বিজ্ঞান

শীতের সকালে মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হয় কেন

শীতকালের ভোরে বা সকালে মুখ হাঁ করে হাওয়া ছাড়লে ধোঁয়ার মত বের হয়। বিশেষ করে খুব জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়লে এই ধোঁয়া এতই ঘন হয়ে বের হয় যে আমরা অনেকে একে সিগারেট এর ধোঁয়া বলে মজাও করে থাকি। কিন্তু শীতের সকালে মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হয় কেন তা কি জানেন? যদি না জেনে থাকেন, তাহলে জেনে নিন এখানে।

মুখ হাঁ করে যখন আমরা হাওয়া ছাড়ি তখন কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাসের সঙ্গে সঙ্গে জলীয়বাষ্পও বের হয়। শীত যখন জাঁকিয়ে পড়ে পরিবেশের উষ্ণতা তখন বেশ কমে যায় ফলে আমাদের পারিপার্শ্বিক বায়ুর উষ্ণতাও খুব কম থাকে। তাই সকাল বেলায় যখন গরম শরীরের ভেতর থেকে জলীয়বাষ্প বাইরে বেরিয়ে আসে তখন ঠান্ডা বায়ুর সংস্পর্শে আসা মাত্ৰ সেই জলীয় বাষ্প সূক্ষ্ম জলকণায় পরিণত হয়। ওই জলকণারা মুখ থেকে বেরনোর সময় পরস্পরের সঙ্গে জোট বেঁধে ধোঁয়ার আকার নেয়। ঠিক একই ভাবে শীতের কুয়াশাও তৈরি হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপে চারপাশটা গরম হয়ে এলে আর এমন ঘটে না। আবার, ঠান্ডা খুব জাঁকিয়ে না পড়লে মুখ দিয়ে বের হওয়া জলীয় বাষ্প বাইরে বেরিয়ে জলকণা তৈরি হতে পারে না ফলে ধোঁয়াও বের হয় না। এই ব্যাপারটাকেই বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ঘনীভবন’ বা কন্ডেনসেশন বলে।

মুখ দিয়ে বেরোনো জলীয় বাষ্প  আরও পরিষ্কার বোঝা যায় যখন আমরা ঠান্ডা কাচ বা ধাতুর উপর মুখ দিয়ে হাওয়া ছাড়ি তখন তা ঝাপসা হয়ে যায় ও  তার উপর জলকণা জমে ওঠে।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

রচনাপাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান?



এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন