বাংলাদেশের যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের জন্য দেওয়া সংরক্ষণ নিয়ে সেই আন্দোলন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এই অবস্থায় আপনার মতামত জানান – এই অবস্থা কেন হল এবং ভবিষ্যত কী হতে পারে?
বাংলাদেশ এক উত্তাল সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছে – যে পালাবদল ঘটতে চলেছে তার আমরা সাক্ষী। বর্তমান সময়ের ভাবনাচিন্তাকে এক জায়গায় লিখে রাখার জন্যই এই লেখাটির অবতারণা।
সববাংলায় সাইটে বাংলাদেশের সব প্রধানমন্ত্রীদের নিয়ে প্রজেক্ট করার সময়ই একটা ব্যাপার মাথায় খুব ঘুরছিল, যে, শেখ হাসিনার এইবারের শাসনপর্বই সম্ভবত বাংলাদেশের সব থেকে লম্বা সময়ের “স্থিতিশীল অবস্থা”। এই ভাবনাটা বোধ হয় ৬ মাসও পেরোলো না শেখ হাসিনার পতন এবং পলায়ন!
আমরা যারা ভারতে থাকি, তাঁরা স্বভাবতই খুব বেশি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সম্পর্কে জানি না – যখন যেটুকু সংবাদে বা ফেসবুকে ভেসে আসে সেটুকুই আমাদের জানা। তাই আমার এই লেখার অধিকাংশই সেইসব তথ্যের উপর নির্ভর করে এবং আমার এই বিশ্লেষণ ঠিক না-ও হতে পারে।
২০১৩ সালে যখন শাহবাগ আন্দোলন হয়েছিল সে সময়ও অসংখ্য ছাত্র রাস্তায় নেমেছিল। তবে সেই আন্দোলন মূলত বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগের সমর্থন ছিল আন্দোলনের পক্ষে। এর থেকে বোঝা যায় সেই সময়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়নি হাসিনার – অবশ্য হওয়ার কথাও নয় – কারণ ক্ষমতায় তখন তিনি খুব বেশি সময় পার করেননি। তবে ক্ষমতার মোহ যে ক্রমশই তাঁকে গ্রাস করছিল তা স্পষ্ট হয়ে আসে একের পর এক ব্লগার খুনের ঘটনায়। সে সময়ই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, যে, হাসিনাও ধীরে ধীরে কট্টরপন্থীদের দিকে ঝুঁকছেন। আর এটাই কাল হলো! আমরা, যারা মনে করি – শাসক ও প্রশাসন সবসময় ধর্ম নিরপেক্ষ হওয়া উচিত, তাদের কাছে মৌলবাদীদের দিকে এই প্রচ্ছন্ন বা অপ্রচ্ছন্ন সমর্থন কখনোই কাঙ্খিত নয়। আমার এই অবস্থান শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতে কেন্দ্রে হিন্দুত্বের সমর্থক শাসক ও রাজ্যে সংখ্যালঘু তোষণকারী শাসকের বিরুদ্ধেও একই। কিন্তু আমার বা আমার মতো ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনার মানুষদের নিয়ে শাসকের কিছু যায় আসে না – কারণ শাসকের গদি টিকে থাকে ভোটসংখ্যার বিচারে – আর তাঁরা ভোট পেতে মানুষের মন জয় করার সাধারণ উপায় (সার্বিক উন্নয়ন) না বেছে নিয়ে সহজ পদ্ধতি ধর্মের বিভাজনের পথ বেছে নেন। হাসিনাও তাই করে ভাবলেন, মুসলিম মন জয় করে ভোট পেরোবেন। কিন্তু তাতেও নিশ্চিত না হতে পেরে ভোট লুট ও ভোটে বিরোধী দাঁড়াতে না দেওয়া ইত্যাদির ব্যবস্থা করলেন।
তাই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। যখন কোটা বিরোধী আন্দোলনে লাখ লাখ ছাত্র রাস্তায় নামছিল, তখন এই আন্দোলনের সমর্থন করেছিলাম। সংরক্ষণের যে নীতি রাখা হয়েছিল তা সত্যিই হাস্যকর কিন্তু এখানে যেটা আসল ব্যাপার, হাসিনা কিন্তু এই বিষয়ে এত এত লোকের রাস্তায় নামাকে শুধু কোটা-বিরোধী আন্দোলন ভেবে বসেছিলেন, তিনি ভাবেননি অন্যান্য বহু ক্ষোভ সকলকে এক করে দিয়েছে এই সময়ে। আর সেই কারণেই তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলেও সেই আন্দোলন থেমে যায়নি।
আমি এই আন্দোলনের সময়ে হাসিনার যে মুখ ফুটে উঠেছে সেই নিয়ে বিস্তারিত যাবো না কারণ তিনি তখন ক্ষমতার দম্ভে ও অহংকারে ধরাকে সরা ভাবছিলেন – তাঁকে যেতে হতো, গেছেন। এ রাজ্যেও ধরাকে সরা জ্ঞান করে বাম সরকারের পতন হয়েছে। তবে দুটো পতনের পদ্ধতিতে এতটাই পার্থক্য যে আশা এবং আশঙ্কা সেখানেই। এই রাজ্যের ক্ষেত্রে আশাও ছিল না আর বিশেষ আশঙ্কাও ছিল না সেই সময়।
বর্তমানে যে ধ্বংসলীলা চলছে, সেটা এই ধরণের আন্দোলনের ক্ষেত্রে খুব অস্বাভাবিক নয় – তাই এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষিতে বিশেষ কিছু মতামত রাখছি না। কোন হত্যা (বিরোধী ও সংখ্যালঘু), আগুন লাগানো, স্থাপত্য-ভাস্কর্য ভাঙা সমর্থন করা যায় না – এগুলিও স্বাভাবিকভাবেই সমর্থন করছি না। হয়ত আগামী কয়েকদিনে ধীরে ধীরে এই সব শান্ত হবে। কিন্তু তারপরে কী হবে সেটা বেশি চিন্তার। অন্য সকলের মতো একটা আশা করতে পারি, শিক্ষিত যুবকেরা দেশের শাসনভার হাতে তুলে নিয়ে নতুন ভাবে ভাবনা চিন্তা করবে ও দেশকে দিশা দেখাবে।
কিন্তু এতটা আশাবাদী হতে পারছি না এই আন্দোলন এবং আন্দোলন পূর্ববর্তী বাংলাদেশের হাল-হকিকত দেখে। এই আন্দোলনের মুখ ছাত্ররা হলেও ক্রমেই একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে জামাতিদের মতো উগ্র মৌল্লবাদী দল। নোবেলজয়ী ইউনুসকে সাময়িক একটা মুখ করা হলেও নির্বাচন পরবর্তী মুখগুলো কী হবে সেটাই ভাবার। সব থেকে বড় কথা, যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে যা হাসিনার জমানায় হয়নি তা কি এই আবহে সম্ভব? যদি জামাতি/বিএনপির বিরোধী আওয়ামি লীগকে ধরে নিই, এবার তো সেই আওয়ামী লীগ হাওয়া হয়ে যাবে। ফলে সকলে হয়ত ভোট দেবেন -কিন্তু ফল যে ঠিক হয়েই আছে। আর সেই মৌলবাদমদতপুষ্ট সরকার আর যাই করুক দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করতে পারবে না এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। যারা নতুন করে স্বাধীনতা পেয়েছি বলে ৭১ এর পাওয়া স্বাধীনতার সব কিছু মুছে দিতে ব্যস্ত তারা আর যাই হোক স্বাধীনতার মানে বোঝে না এটুকু বলা যায়!
প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারত যে এই পরিবর্তনে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে এই আন্দোলনের বহু আগে থেকেই ভারত-বিরোধী হাওয়া বাংলাদেশে ছিল। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত বিরোধিতা গত কয়েক বছর ধরে ক্রমশই বাড়ছে। জনগণের সেই মতামত নতুন সরকারে কিছুটা হলেও প্রতিফলিত হবে। তবে নতুন এই ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিবিদরা মানিয়ে নেবেন এবং সেই মতো ব্যবস্থা নেবেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাই আপাতভাবে এই পরিবর্তনে আশঙ্কা থাকলেও হয়ত সেই অর্থে ততটা আশঙ্কার নয় যতদিন আমরা ভারতীয়রা নিজেরা নিজেদের ভালটুকু বুঝব! সেইখানেও যদিও আশঙ্কা আছেই কেন্দ্রে/রাজ্যের ধর্ম-অনিরপেক্ষ দলগুলির নির্লজ্জতা দেখে!
আর সব শেষ বলব, সামনের নির্বাচনে যেই আসুক ক্ষমতায়, তার পরের নির্বাচনে তাকে পালটে ফেলবেন। আমরা দুই বাংলাতেই এক দলকেই দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় বসিয়ে তাদের স্বেচ্ছাচারী করে তুলি – সেটা আমাদের দোষ। আমি নিশ্চিত, হাসিনা যখন এবার ক্ষমতায় এসেছিলেন অনেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সময় কেউ আজকের দিনের কথা কল্পনা করতে পারেননি, আজকের এই পরিবর্তনের সময়েও অনেকে হয়ত স্বপ্ন দেখছেন একইভাবে। এই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতি পাঁচ বছরে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে শাসকদল পাল্টান তাহলে অন্তত কোন ক্ষমতালোভী, স্বৈরাচারী ও স্বেচ্ছাচারী নেতা তৈরি হবে না – যাকে পাল্টাতে গিয়ে নিজের প্রিয় দেশকেই জ্বালিয়ে ফেলতে হবে!
(এই মতামত আমার ব্যক্তিগত, সববাংলায়-এর মত নয়)
(লেখার সময়কাল – ৬ আগস্ট মধ্যরাত্রি)
বাংলাদেশের বর্তমান যা অবস্থা তাতে এত ঢাক ঢোল পিটিয়ে মহম্মদ ইউনূস কে অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের যে প্রধানমন্ত্রী করা হল তার স্থায়িত্ব কদিন থাকে সেই বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এত ভদ্র এত উচ্চশিক্ষিত মানুষ কে প্রধানমন্ত্রী করার অর্থ হয় তাঁকে কাঠের পুতুল করে রেখে নেপথ্যে সেনা দেশ শাসন করবে আর নাহয় বিশ্বের কাছে eye wash করা প্রাথমিকভাবে যে আমরা হাসিনার মত রক্ত পিপাসু পিশাচের থেকে মুক্তি চেয়ে একজন প্রকৃত মানব দরদী মানুষের অধীনে থাকতে চাই এবং পরে মাস তিনেকের মধ্যে নির্বাচন ডেকে ওনাকে হারিয়ে অথবা প্রার্থী না করে কিংবা ওনাকে দিয়ে বলিয়ে আমি প্রার্থী হতে চাইনা এ জাতীয় কিছু করে কোন ভারত বিরোধী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী করা। যে আন্দোলন সংরক্ষণের বিরোধিতা থেকে শুরু হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বাস নিয়ে প্রকাশ্যে নাচানাচি হয়ে বাংলাদেশের রুপকারের মূর্তি জেসিবি দিয়ে ভাঙা তে শেষ হয় সেই আন্দোলনের ড্রাইভিং সিটে শিক্ষিত ছাত্র ছাত্রী আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। নতুন স্বাধীনতা বা দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের যে নমুনা দেখলাম তাতে আগামীদিনে বাংলাদেশ নিজেকে বিশ্ব মঞ্চে কি প্রমাণ করতে চাইছে সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহে আছি। বাংলাদেশের এই নৈরাজ্যের পেছনে চৈনিক ইন্ধন নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দাদের যে ধারণা খবরে শুনছি তা খুব একটা অমূলক বলে মনে হয়না আমার। এর আগে ২০২২ এ শ্রীলঙ্কায় মাহিন্দা রাজাপক্ষে সরকারকে সরিয়ে তাঁর বাসভবনে ঢুকে ঠিক এভাবেই লুঠপাট চালায় শ্রীলঙ্কান জনগণ। খেয়াল করুন শ্রীলঙ্কার ওপরেও চীনের মারাত্মক প্রভাব রয়েছে। হাসিনা সরকারের স্বেচ্ছাচারী একনায়ক মনোভাব এবং দেশের জনগণকে গায়ের জোরে দমিয়ে রাখার চেষ্টা বাংলাদেশী জনগণকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছিল এমনকি মুহম্মদ ইউনূসকে গরীবের রক্ত শোষণকারী বলে দেগে দিয়ে তাঁকে জেলে ভরে দেওয়ার চেষ্টা , হাসিনা সরকার যে ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছিল সেটা স্পষ্ট। পশ্চিম বাংলার রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথা এক্ষেত্রে আমার মনে পড়ছে তুলনামূলক আলোচনায়। কিন্তু নন্দীগ্রাম আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে এবং তার ফলাফল নিয়ে আজ দিকে দিকে যে সন্দেহ ও সংশয়ের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তেমন হবে না তো? শিক্ষিত ছাত্র থেকে অসভ্য লুম্পেনে রূপান্তর হওয়ার এই প্রক্রিয়া কেন কেবল শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশেই দেখা গেল? লিবিয়াতেও তো গদ্দাফির অত্যাচারে অতিষ্ট জনগণ গদ্দাফির পতন ঘটায় কিন্তু দেখেছি কেউ আমরা জনগণ সেখানে গদ্দাফির প্রাসাদে ঢুকে সোনার কমোড কে কালিমালিপ্ত করে আসছে? দেখিনি কারণ চিন এবং পাকিস্তানি আই এস আই এর কোন মাথাব্যথা ছিলনা লিবিয়া নিয়ে। ফলত সেই আন্দোলন কখনোই স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন থেকে হাইজ্যাক হয়ে তৈমুর লং বা নাদির শাহ বা চেঙ্গিস খান সুলভ ধ্বংসলীলায় পর্যবসিত হয়নি। হাসিনাকে পছন্দ নয়, বুঝলাম। কিন্তু পর্যটক ভর্তি আস্ত একটা হোটেলে আগুন লাগিয়ে চব্বিশ জনকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে কি প্রমাণ হল তাও আবার হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর? পুণ্যের আগুনে পাপের প্রায়শ্চিত্ত?
চিনের প্রভাব নিয়ে বেশি বললাম যে এটা এখন স্পন্সরড রেভলিউশুন কারণ পাকিস্তানের প্রভাব নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এইভাবে coup d’état এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটানো পাকিস্তানের ঐতিহ্যের মধ্যেই পড়ে। বাংলাদেশ গঠনের আগের ইতিহাস তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। সুতরাং বাংলাদেশী জনতা কি চায় মানে সত্যিকারের কি ধরনের শাসন চায় তা বুঝতে এখনো মাস ছয়েক অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।
প্রসঙ্গ বাংলাদেশ
হেফাজতিরা সালিফা পন্থার অনুসারী। এই সম্প্রদায় শান্তিপ্রিয় হিসেবে যথেষ্ট পরিচিত। দেওবন্দি ইসলামি মুসলিমরা সালিফা।মহত্মা গান্ধির সংগে খিলাফত আন্দোলন পর্বে এঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছিল।
