বিজ্ঞান

জল বর্ণহীন তাহলে সমুদ্র নীল বা সবুজ রঙ হয় কেন

আমরা দেখেছি জল সাধারণত বর্ণহীন কিন্তু সমুদ্র নীল বা সবুজ রঙ হয়। কখনো অন্য রঙেরও হয় – যেমন লোহিত সাগর অনেকটা লালচে হয়। আমরা এখানে সমুদ্রের (বা অন্য কোন জলাশয়ের ) বিভিন্ন রঙের কারণ ব্যাখ্যা করব।

পৃথিবীতে আলোর প্রধান উৎস সূর্য। সূর্যের আলো সাদা আর সাদা আলো তৈরি হয় বিভিন্ন আলোর সংমিশ্রণে। এই আলো যখন কোনো বস্তুর উপরে পড়ে, তখন বস্তুটি অনেকগুলো রং শোষণ করে নেয়। যে রংটুকু শোষণ করে না, সেটুকু প্রতিফলিত হয় বস্তুর গায়ে। ফলে প্রতিফলিত রংটাই হয় ওঠে ওই বস্তুর রং। অর্থাৎ আমরা যাকে লাল দেখি সেই বস্তুটি লাল ছাড়া অন্য সমস্ত রঙের আলো শোষণ করে নেয়। এতো গেল বিভিন্ন বস্তুর বিভিন্ন রঙ হওয়ার কারণ।

জলের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়। কিন্তু জলের উপরে যে আলো পড়ে, জলের ভিতর দিয়ে যাবার সময় সাদা আলোর সব কয়টি রং প্রায় সমান অনুপাতে শোষিত হয়। এখানে নিদির্ষ্ট রং এর কোন আলোর সবটুকু শোষিত হয় না বা নির্দিষ্ট কোন রঙের আলো সবটুকু প্রতিফলিত হয় না। তবে খালি চোখে সামান্য জল বর্ণহীন মনে হলেও খুব বিশুদ্ধ জলেরও খুব হালকা নীল রঙ আছে তাই জলের পরিমান বৃদ্ধির সাথে সাথে জলের গাঢ় নীল বর্ণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেমন পরিষ্কার জলের জলাশয় বা সমুদ্রের জল নীল হয়।

আসলে এটি ঘটে সূর্য থেকে আগত আলোকরশ্মির কারণে। যখন এই আলোকরশ্মি সাগরের জলে এসে প্রবেশ করে তখন লাল,কমলা,হলুদ এইসব দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো জলের মধ্যে বেশি শোষিত হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘের “নীল আলো” তেমনটা শোষিত না হয়ে প্রতিফলিত হয়। তখন আমরা সমুদ্রের জল নীল রঙের দেখতে পাই। এই কিছু বর্ণের আলোক শোষণকে সিলেকটিভ এবসর্প্শন (selective absorption) বলে। এ ছাড়াও জলের মধ্যে যাওয়ার সময় জলের অনু দ্বারা আলোক রশ্মি কিছুটা বিচ্ছুরিত হয় এবং রেইলির নীতি অনুযায়ী নীল আলো বিচ্ছুরিত হয় বেশি। এই ব্যাপারটি কেন হয় তা ‘আকাশ নীল হয় কেন’ লেখাটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন আসবে অনেক সময় সমুদ্রের বা পুকুরের জল সবুজ হয় কেন? এর কারণ হচ্ছে জলে উপস্থিত অন্যান্য পদার্থের কারণে। যেমন, সমুদ্রের জলে ফাইট প্ল্যাঙ্কটন – শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ থাকে যার মধ্যে থাকা ক্লোরোফিল জলের সবুজ বর্ণের কারণ হয়। ঠিক একই কারণে লোহিত সাগর লালচে হয়।

আবার, জলে যদি অধিক পরিমাণ ময়লা, কাদা, বা দূষিত পদার্থের উপস্থিতি থাকে তবে ঐ জলের এই নীল আলো বিকিরণের ব্যাপারটা ঘটতে পারে না। কারণ কাদা, ময়লা এগুলো সবধরণের আলোকেই বিকিরণে বাধা দেয়। ফলে জল তখন বিভিন্ন রঙ ঘোলা বা কালচে হয়।

এই ভাবেই আপাত দৃষ্টিতে যে বিশুদ্ধ জল আমরা বর্ণহীন দেখি সে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রঙ ধারণ করে।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

রচনাপাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান?



এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন