সব

স্পেশাল এফেক্টস বনাম ভিজুয়্যাল এফেক্টস

স্পেশাল এফেক্টস্‌ এবং ভিজুয়্যাল এফেক্টস্‌ এই শব্দ দুটো এখনকার সিনেমায় প্রায়শই ব্যবহৃত হয়। যে হারে সিনেমায় অতিমানবীয় জিনিস বা এমন জিনিস যা শুধুমাত্র ক্যামেরা দাঁড় করিয়ে বা ঘুরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় তা দেখানোর মাত্রা বাড়ছে, তাতে এই দুটো এফেক্টস এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এখন প্রায় প্রতিটি সিনেমাতেই এই দুটো শব্দ নাম দেখানোর সময় দেখা যায়। এই দুটো আসলে কি, স্পেশাল এফেক্টস বনাম ভিজুয়্যাল এফেক্টস  সেটাই আমরা বলব।

স্পেশাল এফেক্টস্‌ ব্যবহার করা হয় প্রোডাকশনের সময় অর্থাৎ শুটিং চলাকালীন। আর ভিজুয়্যাল এফেক্টস্‌ ব্যবহৃত হয় পোস্ট প্রোডাকশনের সময় অর্থাৎ যখন সিনেমাটি এডিট করা হয় - তাতে গান, নাচ জোড়া হয় সেই সময়। উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক। সিনেমার সেটে শুটিংয়ের সময় বৃষ্টি তৈরি করা হয় কৃত্রিমভাবে পাইপ থেকে জল ছড়িয়ে অথবা বরফ পড়ছে এরকম দৃশ্য দেখানো হয় তুলো উড়িয়ে। এই দৃশ্য এমনইভাবে ক্যামেরাবন্দী করা হয়, যাতে তুলোকে লাগে বরফ অথবা পাইপের জলকে যেন লাগে বৃষ্টির জল। সোজা কথায় যে সমস্ত বস্তুর অস্তিত্ব আছে (আগের উদাহরণের তুলো বা জল) তাদের সুকৌশলে ক্যামেরায় তোলা এবং তাদের অন্যভাবে দেখানোর (তুলোকে বরফ হিসাবে দেখানো) যে কৌশল সেটা হল স্পেশাল এফেক্টস্‌। শুধু অন্যভাবেই না, যেমন কিছুক্ষেত্রে বিস্ফোরণ দেখাতে পরিচালকেরা সত্যিকারের বিস্ফোরণ করে থাকেন। তাই বলা যায় যে সমস্ত বস্তুর অস্তিত্ব আছে, ক্যামেরার সাহায্যে তাদের বিশেষভাবে দেখানোকে স্পেশাল এফেক্টস্‌ বলে। স্পেশাল এফেক্টস্‌ দেখানোর জন্য ক্যামেরাই প্রধান অস্ত্র। কিভাবে তোলা হচ্ছে দৃশ্য, ক্যামেরার কৌশলই সব।

কিন্তু ভিজুয়্যাল এফেক্টস্‌ ক্যামেরায় শুট করা হয় না। পোস্ট প্রোডাকশানের সময় তৈরি করা হয়। যেমন অ্যানিমেশনে ব্যবহৃত কোনও চরিত্র, যার বাস্তব ভিত্তি নেই। তাকে তৈরি করা হয় বিশেষ পদ্ধতিতে, কিন্তু আমরা সিনেমায় ক্যামেরায় তোলা বস্তুর সাথেই তাকে দেখতে পাই। থ্রী-ডি মডেলিং, অ্যানিমেশন এ সবই হল ভিজুয়্যাল এফেক্টস্‌। আবার ক্যামেরায় শুট করা ভিডিও ব্যবহার করে তার সাথে আরও কিছু জিনিস যোগ করে দেখানো, যা ক্যামেরায় তোলা সম্ভব ছিল না; সেই পদ্ধতিকেও বলে  ভিজুয়্যাল এফেক্টস্‌। যেমন কোন বিল্ডিং-এর বিস্ফোরণ দেখাতে কোন পরিচালক সত্যিকারের বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে ভিজুয়্যাল এফেক্টসের সাহায্য নিতেই পারেন।

সোজা কথায় যে পদ্ধতিতে একটা বস্তুর অস্তিত্ব আছে, তাকে ক্যামেরার কৌশলে বিশেষভাবে দেখানো হয় সেই পদ্ধতিকে বলে স্পেশাল এফেক্টস্‌। এবং সিনেমার প্রয়োজনে যা ক্যামেরায় শুট করা সম্ভব না বা কোনও বস্তু যার অস্তিত্বই নেই, তাকে পুরোপুরি তৈরি করা হলে সেই পদ্ধতিকে বলে ভিজুয়্যাল এফেক্টস্‌।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!