বিশ্বের রসায়নবিদ্যা বা কেমিস্ট্রির সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ইউপ্যাক সেই চারটি পদার্থের অস্তিত্ব ঘোষণা করেছে। এদের পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা হল ১১৩, ১১৫, ১১৭ এবং ১১৮। বলাই বাহুল্য এগুলো তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানীদের ল্যাবরেটরিতে। এই চারটি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কারের ফলে পর্যায় সারণীর সপ্তম সারিটি সম্পূর্ণ হয়েছে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!