সববাংলায়

২৭ ফেব্রুয়ারি | বিশ্ব এন জি ও দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। সমগ্র বিশ্বে পালনীয় সেই দিবসগুলির মধ্যে একটি হল বিশ্ব এন জি ও দিবস (World NGO Day)।

প্রতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি সমগ্র বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব এন জি ও দিবস। সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত স্তরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হতে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিশ্বব্যাপী এই সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়। এই বিশেষ দিনটি উদযাপনের অন্যান্য আরও কিছু লক্ষ্য রয়েছে –

  • সমাজের সর্বত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির কার্যক্রম, প্রয়াস এবং সাফল্যের দিক মানুষের সামনে তুলে ধরা।
  • স্থানীয়, জাতীয় এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক স্তরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে অবগত করা।
  • বিশ্বের সমস্ত স্তরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে একই মঞ্চে এনে নিজেদের কাজের দুর্বলতা এবং সমস্যার দিকগুলি সম্পর্কে আলোচনা করার সুযোগ করে দেওয়া।

সাধারণভাবে এন জি ও বলতে যে কোনও রকমের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বোঝায়। রাষ্ট্রসংঘ এই এন জি ও-র সংজ্ঞা দিতে গিয়ে জানিয়েছে যে, স্থানীয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে গঠিত অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী নাগরিকদের গোষ্ঠীকেই এন জি ও বলা হয়। এই সংগঠন নানা ধরনের সেবামূলক, মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে নিয়োজিত থাকে এবং নাগরিকদের নানাবিধ ভাবনা-চিন্তার কথা সরকারের সামনে তুলে ধরে। কিছু কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবাধিকার কিংবা শিশুস্বাস্থ্য অথবা পরিবেশ এই রকম নির্দিষ্ট ইস্যুকে কেন্দ্র করে কাজ করে। আবার বিশ্ব ব্যাঙ্কের এন জি ও সংক্রান্ত কার্যকরী নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, এন জি ও হল সেইসব গ্রুপ বা সংগঠন যারা সম্পূর্ণ কিংবা প্রধানত সরকারের থেকে স্বাধীন এবং যাদের বৈশিষ্ট্য হল মূলগতভাবে মানবিক বা সমবায়মূলক, অর্থনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে নয়। প্রতিটি এন জি ও-র তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল – স্বশাসিত, অলাভজনক এবং অ-সরকারি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণত নিজেদের লগ্নির ভিত্তিতে মুনাফা ও সম্পদ সৃষ্টি করে। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য মাথায় রেখে একই কাজ কোনও প্রতিষ্ঠান লাভের উদ্দেশ্য না রেখে করতে এগিয়ে আসে তাদের অ-সরকারি (Non-Government) প্রতিষ্ঠান বলা হয়। সাধারণভাবে এন জি ও-গুলিকে লক্ষ্য নির্ভর এবং সহযোগিতা নির্ভর এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন লক্ষ্য নির্ভর এন জি ও বলতে বোঝায় দাতব্য, পরিষেবামূলক, অংশগ্রহণমূলক, পেশাদারি সমিতি ইত্যাদি আর অন্যদিকে সহযোগিতা নির্ভর এন জি ও বলতে বোঝায় সম্প্রদায়ভিত্তিক, শহরভিত্তিক ইত্যাদি। এছাড়াও আরও অনেক ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় বিশ্বের সমস্ত ধরনের এন জি ও-গুলিকে। ২০১০ সালের ১৭ এপ্রিল প্রথম লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে বাল্টিক সাগর এন জি ও ফোরামের ১২টি সদস্য রাষ্ট্র একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব এন জি ও দিবস পালনের প্রস্তাব দিয়েছিল। সদস্য রাষ্ট্রগুলি ছিল বেলারুশ, ডেনমার্ক, এস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়া, নরওয়ে এবং সুইডেন। তারপর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বাল্টিক সাগর এন জি ও ফোরাম কমিটি দীর্ঘস্থায়ী বাল্টিক সাগর অঞ্চলের জন্য সামাজিক পুঁজি এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব এন জি ও দিবস পালনে সম্মতি জানায়। ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশ্ব এন জি ও দিবসের প্রথম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে ইউএনওপিএস (UNOPS), ইউনেস্কো (UNESCO), ইউএনডিপি (UNDP), ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, নর্ডিক কাউন্সিল সহ অন্যান্য আরো সংস্থার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন সেই সভায়। মূলত এই বিশেষ দিনটি পালনের কথা প্রথম ভেবেছিলেন আইনের ছাত্র। মার্সিস লিওস স্ক্যাডম্যানিস। ব্যক্তি ও সম্প্রদায়কে নানাবিধ সুবিধা দিতেই এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি কাজ করে থাকে। স্থানীয় স্তরে মানুষের জীবনকে উন্নত করে তোলার স্বার্থে, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা এবং আর্থিক সহায়তার মধ্য দিয়ে নানাবিধ পরিষেবা দান করে এন জি ও-গুলি। বিভিন্ন শহরাঞ্চলে এই সংগঠনগুলি কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক সুবিধা দানের ব্যবস্থাও করে থাকে। বহু সংখ্যক মানুষ এই সংস্থাগুলিতে কাজ করে থাকেন। পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা গেছে ভারতে নিবন্ধীকৃত এন জি ও-র সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ। সেন্ট্রাল সোসাইটিস অ্যাক্ট-এর আওতায় ভারতের সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি কাজকর্ম করে থাকে। আন্তর্জাতিক সচিবালয় বিশ্ব এন জি ও দিবসে পাকিস্তানের মি. জাফর ইকবালকে সম্মানীয় শুভেচ্ছা রাষ্ট্রদূত (Honorary Goodwill Ambassador) হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনিই ‘দ্য এন জি ও ওয়ার্ল্ড’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৪ সালে তাঁর উদ্যোগে প্রথম পাকিস্তানে এই বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপিত হয়। তার পরের বছর থেকে।

প্রতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি দিনটিতে বিভিন্ন আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বিশ্ব এন জি ও দিবস। ইন্টারনেটে, টিভিতে, বেতারে কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এই বিশেষ দিনে। কোনও কোনও সময় ভালো চিন্তা-ভাবনা, ভালো উদ্যোগ বা পরিকল্পনা বিনিময়ের জন্যও আয়োজন করা হয়ে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। সমগ্র বিশ্ব জুড়ে উদ্‌যাপন, স্মরণ এবং সহযোগিতার বার্তা নিয়েই এই বিশেষ দিনের সার্বজনীন ধারণা প্রচার করা হয়। স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সহায়তায় ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা, দুঃস্থ মানুষদের সাহায্যার্থে ত্রাণ তহবিল গড়ে তোলা, ‘এন জি ও এক্সচেঞ্জ’ (NGO Exchange) অনুষ্ঠান আয়োজন করা ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। ২০২০ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়েছিল ইসলামাবাদে। সেখানে এনসিআরডি (NCRD)-র আয়োজনে সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সেমিনার, এনজিও-র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading