ভূগোল

রিও টিন্টো নদী

অবিরাম বহমান নদী আমাদের জিওড আকৃতির পৃথিবীকে জালকের মতো ঘিরে রেখেছে চতুর্দিক দিয়ে। নদীর কখনো শান্ত চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য আবার কখনও ক্ষিপ্র ভয়াবহ রূপ। পৃথিবীতে এমন নদীও আছে যে নদীর জলে স্নান করলে কঙ্কাল হয়ে যাবে শরীর। তাই এই নদীতে কেউ স্নান করে না। রিও টিন্টো স্পেনের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত আন্দালুসিয়া প্রদেশ দিয়ে বয়ে চলা এমনই এক নদী।

স্পেনের এই রহস্যময়ী নদীটির পোশাকি নাম “রিও টিন্টো” (Rio Tinto)। সিয়েরা মরেনা পাহাড় এই নদীর উৎসস্থল। নদীটি ১০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মিলিত হয় হুয়েলভার গলফ অফ কাডিজে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সাল নাগাদ আন্দালুসিয়া প্রদেশ তামা, সোনা, রূপা ও অন্যান্য খনিজদ্রব্যে ভরপুর ছিল। খনিজদ্রব্যের সন্ধানে দফায় দফায় ওই এলাকায় খননকার্য শুরু হয়। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় খননকার্যের ফলে নদীর জল মারাত্মক আম্লিক হয়ে পড়ে। অ্যাসিড ও লৌহের মারাত্মক উপস্থিতির জন্যে নদীর জলের রঙ লাল হয়ে যায়। মারাত্মক দূষিত হয়ে পড়ে নদীর জল। পরীক্ষা করে জানা যায়, ওই নদীর জলে চরমজীবি অবায়বীয়  প্রকারের ব্যাকটেরিয়া (Extremophile anaerobic bacteria) উপস্থিত। এগুলি এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা অতি কঠিন পরিস্থিতিতেও বংশ বৃদ্ধি করতে পারে - এমনকি অক্সিজেনের অভাবেও। এই ব্যাকটেরিয়া জলের সঙ্গে মিশে এতটাই শক্তিশালী ও ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে কোনও জন্তু বা মানব দেহাংশের সংস্পর্শে এলে মুহূর্তের মধ্যে তা গলে কঙ্কালে পরিণত হয়ে যেতে পারে। বৈজ্ঞানিকরা এই জল নিয়ে তখন আরও গবেষণা করতে শুরু করেন। জানা যায়, এই নদীর জলের চরিত্রের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের অনেকটা মিল আছে। এই জলে সালফেট ও লৌহ বিজারণ করতে পারে এমন ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান বৈজ্ঞানিকরা। অর্থাৎ এই জল খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সালফেট বিজারণকারী ব্যাকটেরিয়াগুলি শরীরের ভেতরের কোনও ক্ষতি করে না। কিন্তু জলের সঙ্গে মিশে ভয়ংকর বিষাক্ত হয়ে ওঠে। জলে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির জেরে জল থেকে পচা ডিমের গন্ধ বের হয়। এমনকি কিছুদিন এই জল সংরক্ষণ করলে জলের রঙ কুচকুচে কালো হয়ে যেতে পারে।

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের কাছে স্পেনের এই রহস্যময়ী নদী রিও টিন্টো খুবই আকর্ষণীয়। পৃথিবীর বুকে এক টুকরো মঙ্গলের স্বাদ পেতে বছরের নানা সময়ে পর্যটকদের ভিড়ে উপচে পড়ে রিও টিন্টোতে। তবে বিজ্ঞানের কাছে এই রহস্যময়ী নদীর এখনও নানা অজানা দিক সুপ্ত হয়েই রয়েছে। যার উত্তরের সন্ধানে বিজ্ঞানীমহল নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!