সববাংলায়

অয়নের প্রবন্ধ ।। সম্পর্ক : মাধ্যমিকে স্টার ও জীবন

বিভাগঃ

মাধ্যমিক

অয়ন মৈত্র


সেই সমস্ত ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে যারা এ বছর মাধ্যমিক দিয়েছিলেমাধ্যমিক। এস.আই পদ্ধতিতে টেনশনের একক। প্রথম পেট গুড়গুড় অনুভূতির মাধ্যমিক পরীক্ষাটা আসলে পরীক্ষা নয়। এটা একটা মঞ্চ যেখানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করলে লোকে পাত্তা দেয়। এটা পাহাড়ের সেই জায়গাটা যেখানে দাঁড়িয়ে নাচলে খাদে পড়ে কিনা এটা ভেবে লোকে নাচটা দ্যাখে। ফার্স্ট বয় কিংবা ফার্স্ট গার্ল এর সাথে সেই প্রথমবার দূরত্বটা ঘুঁচিয়ে নেওয়া যায় মাধ্যমিকে ষ্টার পেলে। ফল বেরোলে ওই অনির্বান কিংবা ভাস্বতীর সাথে যে অনন্ত দূরত্ব সেটা কমে কিলোমিটার-এ চলে আসে। বয়স বাড়লে বুঝতে পারি আমরা, এই পরীক্ষাটা আসলে এভারেস্টে ওঠার মত। ওঠার পর কাগজে টাগজে নাম বেরোয়, সাক্ষাৎকার ও নেয় কেউ কেউ। কিন্তু তারপরও বোনের বিয়ের টাকার জোগাড়ে তরাই থেকে আনুভূমিক সমস্ত তলেই ঘুরে রাত এগারোটায় বাড়ি ফিরতে হয়। একটা সরকারি চাকরির অভাব বেস ক্যাম্পের তাঁবুর থেকেও বেশি জরুরি মনে হয়।

মাধ্যমিকে ষ্টার আসলে জীবন গড়ে দেয়না। ওই পঁচাত্তর শতাংশ, কাউকে জীবনের সড়কপথে বাসস্ট্যান্ড দেখে নামিয়ে দেয়না।হাঁটতে বেরোলে বোঝা যায় মাঝরাস্তা কতটা চওড়া হয়।তবু জীবনে ওই স্টারের গুরুত্বটা অনেক।বাবাকে বাজারে লোকে আলাদা করে ডেকে কথা বলে। মা মামারবাড়িতে গেলে এখন আর যাই যাই করে না। লোকে তো একবার হলেও বলে ও এভারেস্টে উঠেছিল… জানিস। প্রথমবার শৃঙ্গ জয়ে কেমন লাগে তা একমাত্র যারা শৃঙ্গ জয় করেছে, তারাই জানে।


 


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।