সববাংলায়

দূর্বাষ্টমী ব্রত

বিভাগঃ ,

ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে দূর্বাষ্টমী ব্রত পালন করা হয়।  বলা হয় এই ব্রত পালন করলে তার বংশের কারোর জন্য শোক পালন করতে হয় না। জেনে নেওয়া যাক এই ব্রতের পেছনে প্রচলিত কাহিনী।

২০২৫ সালের দূর্বাষ্টমী ব্রত কবে?

  • বাংলা তারিখ: ১৪ ভাদ্র, ১৪৩২
  • ইংরাজি তারিখ: ৩১ আগস্ট, ২০২৫

ধর্মরাজ যুধিষ্টি একদিন শ্রী কৃষ্ণকে জিগেস করলেন,হে কৃষ্ণ পৃথিবীতে কি এমন ব্রত আছে যা পালন করলে নিজের বংশনাশ থেকে রক্ষে পাওয়া যায়।শ্রী কৃষ্ণ তখন বললেন, হে যুধিষ্টি দূর্বাষ্টমী নামে এক ব্রত আছে।যে নারী এই দূর্বাষ্টমী ব্রত পালন করে থাকে দুর্বার ন্যায় তার বংশ বৃদ্ধি হয়ে থাকে,তার কখনও বংশনাশ হয় না বা বংশের কারও জন্য শোক পালন করতে হয় না।কৃষ্ণ বলেন সাগরমন্থন এর সময় যে অমৃত উঠেছিলো তা নিয়ে অসুর ও দেবতাদের মধ্যে মারামারির সময় তা দুর্বার উপর পরে যায় তাই দূর্বা এই জগতে এত পবিত্র ও অমর। কৃষ্ণ আরও বলেন,”হে দুর্বা জগতে তুমি অমৃত তুল্য, সব দেবতাদের পূজনীয়।তুমি যেমন এই ধরণীতে নিজের শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আছো তেমনই আমিও যেন আমার পুত্র কন্যা সবাইকে নিয়ে দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারি।হে দুর্বা আমাকে আশীর্বাদ করো।” এই বলে ভক্তি সহকারে দূর্বা পূজা করতে হয়।

প্রাচীনকাল থেকে সব দেবী ,মুনি সবাই এই দূর্বাপূজা তথা দূর্বাষ্টমী ব্রত পালন করে আসছে। পুরানে বর্ণিত আছে দুর্বার জন্ম ভগবান বিষ্ণুর হাত ও উরুর লোম থেকে। সমুদ্র মন্থনে তিনি মন্দর পর্বতকে সাহায্য করেছিলেন, সেই সময় গিরি ঘর্ষণে তার লোমরাশি খসে গিয়ে সাগরের জলে ভাসতে ভাসতে সাগরের তীরে এসে উপস্থিত হয় কিছু সময় পর তা হলুদ রং ধারণ করে খুব সুন্দর দুর্বার পরিণত হয়। দূর্বাকে পবিত্র মানার আরেকটি কারণ বলা হয় দুর্বার গোড়ায় থাকে স্বয়ং ব্রহ্মা, দুর্বার মধ্যে থাকে বিষ্ণু আর অগ্রভাগে থাকে মহেশ্বর। তাই দূর্বা দীর্ঘ জীবন ও উন্নতির প্রতীক। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণঅষ্টমীকে দুর্বাষ্টমী হিসাবে পালন করা হয়।তাই এই দিনে দীর্ঘায়ু পাবার আসায় দুর্বার অগ্রভাগ পূর্বমুখী করে ভগবানকে উৎসর্গ করা হয়।

আজকের দিনে

মুলোষষ্ঠী ব্রত নাটাই চন্ডী ব্রত

সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সম্পাদিত ও রমা দেবী কর্তৃক সংশোধিত, প্রকাশকঃ নির্মল কুমার সাহা, দেব সাহিত্য কুটির, পৃষ্ঠা ৯৬
  2. http://debascollections.blogspot.com/2017/11/blog-post

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading