সববাংলায়

উটের পিঠে কুঁজ থাকে কেন

উট হল মরুভূমির প্রাণী। উটকে আমরা মরুভূমির জাহাজ বলে থাকি। উটের শরীরে নানারকম বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মরুভূমির মত কঠিন পরিবেশে উটকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উটের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা অভিযোজন হল উটের পিঠের কুঁজ। আসুন জেনে নেওয়া যাক উটের পিঠে কুঁজ থাকে কেন।

তপ্ত বালুকাময় পরিবেশে জলের প্রচন্ড অভাব। তাই উটকে নিজের দেহে জল সংরক্ষণ করে রাখতে হয় এবং যত কম সম্ভব পরিমাণে জল ত্যাগ করতে হয়। আর উটকে প্রয়োজনকালে জল সরবরাহ করতে সাহায্য করে এই কুঁজ। অনেকেরই ধারণা আছে যে উটের কুঁজে আসলে জল সংরক্ষণ করা থাকে। কিন্তু
প্রকৃতপক্ষে তা সঠিক নয়। উটের কুঁজে আসলে জল না, ফ্যাটি টিস্যু অর্থাৎ চর্বি থাকে। এই চর্বি বিপাক ক্রিয়ায় বিশ্লিষ্ট হয়ে অর্থাৎ গলে গিয়ে জল উৎপন্ন করে এবং পরবর্তীকালে তা সারা দেহকোষে সরবরাহ হয়। উটের পাকস্থলীতে থাকে ‘ওয়াটার স্যাক’। সেখান থেকে জল প্রয়োজনে দেহে সরবরাহ হয়।

এক কুঁজ বিশিষ্ট উটকে বলা হয় ড্রোমেডারি উট। উটের পিঠে এই কুঁজ তৈরি হয়, অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার কারণে। উট তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তার বেশি খাবার খায় এবং তা কুঁজে ফ্যাট হিসেবে সঞ্চয় করে রাখে। এই কুঁজ উটের শরীরে সূর্যের তাপ প্রবেশ করতে বাধা দেয় ফলে উটের ঘাম খুব কম হয়। উট প্রায় ১৭ দিন পর্যন্ত জল না খেয়ে থাকতে পারে। এর কারণ এই কুঁজ আর উটের বিভিন্ন অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য। আমরা দুটি কুঁজ বিশিষ্ট উট ও দেখে থাকি। একে ব্যাকট্রিয়ান উট বলে।এই উটের পিঠে দুটো কুঁজ কেন থাকে তার সঠিক কারণ জানা না গেলেও মনে করা হয় আরও কঠিন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই এইরকম অভিযোজন।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading