সববাংলায়

বিশ্বের সব মানুষের গায়ের রং একইরকম হয়না কেন

এই পৃথিবীতে সমাজ, জাতি এই ধারনাগুলোর জন্ম হয়েছে মানুষের হাত ধরে এবং এগুলো গড়েও উঠেছে মানুষকে কেন্দ্র করেই।আমাদের তৈরি এই সমাজে মানুষের গায়ের রং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা মানুষের গায়ের রঙের ভিত্তিতে তার নামকরণ করেছি শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গ।আমরা এ তথ্য সকলেই জানি কেবলমাত্র গায়ের রঙের কারনেই  একদল মানুষ কয়েকশো বছর ক্রীতদাস থেকে যায় অন্যদিকে আরেকদল এই গায়ের রঙের কারনেই সেই ক্রীতদাসদের মালিক। কিন্তু বিশ্বের সব মানুষের গায়ের রং একইরকম হয়না কেন?

এই পৃথিবীতে সুস্থভাবে বাঁচতে গেলে সূর্যের আলো আমাদের একান্তভাবে প্রয়োজন। সূর্যের আলো আমাদের দেহে ভিটামিন- ডি(Vitamin- D) এর প্রাকৃতিক উৎস।কিন্তু সূর্যের আলোর আবার সবটাই আমাদের শরীরের পক্ষে উপকারী নয়। সূর্যের আলোর অন্যতম উপাদান হল- অতিবেগুনি রশ্মি বা Ultra Violet Ray । এই অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক যার অতিরিক্ত শোষণে ত্বকে ক্যান্সার পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।এই  অতিবেগুনি রশ্মির অত্যধিক শোষণ থেকে আমাদেরকে বাঁচাতে আমাদের ত্বক খয়েরী রঙের একটি রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন করে – যাকে মেলানিন বলে। প্রতিটি মানুষের শরীরেই মেলানিন উৎপন্ন হয়, কারও বেশী, কারও কম।

নিরক্ষরেখার একেবারে কাছে অবস্থিত দেশগুলোয় সূর্যালোক বেশি সময় ধরে বেশি পরিমাণ পড়ার ফলে এখানে বসবাসকারী মানুষরাও বেশি সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকে নিরক্ষরেখা  থেকে দূরে অবস্থিত মানুষগুলোর তুলনায়। নিরক্ষরেখার কাছাকাছি বসবাস করা এই মানুষগুলোর হয়ে প্রকৃতিই তাদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছে অতিবেগুনি রশ্মি’র হাত থেকে বাঁচবার জন্য।এই অঞ্চলের মানুষদের গায়ের রং নিরক্ষরেখা থেকে দূরে বসবাসকারী মানুষের তুলনায় গায়ের রঙের নিরীখে কৃষ্ণবর্ণ হয়  কারণ ক্ষতিকারক সূর্যরশ্মির হাত থেকে বাঁচবার জন্য তাদের ত্বক বেশি পরিমাণ মেলানিন তৈরি করে। সেই কারণেই ভারত, আফ্রিকার মানুষদের গায়ের রং কৃষ্ণবর্ণ হয় ইউরোপ আমেরিকার অধিবাসীদের তুলনায়।এ প্রসঙ্গে  উল্লেখযোগ্য সাদা চামড়ার মানুষরা যখন সূর্যের আলোর সংস্পর্শে বেশি সময় ধরে থাকে, তাদের ত্বক সাথে সাথে মেলানিন ক্ষরণ করতে শুরু করে দেয়। ফলে ত্বকও কালো হতে শুরু করে। একেই আমরা চামড়ায় ‘ ট্যান’ পড়া বলি।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading