বিজ্ঞান

ব্রুকেশিয়া – পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম গিরগিটি

২০১২ সালে বিজ্ঞানী ‘ফ্রাঙ্ক গ্ল’ (Frank Glaw)-এর নেতৃত্বে  আফ্রিকার ম্যাডাগাস্কারের নোসিহারা দ্বীপপুঞ্জে  ‘বেভারিয়ান স্টেট কালেকশান অফ জুওলজি’ যে অভিযান চালায়, সেই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ম্যাডাগাস্কারের প্রানীজগতের মধ্যেকার বৈচিত্র্য ও নতুন প্রজাতির অনুসন্ধান। ২০১২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারির তৃতীয় অভিযানে, ম্যাডাগাস্কারকে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ কালেই বিজ্ঞানীদলের নজরে এল এক অদ্ভুত গিরগিটি প্রজাতি। বিজ্ঞান পেল এক নতুন অতিথিকে, এক ক্ষুদ্রতম গিরগিটি প্রজাতি যার নাম “ব্রুকেশিয়া”।

২০০৭সালে ফ্রাঙ্ক গ্ল-এর নেতৃত্বে বিজ্ঞানী দল ব্রুকেশিয়া (Brookesia) প্রজাতির অনুসন্ধান পেলেও এই ক্ষুদ্রতম গিরগিটির সন্ধান পেতে তাদের  বছর লেগে যায়। ২০১২ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি খবরটি প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথেই বিজ্ঞা্নীমহল উদগ্রীব হয়ে ওঠে এই প্রজাতিকে নিয়ে। সকলের অগোচরে ম্যাডাগাস্কারের নোসিহারা দ্বীপপুঞ্জেই বহু বহুশতাব্দী ধরে এই ক্ষুদ্রতম ব্রুকেশিয়া গিরগিটির বাস। এই গিরগিটি প্রজাতির বিজ্ঞানসম্মত নাম “ব্রুকেশিয়া মাইক্রা” (Brookesia micra)। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম সরীসৃপ। গিরগিটির ২০২টি প্রজাতির মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোট। চ্যামেলিওনাইডি (Chamaleonidae) পরিবারের এই গিরগিটি প্রজাতিটির পুরুষরা আকারে ১৬ মিলিমিটার (০.৬৩ ইঞ্চি) এবং বয়স্ক গিরগিটিরা আকারে ২৯ মিলিমিটারের (১.১ ইঞ্চি) হয়ে থাকে। এদের জীবনকাল ৩ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এদের দেহের তুলনায় চোখের আকৃতি তুলনামূলক ভাবে বড়ো হয়। বয়স্ক ব্রুকেসিয়া গিরগিটির লেজের অংশটি কমলা রঙের হয়ে থাকে । এই ব্রুকেশিয়া প্রজাতি আবার তিন রকমের হয়ে থাকে। ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে নোসিহারা দ্বীপপুঞ্জ ও উত্তর ম্যাডাগাস্কারে ব্রুকেশিয়া পরিবারের ৩টি ভিন্ন প্রজাতির খোঁজ মেলে।যার মধ্যে ‘ব্রুকেসিয়া মিনিমা’ (Brookesia Minima) অন্যতম। রাত্রির গভীর আঁধারে বিজ্ঞানী দলের পর্যবেক্ষণে ধরে পড়ে মাটি থেকে মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় গাছের পাতার আড়ালে এদের ঘুমন্ত অবস্থার দৃশ্য। কারণ এরা অন্যান্য চ্যামেলিয়নের মতো নিশিযাপন করেনা। ব্রুকেশিয়া মাইক্রা সহ ব্রুকেশিয়া পরিবারের ৩টি প্রজাতিই কেবল সূর্যালোকেই সক্রিয় থাকে। এরা আকৃতিতে এতোটাই ছোটো যে খালি চোখে এদের খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আকৃতিতে মানুষের আঙ্গুলের নখের অগ্রভাগের অংশের চেয়েও ক্ষুদ্রাকৃতির বা বলা যেতে পারে দেশলাইয়ের আগ্রভাগে থাকা বারুদ অংশের সমান।

এদের ক্ষুদ্রাকৃতি দেহে অতিক্ষুদ্রাকৃতি ভাটিব্রার অবস্থান বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে।তবে অতিক্ষুদ্রাকৃতি ভাটিব্রার দিক থেকে angler fish- এর পরেইএই ব্রুকেশিয়া গিরগিটিরস্থান। এদের এই ক্ষুদ্রাকৃতি দেহের রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের হাতে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত তথ্য। পরিবেশের চরিত্র বদলের সাথে সাথে এরাও এদের গঠন পাল্টে নিয়েছে। নোসিহারা দ্বীপপুঞ্জের গভীর অরণ্যে খাদ্যের অভাব থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এরা আকৃতির পরিবর্তন করে ক্রমশ ক্ষুদ্রাকৃতি ধারন করেছে। কারণ শরীরের আকার বৃহৎ হলেই বেশী পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হবে। সেই খাদ্যের প্রয়োজনকে কম করতে গিয়েই এরা বিবর্তিত হয়ে দেহের আকার পালটে নিয়েছে। বর্তমানে ম্যাডাগাস্কারের ভূমিতে যে ভাবে গাছ কাটা চলছে তাতে এই ক্ষুদ্র প্রজাতিরা সত্যিই সংকটের সম্মুখীন। বিজ্ঞানীদের নানাভাবে এই বৈচিত্রে পরিপূর্ণ ম্যাডাগাস্কারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

তথ্যসূত্র


  1. (14february 2012) “world’s tiniest chameleon discovered”- LIVE SCIENCE.  
  2. (14february 2012 “world tiniest chameleons found in Madagascar” ) -WIRED
  3. https://www.arkive.org/leaf-chameleon
  4. just funfacts.com 

 
Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

রচনাপাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান?



এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন