সববাংলায়

ঠোঁট ফাটে কেন এবং প্রতিকার কিভাবে

ঠোঁট আমাদের আচ্ছাদন তন্ত্র বা ত্বকের একটি অংশ কিন্তু দেহের চামড়ার থেকে ঠোঁট ফাটে বেশি। বিশেষ করে যখন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায় যেমন শীতকালে ঠোঁট ফাটার মাত্রা বেড়ে যায় এবং কম বেশি সকলেরই ঠোঁট ফাটে। আমরা এখানে জেনে নেব ঠোঁট ফাটে কেন এবং সেটি জানা হয়ে গেলে সহজেই বুঝতে পারব এর প্রতিকারের উপায়।

প্রথমেই বুঝে নিতে হবে আমাদের ত্বকের গঠন। আমাদের ত্বক তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত – এপিডারমিস (বহিঃস্তর), ডারমিস (মধ্যস্তর), হাইপোডারমিস (অন্তঃস্তর)। এর মধ্যে ঠোঁটের ত্বক খুবই পাতলা হয়, বিশেষ করে এপিডারমিস স্তর এতই পাতলা হয় যে সাধারণ অবস্থাতেই ঠোঁট লালাভ দেখায় – কারণ ভিতরের স্তরে রক্তবাহী জালিকাদের লালচে আভা দেখা যায়। এপিডারমিস এবং সামগ্রিক ভাবে ঠোঁটের ত্বক পাতলা হওয়ার জন্যে আবহাওয়ার থেকে খুব একটা ভাল সুরক্ষা দিতে পারে না তাই শুষ্ক আবহাওয়া, সূর্যালোক ইত্যাদি দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়।

এ ছাড়া  ত্বকের অন্য অংশে লোম থাকলেও ঠোঁটে থাকে না ফলে দেহের অন্য অংশের থেকে কম সুরক্ষা পায় ঠোঁট।

এ তো গেল ঠোঁটের গঠনগত কারণের জন্য উদ্ভূত সমস্যার কথা। এর সঙ্গে অবস্থানগত কারণও আছে। জিহ্বার খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় ঠোঁট সামান্য শুষ্ক মনে হলেই আমাদের অজান্তেই জিহ্বা চলে যায় ঠোঁটে। সাময়িকভাবে ঠোঁট ভিজলেও স্যালাইভা শুকিয়ে গেলে তা আগের থেকেও বেশি শুকিয়ে যায়। এই জন্য বলা হয়, জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটলে বেশি ঠোঁট ফাটে।

এছাড়া নাকের বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস গ্রহণ-বর্জন করলে বাতাস প্রবাহের কারণে ঠোঁট বেশি শুকিয়ে যায় – ফলে ঠোঁট ফাটে। দেহে জলের পরিমাণ কম হলেও ঠোঁট ফাটে।

ঠোঁট ফাটে কেন তা বোঝা গেল, এরপর ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তির উপায়গুলি জেনে নিতে হবে। কারণগুলি থেকে একথা স্পষ্ট যে ঠোঁট শুষ্ক হলে ফাটার সম্ভবনা বেড়ে যায় – তাই ঠোঁটকে যত সম্ভব আর্দ্র রাখতে হবে। এর জন্য কোনো ময়েশ্চারাইজার (লিপ বাম) লাগানো যেতে পারে। যেহেতু শরীরে জলশূন্যতাও এর কারণ তাই প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। মুখ দিয়ে শ্বাস গ্রহণ-বর্জন করা চলবে না আর অতি অবশ্যই জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটা বন্ধ করতে হবে। আর ঘরে হিউমিডিফায়ার রাখা যেতে পারে, বিশেষ করে এসি ঘর বা অফিসের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রয়োজনীয় যন্ত্র।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading