সববাংলায়

অর্জুনের নাম তাপত্য হল কিভাবে

দ্রৌপদীর স্বয়ংবরে যাবার পথে পাণ্ডবদের সাথে এক গন্ধর্বের ঝামেলা বাধে। তাদের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যায় এবং অর্জুন সেই যুদ্ধে জেতেন। সেই গন্ধর্ব  অর্জুনকে  তাপত্য বলে সম্বোধন করেন। তাপত্য মানে তপতীর বংশধর। কিন্তু অর্জুনের নাম তাপত্য হল কিভাবে? গন্ধর্বকে এই প্রশ্ন করলে সে অর্জুনদের একটি কাহিনী শোনায়।

একদিন যযাতিরই এক বংশধর রাজা সংবরণ বনে মৃগয়া করতে এসেছিলেন। সেখানে একজন নারীকে দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করবার আগেই সে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তাকে এক মুহূর্ত দেখে রাজা ভাবলেন কোনো সোনার প্রতিমা বোধহয় বনকে আলোকিত করে রেখেছে। কিন্তু এক ঝলক দেখার পরই যখন সেই নারী অদৃশ্য হয়ে গেলেন, রাজার মনে খুব দুঃখ হল। রাজা তার এক ঝলকেই যে তার প্রেমে পড়ে গেছেন, হঠাৎ এভাবে যদি তাকে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে কি হবে! এমনিতেই খিদে আর পিপাসায় তিনি কাহিল ছিলেন, সঙ্গে এই ভাবনা তাকে আরো কাহিল করে দিল। তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন। আর কিছুক্ষণ পরে সেই নারী এসে মধুর স্বরে তাকে ডেকে তুললেন। রাজা তাকে বিয়ে করতে চাইলেন। তখন সেই নারী জানালেন তিনি তপতী, সূর্যের কন্যা। যদি তার পিতার ইচ্ছা হয়, তাহলেই তিনি রাজাকে বিয়ে করতে পারবেন।

রাজা তখন ঋষি বশিষ্ঠকে অনুরোধ করলেন তার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে। তারপর ঋষি বশিষ্ঠের মধ্যস্থতায় রাজা সংবরণের সাথে সূর্যকন্যা তপতীর বিয়ে হয়। তাদের সন্তান হল কুরু। তাই তপতীর বংশে জন্মানোর জন্য অর্জুনকে সেই গন্ধর্ব তাপত্য বলে সম্বোধন করে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. মহাভারত সারানুবাদ” রাজশেখর বসু
  2. “মহাভারতের ভারতযুদ্ধ ও কৃষ্ণ”, আনন্দ পাবলিশার্স, সপ্তম মুদ্রণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading