বিজ্ঞান

সমুদ্রের জল লবণাক্ত হয় কেন

একই বৃষ্টির জলে পুষ্ট হলেও পুকুর, হ্রদ বা নদীর জল মিষ্টি বা সুপেয় হয় অথচ সমুদ্রের জল নোনা বা লবণাক্ত হয়।এমনকি আমরা যে লবণ খাই তা এই সমুদ্রের জল থেকেই তৈরি করা হয়।আমরা এখানে সমুদ্রের জল লবণাক্ত হয় কেন তা ব্যখ্যা করব।

আমরা সকলেই জলচক্রের কথা জানি – জল বাষ্প হয়ে মেঘ হয়, মেঘ থেকে বৃষ্টি, সেই জল পুকুর,নদী, ইত্যাদি হয়ে সমুদ্রে মেশে, আবার সেখান থেকে জল বাষ্প হয়ে মেঘ – এই ভাবে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। আর এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে কিভাবে সমুদ্রের জল লবণাক্ত হওয়ার কারণ।

যখন বৃষ্টি হয় তখন বাতাসে মিশে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড বৃষ্টির জলে মিশে যায় ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলের সংমিশ্রণে তৈরি হয় কার্বনিক এসিড। এই কার্বনিক এসিডের কারণে বৃষ্টির জল সামান্য এসিডিক (অম্ল) হয়। এই বৃষ্টি পাথর, মাটি পেরিয়ে সমুদ্রে গিয়ে মেশে। আম্লিক বৃষ্টি যখন ভূ-শিলার ওপর পড়ে বা প্রবাহিত হয় তখন শিলা ক্ষয় হয়। শিলার মধ্যে থাকা আয়ন বৃষ্টির জলে মিশে যায় ও নদীর স্রোতের সাথে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। এই জলে দ্রবীভূত আয়নের একটা বড় অংশ আবার বিভিন্ন ছোট বড় জীব দ্বারা ব্যবহৃত ও অপসারিত হয়। আর বাকি আয়ন দীর্ঘদিন ধরে জমা হয়। সমুদ্রের জল যখন বাষ্প হয় তখন এই আয়নগুলি বাস্পায়িত হয় না, তারা জমা হতে থাকে। এ ভাবে দীর্ঘদিন ধরে জমা হতে হতে সমুদ্রের জলে দ্রবীভুত আয়নের ঘণত্ব খুব বেশি হয়ে যায়।

সমুদ্রের জলে সবচেয়ে বেশি থাকে ক্লোরাইড আর সোডিয়াম। এ দুটো আবার একসঙ্গে ৯০ শতাংশের বেশি আয়ন তৈরি করে। বলাই বাহুল্য, সোডিয়াম ও ক্লোরাইড স্বাদে লবণাক্ত। সমুদ্রের সমস্ত জল একই রকম  লবণাক্ত না হলেও লবণের পরিমাণ সমুদ্রের জলের  ৩.১ থেকে ৩.৮ শতাংশ  হয় বা গড়ে ৩.৫ শতাংশ (৩৫ গ্রাম/কেজি)।   ধারণা পেতে বলা যায়, পৃথিবীর সমুদ্র থেকে সব লবণ যদি তুলে সমস্ত স্থলভাগের উপর সমান ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যেতো, তবে সে লবণ স্তুপের উচ্চতা হতো পাঁচশো ফুট! যা একটি ৪০ তলা একটি অফিস বিল্ডিংয়ের সমান।

এ তো গেল, সমুদ্রের জল লবণাক্ত হয় কেন তার ব্যাখ্যা। কিন্তু হ্রদ, বা নদীর জল লবণাক্ত হয় না কেন? নদী বা হ্রদের ক্ষেত্রে জল প্রবাহিত হতে থাকে, অর্থাৎ এক দিকে ঢোকে এবং অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে থাকে এবং এই প্রক্রিয়ায় জলে দ্রবীভুত আয়নও বেরিয়ে যায় এবং শেষ অব্দি সমুদ্রে গিয়ে জমা হয়। মরু সাগর বা আমেরিকার গ্রেট সল্ট লেক এ জল প্রবাহিত অন্যান্য লেক বা নদীর মত ঢোকে বা বেরোয়না তাই এগুলির লবণত্ব অন্যান্য সমুদ্রের প্রায় সমান বা বেশি।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!