বাংলাদেশের হেফাজতিরা যে সঠিক সালিফা মুসলিমদের আদর্শ মেনে চলে, এমন নয়।অশান্তিতে অভ্যস্ত মৌলবাদের দিকে তাদের একটা প্রবণতা বিভিন্ন পর্বে দেখা গিয়েছে।তবুও কট্টর মৌলবাদী জামাতিদের হাত থেকে খানিকটা চাপ মুক্ত হতে হাসিনা একটি পর্বে হেফাজতিদের বহু কনসেশন দিয়েছেন,যা পরে ব্যুমেরাং হয়েছে।আবার হাসিনার এই সমঝোতার বিরুদ্ধে অতি বামপন্থীদের একটি অংশ বিভিন্ন ব্লগে এবং সামাজিক সংবামাধ্যমে এমন তীব্র আক্রমণ করে যে শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের একটা বড় অংশের মধ্যে হাসিনা বিদ্বেষ বেড়ে যায় অনেকটাই।এটা পরোক্ষে হাসিনা ও তার দলের বিরুদ্ধে সম্প্রদায় নির্বিশেষে বিদ্বেষ বিষ তীব্র করতে সাহায্য করে। এর ফলে দক্ষিণপন্থার তাবৎ রাজনৈতিক অংশের পাকা শিকারীরা দেশি-বিদেশি নানা মুরুব্বির সহায়তায় অতি ধূর্ত এক প্রকল্পকারের অভিপ্রায়কে বাস্তব করে তোলে।এই খেলায় জামাতিদের কাছে প্রথম লপ্তে হেফাজতিরা পিছিয়ে পড়লেও শেষ পাতে তারাও তাদের কিঞ্চিৎ অধিকার জাহির করার সুযোগ পায়। অতিবামেরা এখন হেফাজতি,জামাতির সংগে হাসিনাকেও তুল্যমূল্যে দেখিয়ে তাদের আঁতেলুকচুয়ালেটির পরাকাষ্ঠা প্রকাশ করছে।
আমার মতে, সাধারণ অর্থে ধর্মের মধ্যেই যাবতীয় অধর্মের(অন্যায় অর্থে)বীজ লুকিয়ে থাকে।যার যখন যে বীজ দরকার সে তখন সেই বীজটি সংগ্রহ করে।পন্থা কার্যতই যখন আদর্শচ্যুত হয় তখন সেটাও হয়ে ওঠে একটি ধর্মের মতো(মৌলবাদ অর্থে)! ব্যাপক অর্থে বামপন্থা, আর একটু নির্দিষ্ট করলে, কমিউনিস্টদের কিছু কিছু অংশের গতিও এমন হয়েছে।ফলে অতি দক্ষিণ আর অতি বামে ফাড়াক অতি ক্ষীণ হচ্ছে।
আমার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতটি সাম্প্রতিক বাংলাদেশ হলেও, এই দেশের কংগ্রেস ও সমস্ত ধারার বাম ও গণতন্ত্রীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে বলে আমি অনুভব করছি।দলীয় আদর্শের নিবিড় চর্চার মধ্য দিয়ে বিচ্যুতি এড়ানো সম্ভব।
লিখেছেন – রতন চক্রবর্তী।
(লেখার সময়কাল – ১১ আগস্ট বিকাল)
প্রত্যেক দেশেই শান্তিপ্রিয়, ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল মানুষের মতামত অবহেলিত হয়। তারা চায় এক কিন্তু উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে তাদের সংখ্যাশক্তি নিয়ে খেলা হয়। বাংলাদেশের বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবোধ বিকাশ পায়নি। একের পরে এক মুক্তোমনাদের হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ার জন্য পূর্বতন সরকার ভীষণ দায়ী। তারা প্রগতিশীল দের স্বাভাবিক বিকাশ হতে দেয়নি। আর ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার লোকজনের কথা কেউ নেয় নি।
‘যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। ’ -সুনানে আবু দাউদ : ৫১২৩
‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য। ’ -সূরা কাফিরুন : ৫, আল কুরআন।
এই পরিস্থিতির শিকার বাংলাদেশ। সাথে অর্থনৈতিক বাজার দখলের লড়াই। ভারতের বাজার কমানোর চেষ্টা। সব মিলিয়ে উপমহাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রশ্ন চিহ্নে । আমার ইন্দিরা গান্ধীর পররাষ্ট্র নীতির কথা খুব মনে পড়ছে। সুস্থ হও বাংলাদেশ।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
