ধর্ম

সূর্য এবং কুন্তীর মিলন ।। কর্ণের জন্ম

মহাভারত

সদ্য যৌবনে পা দিয়েছে কুন্তী। দুর্বাসা মুনি তাকে যে মন্ত্র দিয়ে গেছে, অন্তঃপুরে নিজের ঘরে শুয়ে সেই নিয়েই চিন্তা করছে সে। এই মন্ত্রে নাকি যে কোনও দেবতা আসবে তার কাছে, যাকে সে চাইবে কাছে পাবে তাকেই। পুরুষসঙ্গ সম্পর্কে অজানা কুমারী কুন্তীর মনে কৌতূহলের এক অন্য অনুভূতি। সেই অনুভূতি, সেই কৌতূহল থেকেই দুর্বাসার মন্ত্র পরীক্ষা করে দেখার ইচ্ছে জাগল তার। সেই ইচ্ছে থেকেই  সূর্য এবং কুন্তীর মিলন হয়,  কর্ণের জন্ম হয়।

তখন সূর্যের আলো জানলা দিয়ে তার ঘরে এসে পড়েছে। এসে পড়েছে তার গালে, কপালে। বেশ ভাল লাগছিল কুন্তীর। ভাবল দুর্বাসার মন্ত্রপরীক্ষার জন্য সূর্যদেবকে ডাকলে কেমন হয়! জানলার দিকে তাকিয়ে সে দেখল সূর্যের আলো, দেখল সূর্যের তেজ। মনে মনের মন্ত্রের মাধ্যমে কুন্তী তাঁকে স্মরণ করল। সশরীরে সূর্যদেব কুন্তীর কাছে এলেন।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

এতক্ষণ পুরোটাই ছিল কুন্তীর কল্পনায়, তার কৌতূহলে। কিন্তু এভাবে সত্যি সত্যি সূর্যদেবকে দেখে তার এতক্ষণের কৌতূহল উবে গিয়ে মনে এল ভয়। মনে পড়ে গেল নিজের কুমারিত্বের কথা। শুধুমাত্র কৌতূহলের বশেই সে ডেকে ফেলেছিল সূর্যদেবকে, তাই তাঁকে চলে যেতে বলল সে। কিন্তু সূর্যদেব যাবেন কেন? একজন মানবী শুধুমাত্র কৌতূহলবশত তাঁকে ডেকে এভাবে ফিরিয়ে দেবে, তা কি হয়? এ যে তাঁর অপমান। কুন্তীর গর্ভে এক তেজস্বী সন্তান না দিয়ে তিনি যাবেন কেন? সূর্যের চাপা রাগ কুন্তী টের পেল। নিজের ভুলের জন্য রাগ হল নিজের ওপর। কিন্তু  তার লজ্জা যে ভাঙে না, ভাঙে না তার ভয়। সূর্যদেব অনেক বোঝালেন তাকে, তাও কুন্তীর লজ্জা ভাঙল না। কুমারী কুন্তী সন্তান ধারণ করলে সমাজ তাকে কি বলবে? কোথায় যাবে তার পরিবারের সম্মান? কুন্তীকে সূর্যদেব বললেন তাঁর কাছে নিজেকে সঁপে দিতে। কুন্তী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েই রইল। তার মনে চিন্তারা ঘুরপাক খেতে থাকল। যদি সূর্যদেবের সাথে মিলন না হয় তার আর সূর্যদেবের ক্রোধে তার পরিবার ও মুনি দুর্বাসা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তাহলে তার জন্য দায়ী কে হবে? আর যদি সূর্যদেবের সাথে মিলিত হয় সে, তাহলে কুমারী অবস্থায় সন্তানধারণ করে সমাজে কলঙ্কিনী হওয়া একেবারে নিশ্চিত। কুন্তীর মন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে গেল।

সূর্যদেব তাঁর মনের কথা বুঝলেন। কুন্তীকে আশ্বাস দিয়ে বললেন, মিলনের পরেও কুন্তী নিজের কুমারিত্ব হারাবে না। সঙ্গে এও বললেন যে তাদের পুত্র হবে এক মহাবীর।এবার কুন্তী মুখ তুলে চাইল। কুন্তী জানে সূর্যদেবের সাথে তাঁর মিলনে যে সন্তান হবে, তাকে নিজের কাছে রাখতে পারবে না সে। নিজের কুমারিত্ব ফিরে পাওয়ার আশ্বাস সে পেয়েছে, এবার তার চাই হবু সন্তানের সুরক্ষা। সূর্যের কাছে প্রার্থনা করল তাদের সন্তান যেন সূর্যের অক্ষয় কবচ এবং কুণ্ডল নিয়ে জন্মায়। এবারেও সূর্যদেব আশ্বস্ত করলেন তাকে। আর কোনও উপায় না দেখে অগত্যা কুন্তী মিলিত হল সূর্যের সাথে।

গায়ে সোনার বর্ম, কানে সোনার কুণ্ডল নিয়ে সময়মত কুন্তীর পুত্র জন্মাল। বেতের একটি বাক্সে ভালো করে মোমের প্রলেপ লাগাল কুন্তী। শেষবারের মত তার শিশুসন্তানটিকে বুকে তুলে নিল। তারপর সেই বাক্সে রেখে বাক্সটি ভাসিয়ে দিল অশ্বনদীর জলে। সূর্যদেবের সাথে কুন্তীর মিলনে জন্ম নিল এই যে শিশুটি, সেই হল মহাবীর কর্ণ।

তথ্যসূত্র


  1. "মহাভারত সারানুবাদ", দেবালয় লাইব্রেরী(প্রকাশক সৌরভ দে, তৃতীয় প্রকাশ) - রাজশেখর বসু, আদিপর্ব (১৯। গান্ধারী, কুন্তী ও মাদ্রী- কর্ণ - দুর্যোধনাদির জন্ম) পৃষ্ঠাঃ ৪৩-৪৪
  2. "কৃষ্ণা, কুন্তী ও কৌন্তেয়", আনন্দ পাবলিশার্স, নবম মুদ্রণ - নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, অধ্যায়ঃ কুন্তী, পৃষ্ঠাঃ ২৪-২৮

 
2 Comments

2 Comments

  1. Pingback: বৃষসেন | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রতকথা নিয়ে জানতে


মনোরথ দ্বিতীয়া

ছবিতে ক্লিক করুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন