সববাংলায়

মুলোষষ্ঠী ব্রত

বাঙালিরা বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন ব্রত করে থাকে। অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীর দিন মুলোষষ্ঠী পালিত হয়। জেনে নেওয়া যাক মুলোষষ্ঠী ব্রতের পেছনে প্রচলিত কাহিনী।

২০২৫ সালের মুলোষষ্ঠী কবে?

  • বাংলা তারিখ: ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২
  • ইংরাজি তারিখ: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

এক দেশে এক বামুন তার ছেলে বউ নিয়ে বাস করত।  তাদের অবস্থা মোটামুটি ভালো ছিল। তাদের বাড়িতে অনেক কাজের লোক ছিল। বাড়ির কর্তার একদিন মাংস খেতে ইচ্ছা করলে সে বাজার থেকে হরিণের মাংস নিয়ে এল। বৌমা তা নিয়ে রান্না করতে গেল। রান্না হয়ে গেলে তার স্বাদ কেমন হয়েছে তা জানতে বৌমা মাংসের ঝোল কাজের মেয়েটাকে একটু চাখতে দিল। নুন ,ঝাল সব ঠিক আছে কিনা তা চাখতে চাখতে কাজের মেয়েটি সব মাংস খেয়ে ফেলল। তাই দেখে বৌমার তো মাথায় হাত। সে কাজের মেয়েটিকে বলল,  “সব মাংস খেয়ে ফেললি, শ্বশুরমশাই এলে আমি কি খেতে দেব? যেখান থেকে পারিস হরিণের মাংস কিনে আন।”

মুলোষষ্ঠী ব্রত | সববাংলায়
ব্রতকথাটি ভিডিও আকারে দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ঝি আর কি করে সে বাজারে ছুটল মাংস আনতে। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মাংস আর পেল না। শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেখল বাগানে একটা মরা বাছুর পড়ে আছে। তার থেকে বেশ খানিকটা মাংস কেটে ধুয়ে সে বউকে দিল। বৌমা ভালো করে রান্না করতে লাগল কিন্তু মাংস সিদ্ধ আর হয় না। বৌমা তখন ঝিকে ডেকে জিজ্ঞেস করল,  “কিরে এটা কিসের মাংস নিয়ে এসেছিস?  দুঘন্টা ধরে সিদ্ধ হয় না।”
ঝি উত্তর দিল না, ভয়ে চুপ করে রইল। এইদিকে সময় গড়িয়ে যায়, মাংস আর সিদ্ধ হয় না। বাড়ির কর্তার খাবার সময় হয়ে গেল। সে এসে বৌমাকে জিজ্ঞেস করল “বৌমা রান্না হল?”
বৌমা রান্নাঘর থেকে উত্তর দিল, “এই হচ্ছে বাবা!”

এদিকে বৌমা তো ভয়েই মরে। শেষে একটা ফন্দি সে বার করল। সে ঝিকে ডেকে বলল, “তুই রান্না ঘরে তেল আর জল ঢেলে রাখবি ,আমি রান্না ঘরে পা পিছলে পড়ে যাব আর তুই আমার মাথায় মুখে ঘড়া ঘড়া জল ছিটোবি তাহলে সব খাবার নষ্ট হয়ে যাবে।”

ওই দিকে দুম করে পড়ে যাবার শব্দে সবাই রান্না ঘরে ছুটে গেল, আর বৌমার কথামত ঝি তার মাথায় এমন জল ছিটে দিল যে সব খাবার নষ্ট হয়ে গেল।  সেই দিন আর কারোর খাবার জুটল না। বউ তারপর তার স্বামীকে সব খুলে বলল, আর ঝিকে জিজ্ঞেস করল, “কোথা থেকে এই মাংস নিয়ে এসেছিস তা দাদাবাবুকে দেখা।”

ঝি আর কি করে সে মরা বাছুর কে দেখাল। তা দেখে বামুনের ছেলে তো অবাক। সে এসে বউকে সব বলল। বউ ঝিকে খুব কথা শোনাল। তারপর এই পাপ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজতে থাকল। সেইদিন ছিল অগ্রহায়ণ মাসের ষষ্ঠী। বৌমা মুলো, কলা, পান, তেল, হলুদ দিয়ে মা ষষ্ঠীর পুজো করে সেই পুজোর ফুল মরা বাছুরের উপর দিয়ে দিল। কি অবাক কান্ড! সেই মরা বাছুর বেঁচে উঠল। আর তা দেখে চারিদিকে ধন্য ধন্য পরে গেল। বাড়ির কর্তা সব শুনে অবাক হয়ে গেল। তারপর বৌমা খুব ঘটা করে মা ষষ্ঠীর পুজো করল। আর সবাইকে বলল যে অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লা ষষ্ঠীর দিন যে মাছ মাংস খাবে তার গো-মাংস খাবার পাপ হবে। সেই দিন মা ষষ্ঠীর পুজো করে প্রথমে মুলোর তরকারি মুখে দিতে হবে ,তারপর অন্য কিছু খাওয়া যাবে। এই ব্রত মুলোষষ্ঠী নামে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।

আজকের দিনে

ইতু পূজা ব্রত দূর্বাষ্টমী ব্রত

সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ আশুতোষ মজুমদার, প্রকাশকঃ অরুণ মজুমদার, দেব সাহিত্য কুটির, পৃষ্ঠা ৪০
  2. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সম্পাদিত ও রমা দেবী কর্তৃক সংশোধিত, প্রকাশকঃ নির্মল কুমার সাহা, দেব সাহিত্য কুটির, পৃষ্ঠা ১৫৮

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading