খেলা

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১ ছিল ক্রিকেট বিশ্বকাপের দশম আসর। এই বিশ্বকাপের আসর ১৯ ফেব্রুয়ারী থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের জন্য কোনও বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হয়। সর্বমোট ১৪ টি দেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিজয়ী হয় ভারত। এটি ছিল ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।

 এই বিশ্বকাপের সহ-ব্যবস্থাপক দেশ হিসেবে পাকিস্তানকেও নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে পাকিস্তানের লাহোরে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের ওপর হামলার জেরে পাকিস্তানকে সহ-ব্যবস্থাপকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাবস্থাপক কমিটির সদর দপ্তর লাহোর থেকে মুম্বাইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়। পাকিস্তানে মোট ১৪ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই ম্যাচগুলি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এর ফলে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ যথাক্রমে ৮ টি, ৪ টি ও ২ টি করে অতিরিক্ত ম্যাচ ব্যাবস্থাপনার দায়িত্ব পায়।

১৪ টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়।  প্রথম গ্রুপে ছিল পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবয়ে, কানাডা ও কেনিয়া। দ্বিতীয় গ্রুপে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড।

এই বিশ্বকাপে চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল, দুটি সেমিফাইনাল ও একটি ফাইনাল সমেত মোট ৪৯ টি ম্যাচ খেলা হয়েছিল।ভারতের ৮ টি, শ্রীলঙ্কার ৩ টি ও বাংলাদেশের ২ টি মিলিয়ে তিন উদ্যোক্তা দেশের মোট ১৩ টি ভিন্ন ভিন্ন ক্রিকেট মাঠে ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ইনিংস ছিল ৫০ ওভারের।
আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার 'বঙ্গবন্ধু ন্যাশানাল স্টেডিয়াম'-এ অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ টি ঢাকার মিরপুরের 'শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম'-এ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিজয়ী হয় ভারত। এই বিশ্বকাপে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনী। ফাইনাল ম্যাচটি মুম্বাইয়ের 'ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম'-এ ২০১১ সালের ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৮৩ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের ২৮ বছর পর এটি ছিল ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার ভারত ও শ্রীলঙ্কা - এই দুটি দেশ ফাইনালে পরস্পরের মুখোমুখি হয়।
ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কা টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের বোলিং-এর সামনে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ২৭৪ রান তোলে। এর জবাবে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.২ ওভারে ২৭৭ রান করে ম্যাচ জিতে যায়। এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান করেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়ববর্ধনে। তিনি ৮৮ বলে ১০৩ রান করেন। এই ম্যাচে সবচেয়ে ভাল বোলিং করেন শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। তিনি ৯ ওভার বল করে ৪২ রান দিয়ে ২ টি উইকেট নেন। ফাইনালের 'ম্যান অফ দ্য ম্যাচ' হন মহেন্দ্র সিং ধোনী।
এই বিশ্বকাপে ৯ টি ম্যাচে ৫০০ রান করে সবচেয়ে বেশি রান স্কোরারের শিরোপা পান শ্রীলঙ্কার তিলকরত্নে দিলশান ও ৮ টি ম্যাচে ২১ টি উইকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট টেকারের শিরোপা পান পাকিস্তানের শাহিদ আফ্রিদি।
এই বিশ্বকাপে প্রথম দুটি এশিয়ান দেশ ফাইনালে রস্পরের মুখোমুখি হয়। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ১৯৯২ -এর পর এই প্রথম কোন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া তার জায়গা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১-তেই ভারত প্রথম কোনও দেশ হিসেবে তার নিজের মাটিতেই বিশ্বকাপ জয় করতে সক্ষম হয়।
১৭৫ রান করে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান করেন ভারতের বীরেন্দ্র সহবাগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেমার রোয়াচ এক ইনিংসে সবচেয়ে ভাল বোলিং করেন। ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তিনি ৮.৩ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৬ টি উইকেট নেন। শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়বর্ধনে ৮ টি ম্যাচে ৮ টি ক্যাচ নিয়ে এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বল ক্যাচ করেন।
এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৩৭০ রান করে ভারত কোনও দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রান করেছিল। এই বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ৫৮ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ কোনও দেশ হিসেবে সবচেয়ে কম রান করেছিল। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১--এ 'ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট' শিরোপা প্রদান করা হয় ভারতের যুবরাজ সিং কে।
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!