বিজ্ঞান

কুকুরের ঘ্রাণশক্তি এত প্রবল হয় কেন

কুকুরের খ্যাতি মানুষের  কাছে প্রধানত দুটো কারণে। অটল প্রভুভক্তি যদি প্রথম কারণ হয়, তবে দ্বিতীয় কারণটি তার অলৌকিক ঘ্রাণ শক্তি।কিন্তু কুকুরের ঘ্রাণ শক্তির পেছনে কি এমন শারীরবৃত্তীয় কারণ রয়েছে যা তাদের গন্ধ শুঁকেই পৃথিবী চিনতে সাহায্য করে আজ সেটাই আমরা জানবো।

কুকুরের ঘ্রাণ শক্তি ঠিক কতটা প্রবল হয় সে সম্পর্কে আমাদের অর্থাৎ প্রকৃতি মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যে কোন নুন্যতম ধারণাই নেই সেটা হলফ করে বলতে পারি। পাড়ার যে নেড়িগুলোকে দেখে আমরা তাড়িয়ে দিই ঢিল ছুঁড়ে ওদের ঘ্রাণ ক্ষমতাই স্রেফ মানুষের থেকে  দশহাজার গুণ বেশি শক্তিশালী হয়।আর বিদেশি প্রজাতির কুকুরদের বিশেষ করে প্রশিক্ষিত পুলিশ কুকুরদের এই ক্ষমতা এক লক্ষ গুণ পর্যন্ত বেশি হয় মানুষের থেকে।জেমস ওয়াকার, ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্সর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক  তার সহকর্মীদের নিয়ে একটি গবেষণায় যে তথ্য পেয়েছেন সেটা শুনলে হয়ত একটু আধটু ধারণা হতে পারে আমাদের এই সারমেয় বন্ধুটির ঘ্রাণ ক্ষমতা সম্পর্কে।কুকুরের ঘ্রাণ ক্ষমতাকে যদি দৃষ্টিশক্তির সঙ্গে তুলনা করি তাহলে মানুষের দৃষ্টিশক্তি  যেখানে এক মাইলের  তিনভাগের এক ভাগ দূরত্বের বেশি প্রসারিত হয় না সেখানে কুকুরের দৃষ্টিশক্তি তিন হাজার মাইলের বেশি দূরত্ব দেখতে সক্ষম।

কিন্তু কুকুরের এই অসাধারন ঘ্রাণশক্তির রহস্যটা কি? আমাদের মস্তিষ্কের তুলনায় প্রায় চল্লিশ গুণ বেশী অংশ কুকুরের মস্তিষ্কে  ঘ্রাণ সংক্রান্ত কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণের জন্য বরাদ্দ। মানুষের নাকে যেখানে ষাট লক্ষ ঘ্রাণ রিসেপ্টর রয়েছে, কুকুরের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটা তিরিশ কোটি। এখানে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে কুকুরের যা তাকে অন্য সব প্রাণীর থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছে ঘ্রাণ ক্ষমতার বিষয়ে সেটা তার ঘ্রাণ নেওয়ার পদ্ধতি।আমাদের শ্বাস গ্রহণ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হল আমাদের নাকে শ্বাসবায়ু আর ঘ্রাণ গ্রহণের পথ একটাই। ফলে আমরা যখন শ্বাস ছাড়ি, তার সাথে সাথে গ্রহণ করা ঘ্রাণ অণুগুলোও বেড়িয়ে যায় এবং আমরাও কোন ঘ্রাণ অণু সঞ্চয় করে রাখতে পারি না।কুকুরের শ্বাস গ্রহণ আর ঘ্রাণ নেওয়ার এই পরিকাঠামোটাই আলাদা আলাদা ভাবে গঠিত। কুকুর যখন শ্বাস গ্রহণ করে সেই গৃহীত শ্বাস বায়ুর বারো শতাংশ চলে যায় নাকের পেছনে অবস্থিত ঘ্রাণ প্রকোষ্ঠে,আর অবশিষ্ট বায়ু প্রবেশ করে ফুসফুসে।এবার কুকুর যখন শ্বাস ত্যাগ করে ত্যাগ করা বায়ু আমাদের মত প্রবেশ পথ দিয়েই বেরিয়ে না গিয়ে নাসারন্ধ্রের দুপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় আর মধ্যিখান দিয়ে শ্বাসবায়ু নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করতে থাকে।

ফলতঃ ঘ্রাণ গ্রহণ অবিরাম চলতেই থাকে।এটা ছাড়াও কুকুরের নাক আরও একভাবে তাকে ঘ্রাণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে অবিসংবাদী নায়ক করে তুলেছে।কুকুরের নাকের ডগা সর্বদা ভেজা থাকে। ক্রমাগত মিউকাস নিঃসরণের ফলে নাকের ডগা ভিজে থাকে আর এই ভিজে থাকার একটা দারুণ সুবিধাও আছে।ভেজা নাকে ঘ্রাণ অণুগুলোও আটকে থাকে যা গন্ধ শুঁকে চিনতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র


  1. http://www.pbs.org/wnet/nature/underdogs-the-bloodhounds-amazing-sense-of-smell/350/
  2. https://www.syracuse.com/news/index.ssf/2014/07/expert_well-trained_cadaver_dogs_95_percent_accurate_can_smell_remains_15_feet_d.html
  3. https://www.iflscience.com/plants-and-animals/dogs-able-sniff-out-criminals-crime-scenes/
  4. https://www.dogster.com/lifestyle/dogs-sense-of-smell-facts
  5. https://www.nytimes.com/2016/10/11/science/dogs-can-train-us-to-have-a-better-sense-of-smell.html
  6. https://www.scienceworld.ca/blog/ever-wonder-how-dogs-smell
  7. https://www.purina.com.au/dogs/behaviour/sniffing
  8. http://www.sciencemag.org/news/2009/12/secret-dogs-sniffer
  9. http://www.animalplanet.com/pets/how-is-a-dogs-sense-of-smell-so-incredible/
  10. https://www.scienceabc.com/nature/animals/why-dogs-sense-of-smell-is-so-good.html
  11. http://www.pbs.org/wgbh/nova/nature/dogs-sense-of-smell.html
  12. https://en.wikipedia.org/wiki/Bloodhound#Scenting_ability
  13. https://www.youtube.com/watch?v=p7fXa2Occ_U

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়



তাঁর সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন