বিজ্ঞান

তুষারপাত হয় কেন

জলচক্র বা বৃষ্টিচক্রের কথা আমরা সকলেই জানি। ভূপৃষ্ঠের জল বাষ্প  হয়ে আকাশে উঠে যায়, সেখানে ছোট ছোট ধুলোকণার সাথে বাষ্প ও  জলবিন্দুগুলি সংস্পর্শে এসে তৈরি হয় মেঘ। সেই মেঘ আরও ঠান্ডা হলে বাষ্প  আরও ঠান্ডা হয়ে জলবিন্দুগুলি আকারে বড় হয় ও একটা সময় আকাশে ভেসে থাকতে পারে না ও পৃথিবীর টানে মাটির দিকে নেমে আসে যা জল আকারে নামলে বলি বৃষ্টি (rain)। শীতের দেশে বা উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে তুলোর মত সাদা হালকা তূষার পাতও হয়। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে অবশ্য বৃষ্টির সঙ্গে বরফ কুচি (sleet) বা বড় বড় বরফখন্ড বা শীল (hail) পড়তে দেখা যায় এবং তার কারণ আমরা অন্য একটি লেখায় ব্যাখ্যা করেছি। এখানে আমরা তুষারপাত কেন হয় তার ব্যাখ্যা দেব।

বৃষ্টি পড়ে কেন তা আমরা কম বেশি সকলেই জানি। ভূপৃষ্ঠের জল গরম হয়ে বাষ্প আকারে উপরে উঠে যায় এবং আকাশে ভাসমান ধুলিকণা ও জলবিন্দুর সংস্পর্শে এসে মেঘ তৈরি করে। এই মেঘ উপরে উঠলে ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে এবং মেঘের জলীয় বাষ্প প্রথমে জলবিন্দু এবং আরও ঠান্ডা হলে বরফের কুচিতে পরিণত হয়। এই জলবিন্দু বা বরফ কুচিগুলি মেঘের আরও অন্যান্য জলবিন্দুর সাথে যুক্ত হলে আয়তনে বড় হতে থাকে ও একটা সময় আকাশে আর ভেসে থাকতে পারে না ফলে মাটির দিকে নেমে আসতে থাকে। আমাদের দেশের মত উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে মাটিতে নামার সময় বরফকুচিগুলি আকাশে গলে যায় এবং জলবিন্দু আকারে নিচে নেমে আসে তখন তাকে আমরা বৃষ্টি বলি।

শুনতে আশ্চর্য লাগলেও, তুষার আর বৃষ্টি একই ভাবে হয়।  শুধু মেঘ থেকে যখন বরফকুচিগুলি নিচে পড়তে থাকে তখন যদি মেঘ থেকে মাটি অবধি পুরো পথটাই হিমাঙ্কের কম (০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা তার কম) উষ্ণতার হয় তাহলে সেগুলি গলে যেতে পারে না ও তুলোর মত হাল্কা বরফ আকারে মাটিতে পড়ে- যাকে আমরা তুষার বলি। অবশ্য, মেঘ থেকে মাটির দুরত্ব যদি কম হয় (যেমন উঁচু পর্বত এলাকায়) তাহলে হিমাঙ্কের কিছু বেশি উষ্ণতা থাকলেও তুষার পাত হতে পারে - এক্ষেত্রে বরফকুচিগুলি মাটিতে পড়ার আগে সম্পূর্ণ গলে যায় না ও তুষার হিসেবে নিচে পড়ে। এই কারণেই তুষার শুধু মাত্র শীতের দেশে বা উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!