সববাংলায়

২০২৪ সালের নোবেল বিজয়ীদের তালিকা

নোবেল পুরস্কারকে বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন মানুষ। সুইডিশ রসায়নবিদ ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের নামে এই পুরস্কারটি নামাঙ্কিত। ১৯০১ সাল থেকে অনন্য সাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক কাজের জন্য এই পুরস্কারটি প্রদান করে আসছে সুইডিশ আকাদেমি। উন্নতমানের গবেষণা, আবিষ্কার এবং মানবকল্যাণমূলক কাজকে এই পুরস্কার স্বীকৃতি জানায়। প্রথমদিকে মোট পাঁচটি বিষয় অর্থাৎ রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, সাহিত্য এবং শান্তি-র জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হত। কিন্তু ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবার জন্যও নোবেল দেওয়া শুরু হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় ‘দ্য সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকনমিক সায়েন্সেস ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল (The Sveriges Riksbank Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Noble)। কখনও একক ব্যাক্তি, কখনও দুজন যৌথভাবে আবার কখনও তিনজন ব্যাক্তি একত্রেও নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন। একাধিক ব্যাক্তি নোবেল পুরস্কার পেলে সেক্ষেত্রে পুরস্কারের প্রদত্ত অর্থ পরস্পরের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে যায়।

এখানে ২০২৪ সালের নোবেল বিজয়ীদের তালিকা ও কোন কৃতিত্বের জন্য তাঁরা নোবেল পেলেন তা উল্লেখ করা হল—

পদার্থবিদ্যায় নোবেল

২০২৪ সালে পদার্থবিদ্যায় আমেরিকার জন হপফিল্ড (John Hopfield) ও ব্রিটিশ-কানাডীয় জিওফ্রি হিন্টন (Geoffrey Hinton) — একত্রে নোবেল পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণার মূল বিষয় ছিল মেশিন লার্নিং। কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং সক্ষম করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক আবিষ্কারের জন্য এই পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে। এই আবিষ্কার মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ও তার দ্রুত উন্নতিতে দিশা দেখিয়েছে।

রসায়নবিদ্যায় নোবেল :- ২০২৪ সালে রসায়নবিজ্ঞানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড বেকার (David Baker), ইংল্যান্ডের ডেমিস হাস্সা‌বিস (Demis Hassabis) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন জাম্পার (John Jumper) একত্রে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। জীবনের প্রাথমিক রাসায়নিক যৌগ ‘প্রোটিন’ এর উপর গবেষণার জন্য উক্ত তিন বিজ্ঞানীকে রসায়নে নোবেল প্রদান করা হয়েছে। ডেভিড বেকার সম্পূর্ণ নতুন ধরণের প্রোটিন তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন। ডেমিস হাস্সা‌বিস ও জন জাম্পার ‘প্রোটিনের জটিল গঠনের পূর্বাভাস’ দিতে সমর্থ এমন একটি এ.আই. মডেল তৈরি করেছেন।

চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল :- ২০২৪ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আমেরিকার ভিক্টর অ্যাম্ব্রোস (Victor Ambros) এবং গ্যারি রুভকুন (Gary Ruvkun) নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁদেরকে মাইক্রো আর.এন.এ. ও পোস্ট-ট্রান্সক্রিপশনাল জিন নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা আবিষ্কারের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে।

সাহিত্যে নোবেল :- ২০২৪ সালে সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য নোবেল পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার হান কাং (Han Kang)। ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন ও অনুভূতিগুলোকে খুব তীক্ষ্ণ ও কাব্যিকভাবে তাঁর গদ্যলেখায় বর্ণনা করেছেন। হান কাং এশিয়ার প্রথম নারী, যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

নোবেল শান্তি পুরস্কার :- ২০২৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান নিহন হিদানকিয়ো (Nihon Hidankyo)। পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ও পারমানবিক অস্ত্র যাতে আর কোনদিন ব্যবহার করা না হয় সেই জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে নোবেল :- ২০২৪ সালে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নোবেল পেয়েছেন তুরস্কের ড্যারন অ্যাসেমোগলু (Daron Acemoglu), ইংল্যান্ডের সাইমন জনসন (Simon Johnson) এবং আমেরিকার জেমস এ রবিনসন (James Robinson)। প্রতিষ্ঠান কীভাবে গড়ে ওঠে ও দেশীয় সমৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকার উপর গবেষণার জন্য তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাঁদের গবেষণার ফলে এও বোঝা সম্ভব হয়েছে যে বিভিন্ন দেশের সমৃদ্ধির মধ্যে এত ব্যাপক পার্থক্য কেন।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading