সববাংলায়

উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন

মরুভূমিতে উট-ই রাজা। মরুভূমির ঐ ভয়ানক তাপমাত্রা, জীবন ধারণের সব রকমের প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ সমস্ত বিরুদ্ধ অবস্থাকে জয় করার ক্ষমতা প্রকৃতি কেবল উটকেই দু’হাত খুলে দিয়েছে আর সেই কারণেই উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।কিন্তু ঠিক কি কি বিশেষ বৈশিষ্ট্য উটের রয়েছে যার জন্য উট জীবন ধারণের পক্ষে প্রতিকূল মরুভূমিকে অনায়াসে জয় করতে পারল? আসুন জানা যাক একে একে।

 

উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন | সববাংলায়

পা- পূর্ণবয়স্ক উটের ওজন ৪৫০-৬৫০ কেজি অবধি হয়। উচ্চতা প্রায় ২মিটার। এত বড় শরীরকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার অত্যন্ত সবল পায়ের দরকার। উটের ক্ষেত্রে এই পা উটকে মরুভূমির জাহাজ শিরোপা আনবার ক্ষেত্রে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।উটের চারটি পা’ই ভীষণ সুগঠিত ও শক্তিশালী এবং লম্বা হয়। প্রতিটা পায়ের পাতায় চওড়া, চর্বি ও নমনীয় ফাইবারের পুরু আস্তরণ থাকে যা লোম দিয়ে ঢাকা থাকে। উটের পায়ের পাতা দেখতে অনেকটা জুতোর সোলের মত বলে একে ‘সোল প্যাড’ বলে।এই সোল প্যাডের দরুন উট প্রচন্ড গরম বালির মধ্যে দিয়ে অনায়াসে হেঁটে যেতে পারে।বালির মধ্যে উটের পা বেশি প্রবেশ যে করেনা তা এই সোল প্যাডের কারণেই।উটের পায়ের এই সোল প্যাড প্রায় অবিশ্বাস্য রকমের চওড়া হয়। সবথেকে বড় ব্যাপার বাহ্যিক কোন রকম উত্তেজনা, অর্থাৎ ঠান্ডা বা গরম, কঠিন বা নরম কোন কিছুই এই সোল প্যাড থাকার কারণে উট বুঝতে পারে না। ফলে গরম বালির ওপর মাখনের মত হেঁটে যায় উট।উটের পুরো শরীরটার ভার বহন করে উটের তৃতীয় এবং চতুর্থ পা। একারণে উটকে even toed ungulate বলে।

 

উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন | সববাংলায়

 

চোখ- উটের দৃষ্টিশক্তি প্রখর যার কারণে দিনে বা রাতে উটের স্পষ্ট দেখতে কোন সমস্যা হয় না।উটের চোখ জোড়া লম্বা ও পুরু চক্ষু পল্লব(চোখের পাতায় যে লোম থাকে) দ্বারা ঢাকা থাকে যার ফলে উটের চোখে ধুলোবালি ও গরম বায়ু প্রবেশ করতে পারে না এবং উটেরও অনায়াসে মরুভুমির ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে অসুবিধে হয় না।

 

 

 

উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন | সববাংলায়

 

কান– উটের কান গুলো ছোট হয় আকারে যা আবার মোটা লোম দিয়ে ঢাকা থাকে সব দিক থেকে।ফলে মরু ঝড়ের সময় উটের কানে গরম বালি প্রবেশ করতে পারে না।

 

 

সব্বাংলায়

 

নাক- উটের নাক সামনের দিকে দু ভাগে ভাগ করা এবং পুরু লোম দ্বারা এমনভাবে ঢাকা থাকে যাতে ধুলোবালি আটকাবে অথচ শ্বাস প্রশ্বাসে কোন বিঘ্ন ঘটবে না।উটের নাকের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল এটি শক্তিশালী পেশী দিয়ে ঘেরা থাকে যার সাহায্যে মরু ঝড়ের সময় উট নাকের ফুটোটি বন্ধ করে রাখতে পারে আবার প্রয়োজনে খুলতেও পারে। 

 

 

সববাংলায়

 

 

গলা– উটের গলা লম্বা কেবল নয় বাঁকানো। মরুভূমিতে কম উচ্চতার বেশির ভাগ কাঁটা ঝোপ হয়। খাওয়ার মত পাতা যা পাওয়া যায় তা বেশ লম্বা উচ্চতার গাছগুলিতে। এই লম্বা উচ্চতায় থাকা পাতা খাওয়ার কারণেই উটের গলা অভিযোজিত হয়ে লম্বা হয়েছে।

 

 

 

 

 

উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন | সববাংলায়

 

কুঁজ– একটা প্রচলিত ধারণা হল উটের কুঁজে জল থাকে। কথাটি সত্যিও নয় আবার মিথ্যেও নয়। উটের কুঁজে যেটা থাকে সেটা চর্বি যা পিরামিডের আকারে উটের পিঠে জমে থাকে। ড্রমেডারি উট বা আরবীয় উটের পিঠে একটি কুঁজ থাকে আর ব্যাকট্রিয় উটের পিঠে দুটো।প্রচন্ড গরমে খাবার ও জলের অভাব পূরণ করে উটের এই কুঁজ।

 

 

ওপরের বৈশিষ্ট্যগুলো দেখলেই বোঝা যায় উটকে প্রকৃতিই দান করেছে মরুভূমির সম্রাট হওয়ার যাবতীয় শারীরিক সুবিধা।নাহলে কি আর এমনি এমনি মরুভূমির জাহাজ বলা হয়!


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading