সববাংলায়

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন

বিভাগঃ ,

ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ শক্তির অভিশপ্ত শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা সহজ কাজ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষিপ্ত বিভিন্ন লড়াইয়ের পথ বেয়ে সেই স্বাধীনতা এসেছিল। গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলনের যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাতে, তেমন তারই পাশাপাশি সক্রিয় ছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের সংগ্রাম, যা ব্রিটিশ শক্তির ভিতকে অনেকটাই নাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। একজন ইতিহাসখ্যাত বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সংঘটিত তেমনই এক ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপের মধ্যে অন্যতম হল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন (Chittagong Armoury Raid)। ইংরেজ সেনাদের সঙ্গে নির্ভয়ে মুখোমুখি যুদ্ধও করেছিলেন মাস্টারদার দল। অস্ত্রশস্ত্র, গোলা-বারুদ লুন্ঠনের জন্য মাস্টারদাদের অতর্কিত এই হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল না ব্রিটিশরা। মাস্টারদার সঙ্গে দেশের তরুণ সব যুবকেরা এমনকি ১৪ বছরের এক কিশোরও নিঃসংকোচে দেশমাতৃকার কাজে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল। ব্রিটিশ বিরোধী এই অভিযান ব্যাপকভাবে সফলতা না পেলেও ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রান্তের মানুষকে অনেকটাই উজ্জীবিত করে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে এই নির্ভীক উত্থানটি তাই ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গান্ধীজীর পরিপূর্ণ উত্থান ঘটলেও গান্ধীজীর মত ও পথের সঙ্গে অনেকেই সহমত ছিলেন না। সেই কারণে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির আন্দোলনের পাশাপাশি চলছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মহড়াও। বিভিন্ন গুপ্ত সমিতিও গড়ে উঠতে শুরু করেছিল। এই দুটি ধারা একইসঙ্গে তখন ব্রিটিশ বিরোধিতায় সক্রিয়। অসহযোগ আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পরে ১৯৩০ সালে গান্ধীজী পুনরায় এক অহিংস আন্দোলনের ডাক দেন যা ইতিহাসে আইন অমান্য আন্দোলন নামে পরিচিত। লবন আইন ভঙ্গ করার জন্য ডান্ডি অভিযানের মাধ্যমেই আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে যথা বাংলা, বিহার, দিল্লি, বোম্বে থেকে শুরু করে গুজরাট, পাঞ্জাব, কর্ণাটক ইত্যাদি জায়গায় আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। সারা দেশব্যাপী এই আইন অমান্য আন্দোলন যখন তুঙ্গে ঠিক সেই সময়তেই সশস্ত্র বৈপ্লবিক আন্দোলনের যে ধারা, পুনরায় তার উত্থান ঘটে।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল ভারতের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত) ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা সারা ভারতবর্ষকে যেন সচকিত করে দিয়েছিল। এই ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন একজন স্কুলমাস্টার নাম যাঁর সূর্য সেন হলেও, মানুষের কাছে বিশেষত বিপ্লবী মহলে তিনি মাস্টারদা হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। মাস্টারদার দেশের প্রতি ভালবাসা এবং পরপদানত দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্নের কথা অজ্ঞাত ছিল না। চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি এই মাস্টারদা বিপ্লবীদের একত্র করে ব্রিটিশ অস্ত্রাগার লুন্ঠনের একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের মূল পরিকল্পনা ছিল চট্টগ্রাম শহরের অস্ত্রাগার দুটি দখল করা, টেলিফোন, টেলিগ্রাফের লাইন এবং রেল লাইন ধ্বংস করে কলকাতার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া এবং সরকারী ও সামরিক বাহিনীর অফিসারদের ইউরোপিয়ান ক্লাবে হামলা চালিয়ে ক্লাব-সদস্যদের আটক করা। এছাড়াও বিদ্রোহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল ব্যাঙ্কগুলি লুঠ করা ও বিভিন্ন জেলে বন্দী বিপ্লবীদের মুক্ত করাও ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য। ইতিহাসে এই অভিযানই চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন নামে পরিচিত।

চট্টগ্রামের অস্ত্রাগারে হামলাকারী বিপ্লবীরা ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য ছিলেন। তাঁরা স্বাধীনতা অর্জনের উপায় হিসেবে সশস্ত্র আন্দোলনেরই পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। ১৯১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের ইস্টার রাইজিং দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তাঁরা এবং মাস্টারদার নেতৃত্বে এই অভিযানে নেমে পড়েছিলেন। মাস্টারদার বিপ্লবী সহকর্মীদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন, লোকনাথ বল, গণেশ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, নির্মল সেন, জীবন ঘোষাল, অম্বিকা চক্রবর্তী প্রমুখ। উল্লেখ্য যে মাস্টারদা কিন্তু নারীদেরকেও তাঁর গুপ্ত সমিতির অভ্যন্তরে টেনে এনেছিলেন। তাঁর নারী সহযোদ্ধাদের মধ্যে দুটি বিখ্যাত নাম হল প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত। ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির চট্টগ্রাম শাখার প্রায় ৬৫ জন এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল রাত দশটা নাগাদ বিপ্লবীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী অতর্কিতে হামলা করেন। গণেশ ঘোষের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের একটি দল পুলিশ অস্ত্রাগার দখল করে নেন। অন্যদিকে লোকনাথ বলের নেতৃত্বে দশজন বিপ্লবীর আরেকটি দল অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগারের দখল নিয়েছিলেন। তবে বিপ্লবীরা গোলাবারুদ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। অন্যদিকে বিপ্লবীরা টেলিফোন ও টেলিগ্রাফের তার কেটে ফেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং রেল চলাচলও ব্যাহত করেন। প্রায় ১৬ জন বিপ্লবী ইউরোপীয় ক্লাবের সদর দপ্তর দখল করেন কিন্তু সেদিনকে গুড ফ্রাইডে হওয়ার কারণে কয়েকজন ক্লাব-সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিপ্লবীদের এই অতর্কিত হানার পর সেই ইউরোপীয়রা সেনাদের কাছে সতর্কবার্তা প্রেরণে সক্ষম হন, যা বিপ্লবীদের ধারণার বাইরে ছিল। অন্যদিকে পুলিশ অস্ত্রাগারের বাইরে বিপ্লবীরা জড়ো হন। সেখানে মাস্টারদাকে সামরিক স্যালুট জানানো হয়। মাস্টারদা সেখান থেকে একটি অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারের ঘোষণা করেন। ভোর হওয়ার আগেই বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে পাহাড়ি এলাকার দিকে অগ্রসর হন এবং লুকোনোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকেন।

এর কিছুদিন পরে পুলিশ কয়েকজন বিপ্লবীর সন্ধান পেয়েছিল। ২২ এপ্রিল বিকেল বেলায় কয়েকজন বিপ্লবী চট্টগ্রাম সেনানিবাসের কাছে জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। যখন তাঁরা আরোহণ শুরু করে সেসময়, বিকাল ৪টে নাগাদ একটি ট্রেন চট্টগ্রাম নাজিরহাট শাখা রেললাইনের পাশে ঝাড়ঝাড়িয়া মসজিদের কাছে এসে থামে। এই ট্রেন থেকে ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস এবং সুরমা ভ্যালি লাইট ইনফ্যান্ট্রির সশস্ত্র বাহিনী বেরিয়ে আসে। কিন্তু বিপ্লবীরা তাতে ভয় পাননি। লোকনাথের বলের কৌশলে বিপ্লবী বাহিনীও আটটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ের চারদিক ঘিরে ফেলে। এরপর তুমুল গুলি বিনিময় শুরু হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে বিপ্লবীরা সৈন্যদের পর্যুদস্ত করতে সফল হলেও পাল্টা সেনাদের আক্রমণে বিপ্লবীরা দিশাহারা হয়ে পড়তে থাকে। দলের কনিষ্ঠ সদস্যদের একজন টেগরা অর্থাৎ লোকনাথ বলের ভাই গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়াও সেনাদের মেশিনগানের গুলিতে নির্মললালা, নরেশ রায়, বিধু ভট্টাচার্য, জিতেন দাশগুপ্ত, ত্রিপুরা সেন, পুলিন ঘোষ, শশাঙ্ক দত্ত, মধু দত্ত এবং মতি কানুনগো একে একে প্রাণ হারান। রাত নামার সাথে সাথে ব্রিটিশ সেনা যুদ্ধ থামিয়ে ট্রেনে চড়ে। মাস্টারদারাও সেই রাতে পাহাড় থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন সকালে ব্রিটিশ সেনা পুনরায় ফিরে গুলি চালায় কিন্তু কোনও প্রত্যুত্তর পায় না বরং পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় বিপ্লবীদের মৃতদেহগুলি দেখতে পায়। সঠিকভাবে না জানা গেলেও টেগার্ট জানান এই যুদ্ধে ৬৪জন ব্রিটিশ সেনা এবং ১২জন বিপ্লবী নিহত হয়েছিল।

মাস্টারদা তাঁর সহযোদ্ধাদের ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে আশেপাশের গ্রামে ছড়িয়ে দেন এবং কেউ কেউ এভাবেই পলায়ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই দলগুলি ছোটছোট ভাগে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই রকমই, একটি ইউরোপীয় বাসভবন আক্রমণের পর কালারপোল এনকাউন্টারে দেব গুপ্ত, মনোরঞ্জন সেন, রজত সেন ও স্বদেশরঞ্জন রায় নিহত হন এবং সুবোধ ও ফণী আহত ও গ্রেফতার হন।

বিপ্লবীদের কেউ কেউ কলকাতায় পালিয়ে গেলেও কয়েকজনকে ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেফতার করে। অনন্ত সিং, যিনি কিনা চন্দননগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলেন, সেখান থেকে চলে আসেন কলকাতায়, কারণ তিনি চট্টগ্রামে বন্দী ও বিচারাধীন কিশোরদের কাছাকাছি থাকতে চেয়েছিলেন। কয়েক মাস পর পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট বিপ্লবীদের আস্তানা ঘেরাও করে এবং সেখানেও খণ্ডযুদ্ধে বিপ্লবী জীবন ঘোষাল নিহত হন।

অভিযানের সময় এবং পরে গ্রেফতার হওয়া বিপ্লবীদের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলায় বিচার শেষ হয় ১৯৩২ সালের জানুয়ারি মাসে এবং রায় জানানো হয় ১ মার্চ। আসামীদের মধ্যে ১২জনকে যাবজ্জীবন নির্বাসন দেওয়া হয়, দুজনকে তিন বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয় এবং ৩২জনকে খালাস দেওয়া হয়। আন্দামানে নির্বাসিত বারোজন বিপ্লবীদের মধ্যে ছিলেন গণেশ ঘোষ, লোকনাথ বল, ষোল বছর বয়সী আনন্দ গুপ্ত এবং অনন্ত সিং।

এরপরেও বিপ্লবীরা নিজেদের পুনর্গঠিত করে। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্ব কালীকিংকর দে, বীরেশ্বর রায়, প্রফুল্ল দাস, শান্তি চক্রবর্তীসহ আরও কয়েকজন বিপ্লবী পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবে হামলা করে একজন মহিলাকে হত্যা করেন এবং কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করেন। আক্রমণের পর বিপ্লবীরা পালিয়ে গেলেও আহত হওয়ার কারণে প্রীতিলতা পালাতে না পেরে গ্রেফতারি এড়ানোর জন্য সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন।

তবে ১৯৩৩ সালে যখন ব্রিটিশ পুলিশ মাস্টারদাকে গ্রেফতার করে এবং ১৯৩৪ সালে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয় তখন চট্টগ্রাম বিপ্লবী গোষ্ঠী সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পুরস্কারের লোভে এবং হয়তো ঈর্ষা থেকেও নেত্র সেন ব্রিটিশ পুলিশকে খবর দিয়ে দেন যে মাস্টারদা তাঁর বাড়িতেই আত্মগোপন করে ছিলেন। অবশ্য নেত্র সেন দশ হাজার টাকা পুরস্কারমূল্য পাওয়ার আগেই বিপ্লবীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন অভিযানের প্রধান নেতা মাস্টারদা সূর্য সেনকে ফাঁসি দেয় ব্রিটিশ প্রশাসন।

এই চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন অভিযান পরিপূর্ণ সফলতা না পেলেও এটি যে ব্রিটিশদের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল তাতে সন্দেহ নেই কোনও। আতঙ্কিত ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র সচিব স্যার স্যামুয়েল হোর মন্তব্য করেছিলেন যে, চট্টগ্রাম বিদ্রোহের মতো ঘটনা ভারতে ইংরেজ শাসনের বিদায়ের দিন ঘনিয়ে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সর্বোপরি এই দুঃসাহসিক অভিযান সারা ভারতবর্ষের সম্মুখে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসাধারণ বীরত্বের নিদর্শন হয়ে উঠেছিল। ভারতবাসীর মনকে যেন একধাক্কায় জাগিয়ে তুলেছিলেন মাস্টারদা এবং তাঁর বিপ্লবীদল। সরকারি রিপোর্টে এই ঘটনাকে ‘বিপ্লববাদের ইতিহাসে অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. ‘স্বদেশ, সভ্যতা ও বিশ্ব’, জীবন মুখোপাধ্যায়, শ্রীধর পাবলিশার্স, কলকাতা, পুনর্মুদ্রণ, জানুয়ারি, ২০২১
  2. https://en.m.wikipedia.org/
  3. https://amritmahotsav.nic.in/
  4. https://www.newsclick.in/
  5. https://prepp.in/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading