বেনারস ষড়যন্ত্র মামলা

বেনারস ষড়যন্ত্র মামলা

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম একটি ধারা ছিল বৈপ্লবিক সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন। এই আন্দোলনের প্রধান পথই ছিল ইংরেজ নিধন আর এই ইংরেজ নিধনের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল বোমা। সমগ্র ভারত জুড়ে জায়গায় জায়গায় গড়ে উঠেছিল বোমা নির্মাণের গোপন কারখানা। বাংলাও সেই আঁচ থেকে বাদ পড়েনি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মহারাষ্ট্রে বিপ্লবী আন্দোলন ক্রমেই দানা বাঁধতে শুরু করে, ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন বাংলা, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। উত্তরপ্রদেশের বেনারস ক্রমেই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল গড়ে ওঠে আর সেখানেই সূচিত হয়েছিল এই বেনারস ষড়যন্ত্র মামলা (Benaras Conspiracy Case)।

১৯১৫ সালে বাঙালি বিপ্লবী শচীন্দ্রনাথ সান্যালের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল বেনারস ষড়যন্ত্র মামলা ।

বেনারসের বাঙালিটোলায় জন্মেছিলেন শচীন্দ্রনাথ সান্যাল। সেখানেই তিনি ‘অনুশীলন সমিতি’র একটি শাখা খোলেন এবং বিপ্লবী আন্দোলনে উত্তরপ্রদেশের সমস্ত বিপ্লবীদের একত্রিত করতে শুরু করেন। ব্রিটিশ সরকার এই অনুশীলন সমিতিকে বে-আইনী ঘোষণা করলে শচীন্দ্রনাথ সান্যাল এর নাম বদলে রাখেন ‘যুব সমিতি’। ১৯১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে গদর পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপিত হয় এই যুব সমিতির। গদর পার্টির তৎকালীন নেতৃত্বে ছিলেন বিপ্লবী রাসবিহারী বসু। তাঁর নেতৃত্বেই শচীন্দ্রনাথ সান্যাল সমগ্র উত্তরপ্রদেশে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের মতো এক বিরাট বৈপ্লবিক আন্দোলন সংগঠিত করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তে এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ইতিমধ্যে রাসবিহারী বসু ১২মে বিদেশে পালিয়ে যান এবং এই আন্দোলনের দায়ভার দিয়ে যান শচীন্দ্রনাথ ও গিরিজাবাবু অর্থাৎ নগেন্দ্রনাথ দত্তের উপরে। এর কিছুদিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার হন শচীন্দ্রনাথ সান্যাল। বেনারস ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের সাজা ঘোষিত হয় এবং বেনারসের মদনপুরায় তাঁর পৈতৃক বাড়ি ইংরেজ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়।

সেলুলার জেলে বন্দী থাকাকালীন শচীন্দ্রনাথ সান্যাল তাঁর আত্মজীবনী লিখেছিলেন ‘বন্দী জীবন’ নামে যা থেকে বেনারস ষড়যন্ত্র মামলা ভারতের বৈপ্লবিক আন্দোলন সংক্রান্ত নানা তথ্য ভারতবাসীর সামনে আসে।

আপনার মতামত জানান